কাশীপুরের সোনাইজুড়ি এলাকার তিলকা মুর্মু হাইস্কুলের ছাত্র ঋজুরাজের পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে কাশীপুরের জেকেএম গার্লস হাইস্কুলে। তার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই পুরুলিয়া জেলা জুড়ে তথা রাজ্য জুড়ে যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছে। ঋজুরাজ জানায়, “বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই সাঁওতালি মাধ্যমে মাধ্যমিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাঁওতালি ভাষাকে আমি খুব ভালবাসি। শুধু মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসাই নয়, ভবিষ্যতে এই ভাষা নিয়ে গবেষণা করতে চাই। সাঁওতাল সমাজ আজও নানা দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে, আমি চাই এই ভাষার মাধ্যমেই তাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে। সে আরও জানায়, শুরুতে সাঁওতালি ভাষা রপ্ত করতে কিছুটা অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে সবকিছুই সহজ হয়ে যায়।”
advertisement
অন্যদিকে ঋজু রাজের বাবা সোনাইজুড়ি প্রাইমারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক কমল মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমার বেশিরভাগ বন্ধু-বান্ধবই আদিবাসী সমাজের মানুষ। সেই থেকেই সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি আমার আলাদা ভালবাসা তৈরি হয়। সেই ভালবাসাই আমি আমার ছেলের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করতে চেয়েছি।”
ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এমন মিলন আজকের দিনে নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক। ঋজুরাজের এই উদ্যোগ শুধু একটি পরীক্ষায় বসা নয়, বরং ভাষাগত সম্প্রীতি ও সামাজিক অগ্রগতির পথে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে অন্যদেরও।
শান্তনু দাস





