দেশের বিভিন্ন শহরে ছোট-বড় রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, গ্যাসের জোগান আগের তুলনায় কমে গেছে এবং যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তার দামও অনেক বেশি। ফলে অনেক রান্নাঘরেই কাজের গতি কমে আসছে।
মেনুতে কাটছাঁট, বাড়ছে খরচ
গ্যাসের দাম বাড়ার জেরে অনেক রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই তাদের মেনুতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। যেসব খাবার রান্না করতে বেশি গ্যাস লাগে—যেমন ভাজাভুজি বা দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করতে হয় এমন পদ—সেগুলো কিছু জায়গায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার নির্দিষ্ট সময়েই এসব পদ তৈরি করা হচ্ছে।
advertisement
এদিকে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামও দ্রুত বেড়েছে। কয়েক দিন আগেও যে সিলিন্ডারের দাম ছিল প্রায় ১৭৫০ টাকা, এখন তা বেড়ে প্রায় ১৯৫০ টাকা বা তারও বেশি হয়ে গেছে। ফলে হঠাৎ করেই রেস্তোরাঁ মালিকদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
ফুড ডেলিভারি পরিষেবাতেও প্রভাবের আশঙ্কা
এই পরিস্থিতির প্রভাব অনলাইন ফুড ডেলিভারি পরিষেবাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ রেস্তোরাঁর কাছেই সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের গ্যাস মজুত থাকে। সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে অনেক কিচেন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হতে পারে।
সে ক্ষেত্রে ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলিতে অনেক রেস্তোরাঁ বা কিছু খাবারের পাশে ‘উপলব্ধ নয়’ দেখাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের সমস্যা আরও কয়েক দিন চলতে থাকলে ডেলিভারি সংস্থাগুলির ব্যবসাতেও প্রভাব পড়তে পারে, কারণ কিচেন বন্ধ থাকলে অর্ডার পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
গৃহস্থালির গ্রাহকদের অগ্রাধিকার
পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার গৃহস্থালির গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই প্রথমে বাড়ির ব্যবহার এবং হাসপাতাল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি পরিষেবায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিকে তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।
শিল্প সংগঠনগুলির দাবি, ইতিমধ্যেই কয়েকটি শহরে কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এমন অবস্থায় অনেকেরই বাইরে খাওয়ার বদলে বাড়িতে রান্না করার প্রবণতা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
