শুধুই মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব নয়, রানি ভিক্টোরিয়াও শীতলপাটির প্রেমে পড়েছিলেন। গ্রীষ্মের দাবদাহে দু'দণ্ড আরামের ঘুম দেয় শীতলপাটি। কোচবিহার জেলা লাগোয়া ধলুয়াবাড়ি এলাকায় বসবাস করেন বহু পাটি শিল্পী। এই পাটি তৈরিতে শুধু দক্ষতাই নয়, প্রয়োজন প্রচুর ধৈর্যের। এক একটি শিতল পাটি তৈরি করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে।
পাটি তৈরির জন্য প্রথমে প্রয়োজন কাঁচা বেত গাছের ডাল। সেই ডাল থেকে কাঁচা অবস্থাতেই ছাল ছাড়িয়ে নিতে হয়। তারপর সেই ছাল শুকিয়ে পাটি বোনা হয়। অনেকক্ষেত্রে সেই ডাল সেদ্ধ করে শুকোতে হয় সাদা হওয়া পর্যন্ত।
advertisement
এক একটি পাটি তৈরি করতে শিল্পীদের যে বিপুল পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়, সেই অনুযায়ী পর্যাপ্ত মুনাফা পান না তাঁরা। তাই এই প্রজন্ম আর ঝুঁকছেন না পাটি শিল্পে। জানা যায়, এক একটি পাটি তৈরি করতে খরচ হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং এই পাটিগুলি বাজারে পাইকারি বিক্রি করা হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দামে। এক-একটি পাটি থেকে শিল্পিরা পেয়ে থাকেন মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে বাজারের ব্যবসায়ীরা শীতলপাটি বিক্রি করেন ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে আরও চড়া দামে।
শীতলপাটি তৈরি করার উপযুক্ত বেত সবসময় পাওয়া যায় না। আর যদিও বা পাওয়া যায়, দাম অনেকটাই বেশি। তাই বেশি দামে বেত কিনে সেগুলি দিয়ে পাটি তৈরি করে লাভ করতে পারেন না শিল্পীরা। তাঁদের আবেদন সরকারি সহায়তার নাহলে হয়তো অচিরেই হারিয়ে যাবে গ্রাম বাংলার এই সনাতনী শিল্প।
Sarthak Pandit





