ছোট থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তার আলাদা টান ছিল। স্কুলের খাতার শেষ পাতায়, বাড়ির দেওয়ালে, পুরোনো কাগজে—সবখানেই ফুটে উঠত তার কল্পনা। পরিবারও তার এই আগ্রহকে উৎসাহ দিয়েছে। ধীরে ধীরে শখই পরিণত হয়েছে দক্ষতায়। এখন রং তুলি তার পরিচয়।
“আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন”
advertisement
নানা ধরনের ডিজাইন করে চলেছে সে। আর এই রং তুলিই তাকে এনে দিয়েছে খ্যাতি। এসেছে নানান সম্মান। শাড়ি থেকে শুরু করে পাঞ্জাবি, সব কিছুর উপর নিজের হাতে কারুকার্য করে প্রীতি। ফুটিয়ে তোলে ট্রেন্ডিং ও ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন। ফুল, পাখি, আলপনা, পৌরাণিক চরিত্র—সবই থাকে তার কাজে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজড ডিজাইনও করে। তার কাজের সমস্ত ভিডিও এবং ছবি সে নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করত। সেখান থেকেই বাড়তে থাকে পরিচিতি। রং তুলির নিখুঁত কারুকার্য দেখে তার কাছে অর্ডার আসতে শুরু করে।
প্রথমে স্থানীয়ভাবে, পরে জেলার বাইরে। এখন বাংলা ছাড়িয়ে পশ্চিম ভারতের নানা রাজ্য থেকেও অর্ডার আসে। এখন আর সে শুধু শাড়ি বা পাঞ্জাবির উপর ডিজাইন করে না। বিয়ের নানান সামগ্রীও নিজের হাতে সাজিয়ে তোলে। বিয়ের তত্ত্বের থালা, গিফট বক্স, নামফলক—সবেতেই থাকে তার শিল্পের ছোঁয়া। এগুলিরও ভাল চাহিদা রয়েছে বাজারে। এছাড়াও রেজিন দিয়ে তৈরি করছে নানা ধরনের জিনিস। রেজিন জুয়েলারি, নেমপ্লেট, কি-চেইন। প্রতিটি জিনিসেই থাকে সূক্ষ্ম কাজ। নিত্যদিন তার কাছে অর্ডার জমা পড়ছে। উৎসবের সময় কাজের চাপ আরও বাড়ে। তবুও হাসিমুখেই সব সামলে নেয় প্রীতি।
কলেজ শেষে বিকেল থেকে সন্ধ্যা তার কাজের সময়। পড়াশোনা ও কাজ দুটোই সমানভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেশীরাও তার নতুন নতুন ডিজাইন দেখে মুগ্ধ।অনেকেই এখন তার কাছ থেকে শিখতেও চান। প্রীতি প্রমাণ করেছে, ইচ্ছে থাকলে সাফল্য দূরে নয়। বড় পুঁজি নয়, দরকার সাহস আর পরিশ্রম। নিজের সৃজনশীলতাকেই সে শক্তি করেছে। ধীরে ধীরে তৈরি করছে নিজের পরিচয়। স্বপ্ন দেখছে বড় ব্র্যান্ড গড়ার। এই যেমন, একসময় যে রং তুলি ছিল খেলনা, আজ সেটাই বদলে দিয়েছে তার ভাগ্য।
মদন মাইতি





