Hooghly News: চিড়িয়াখানা নয়, হুগলির এই এলাকাতেই ঝাঁক ঝাঁক ময়ূরের বাস! এবার সংরক্ষণে বিশেষ বন্দোবস্ত
- Reported by:Rahi Haldar
- Published by:Madhab Das
Last Updated:
ময়ূর সংরক্ষণে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন
হুগলি: হুগলির পোলবার রাজহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গান্ধীগ্রামে নীলকন্ঠী ময়ূরের দেখা মেলে হামেশায়। এক সময় কয়েক’শ ময়ূর দেখা যেত রাজহাট অঞ্চলে। পরবর্তী সময় খাদ্য ও বাসস্থানের সমস্যায় সেই ময়ূর ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের পোলবা, সুগন্ধা, ব্যান্ডেল করোলা এলাকায়। মূলত আমবাগান, বাঁশ বাগান ময়ূরের চারণ ভূমি। আবার কুন্তি নদীর পাড়ে চাষের জমিতে খাদ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায় ময়ূরের দলকে। এখন অবশ্য সেই সংখ্যা কমেছে। ঠিকমত খাবার না পাওয়া, প্রচুর পরিমাণে গাছ কেটে ফেলা, ময়ূরের ডিম নষ্ট হওয়ার ফলে নীলকন্ঠি ময়ূর কমতে থাকে।
ময়ূর বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন। বাড়ি উঠোনে ছাদে খাবার জল দিয়ে রাখেন গান্ধী গ্রামের কল্যা বাড়ির সদস্যরা। ময়ূর কোনভাবে আহত হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেন। কিন্তু তাদের খাবার যোগার করা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে এগিয়ে এসেছেন, কিন্তু সরকারি ভাবে এখনও কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই জাতীয় পক্ষী রক্ষা করাটাই একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
advertisement
advertisement
প্রকৃতিতে নানা জীবের বসবাস। প্রত্যেকেরই উপকারিতা যেমন আছে আবার বেঁচে থাকার অধিকারও আছে। ময়ূর দানা শস্য যেমন খায়, তেমনই পোকামাকর, কিটপতঙ্গ খেয়ে জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করে। আর সেই ময়ূরকে রক্ষা করতে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করার চেষ্টা করা হল। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে এদিন গান্ধীগ্রামে সচেতনতা শিবির করা হয়। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এই কর্মসূচিতে যোগ দেয়। গ্রামবাসীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে। ময়ূর নিয়ে সমীক্ষা করে। এই অঞ্চলে ময়ূরের তার ক্ষেত্রে কি সমস্যা হচ্ছে, খাবার পাচ্ছে কিনা, বাসস্থানের কি অবস্থা, গ্রামের মানুষ কীভাবে ময়ূর রক্ষা করতে আরও সক্রিয় হবে, এবিষয়ে সমীক্ষা চালায় ছাত্রছাত্রীরা।
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য ডঃ শুভদীপ অধিকারী বলেন, “ময়ূর সংরক্ষণের বিষয়ে একটা সচেতনতার শিবিরের আয়োজন করা হয়। রাজহাটের অঞ্চল ময়ূরের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। এখানে সরকারি কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। যেহেতু এখানে যে বাগান জমি আছে সবই ব্যক্তিগত মালিকানায়। বনভূমি এখানে নেই তাই বন দফতর হস্তক্ষেপ করে না। ব্যক্তিগত উদ্যোগেই দেখাশোনা চলে ময়ূরের। আমরা যেটা করতে চেয়েছি, ময়ূরের সম্বন্ধে কিছু তথ্য সংগ্রহ। ময়ূর যেহেতু জাতীয় পাখি এই তাকে সব রকম ভাবেই সংরক্ষণ করা উচিত। এখানে ময়ূর অনেক সময় কুকুরের কামড়ে জখম হয়। ফসলের কীটনাশক দেওয়া হয় সেই ফসল খেয়েও ময়ূর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই গ্রামবাসীদেরকে সচেতন করার উদ্দেশ্যেই এই শিবির। গ্রামের প্রত্যেকটা বাড়িতে আমরা পৌঁছে এ বিষয়ে মানুষকে বোঝাচ্ছি এবং এই তথ্য আমরা যেটা সংগ্রহ করলাম সেটা সরকারি দফতরেও পৌঁছে দেব। যাতে আগামী দিনে ময়ূর সংরক্ষণের জন্য একটা যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া যায়।”
advertisement
কলেজ ছাত্রী অঙ্কিতা ঘোষ জানাই, “ময়ূরের সংরক্ষণের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করছি আমরা। ময়ূরের সংখ্যা এই এলাকায় আগে অনেক ছিল এখন দিন দিন কমছে। কি কারনে সেই সংখ্যা কমছে সেটাই আমরা মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করছি। তথ্য সংগ্রহ করছি।”
গ্রামবাসী উপেন্দ্রনাথ কল্যা বলেন, “জীব বৈচিত্র্য যারা রক্ষা করে তাদেরকে রক্ষা করতে হবে। ময়ূরের মূল সমস্যা এখন যেটা এটা হলতাদের বাসস্থান অর্থাৎ তারা যে গাছপালায় থাকে এগুলো সংখ্যা কমছে এবং তাদের খাদ্য। এমন একটা ব্যবস্থা করে তুলতে হবে যেখানে অবাক বিচরণ ক্ষেত্র থাকবে এত সংখ্যায় যে ময়ূর রয়েছে এখনও এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। সরকারের কাছে বারবার আমরা আবেদন করেছি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছেও বলেছি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।”
advertisement
রাহী হালদার
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সব লেটেস্ট ব্রেকিং নিউজ পাবেন নিউজ 18 বাংলায় ৷ থাকছে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের খবরও ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি সব খবরের আপডেট পেতে ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
May 23, 2025 4:29 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/দক্ষিণবঙ্গ/
Hooghly News: চিড়িয়াখানা নয়, হুগলির এই এলাকাতেই ঝাঁক ঝাঁক ময়ূরের বাস! এবার সংরক্ষণে বিশেষ বন্দোবস্ত









