FASTag পেতে হন্যে হয়ে ঘুরছে গাড়ি চালকরা, বেশি কাউন্টার খোলার পরামর্শ প্রশাসনের

FASTag পেতে হন্যে হয়ে ঘুরছে গাড়ি চালকরা, বেশি কাউন্টার খোলার পরামর্শ প্রশাসনের

১ ডিসেম্বর থেকেই জাতীয় সড়কে চালু হচ্ছে অটোমেটিক ক্যাশলেস পেমেন্ট সিস্টেম ফাস্ট্যাগ। কিন্তু তার দু দিন আগেও সেই ফাস্ট্যাগ পেতে হন্য হয়ে ঘুরতে হচ্ছে।

  • Share this:

SARADINDU GHOSH

#কলকাতা: জাতীয় সড়কের টোলপ্লাজায় দাঁড়িয়ে মানিব্যাগ হাতড়ানোর আর প্রয়োজন নেই। টোল ট্যাক্স মেটাতে আর দাঁড়াতে হবে না গাড়ির লাইনে। অপচয় হবে না সময়ের। বাঁচবে জ্বালানিও। ১ ডিসেম্বর থেকেই জাতীয় সড়কে চালু হচ্ছে অটোমেটিক ক্যাশলেস পেমেন্ট সিস্টেম ফাস্ট্যাগ। কিন্তু তার দু দিন আগেও সেই ফাস্ট্যাগ পেতে হন্য হয়ে ঘুরতে হচ্ছে। অবিলম্বে ফাস্ট্যাগ কাউন্টার বাড়ানোর জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বলেছে প্রশাসন। যানজট এড়াতে বাড়াতে বলা হয়েছে লেনের সংখ্যাও।

রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে এই ক্যাশলেস পরিষেবা। কিন্তু শুক্রবারে দেখা গেল, ফাস্ট্যাগ কাউন্টার রয়েছে চাহিদার তুলনায় অনেক কম। রানিগঞ্জ থেকে কলকাতা যাচ্ছিলেন প্রভাতরঞ্জন ঘোষ। তিনি বললেন, সকালে দুর্গাপুরে কাউন্টার খোলেনি। পালশিটে নেট কাজ করছে না। রাস্তার পাশে আর কোথাও ক্যাম্প চোখে পড়েনি।

পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক ফাস্ট্যাগ চালুর আগে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি, রাস্তার ধারে বিশেষ ক্যাম্প, ধাবা, মিষ্টির দোকানে ফাস্ট্যাগ কাউন্টার খোলার পরামর্শও দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত ২৫ শতাংশ গাড়ি চালক ফাস্ট্যাগ সংগ্রহ করেছেন। সেকথা মাথায় রেখে যানজট এড়াতে বাকি ৭৫% গাড়ির জন্য লেন নির্দিষ্ট রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

রবিবার থেকেই টোলপ্লাজায় অটোম্যাটিক ক্যাশলেস পেমেন্ট সিস্টেম চালু করছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। গাড়ি থেকে টোল আদায়ে চালু হচ্ছে ফাস্টট্যাগ ও মোবাইল ওয়ালেট। ক্যাশলেশে টোল ট্যাক্স দিলে মিলবে বিশেষ ছাড়ও।

দেশজুড়ে জাতীয় সড়কের সব টোল প্লাজাতেই এই পদ্ধতি চালু হচ্ছে। ফলে একদিকে জাতীয় সড়কে টোল আদায়ের কাজে আসছে আমূল পরিবর্তন।

NH 02

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে ধানবাদ পর্যন্ত ২ নম্বর জাতীয় সড়কে দুর্গাপুর, পালসিট, ডানকুনি-সহ কয়েকটি টোল প্লাজা রয়েছে। সবসময়ই মালবাহী ৪ চাকা, ৬ চাকা, ১০ চাকা গাড়ি-সহ যাত্রীবাহী সমস্ত যানবাহন থেকে ক্যাশে টোল আদায় করা হচ্ছিল এতোদিন। একইভাবে বিভিন্ন প্রাইভেট গাড়ি থেকেও একই পদ্ধতিতে টোল ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছিল। ফলে প্রায় প্রতিটি টোল প্লাজাতেই গাড়ির গতি থমকে যায়। লম্বা লাইন পড়ে। দেখা দেয় তীব্র যানজট।

পাশাপাশি নগদে টোল ট্যাক্স আদায়ে সময় নষ্ট হয়। জ্বালানি তেল নষ্ট হয়। এই পদ্ধতি চালু হলে আর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না গাড়িগুলিকে। নয়া পদ্ধতিতে প্রতিটি গাড়িতে ট্যাগ লাগাতে হবে। সেই ট্যাগের মধ্যেই থাকবে বারকোড।

বারকোডের মধ্যেই গাড়ির সমস্ত তথ্য দেওয়া থাকবে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছেও সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য থাকবে । বারকোড গুলি লাগানো হবে গাড়ির উইন্ড স্কিনে। টোলপ্লাজার উপরেই বসানো হবে ফাস্টট্যাগ রিডার। তার সঙ্গে চালকদের মোবাইল ওয়ালেটের লিঙ্ক করা হবে। ব্যাঙ্কের মাধ্যমেই ওয়ালেটে রাখতে হবে টাকা। টোলের লেনের মধ্যে দিয়ে গাড়ি গেলেই সেই ওয়ালেট থেকে ট্যাক্স কেটে নেওয়া হবে । এর জন্য গাড়ি থামানোরও প্রয়োজন হবে না। গতি কমিয়ে টোল প্লাজার লেন ধরে চলে গেলেই গাড়ির বারকোড পড়ে নেবে সফটওয়্যার। আদায় হয়ে যাবে ট্যাক্স।

জাতীয় সড়ক সূত্রে জানা গিয়েছে, টোল প্লাজার পাশাপাশি অনলাইনে বুক করলে হোম সার্ভিসের মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে ফাস্ট্যাগ।

First published: 04:16:16 PM Nov 29, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर