Home /News /north-bengal /
Research on Chop Shilpo : সংসারে চপশিল্পের প্রভাব নিয়ে গবেষণা স্নাতকোত্তরের ছাত্রীর, সমালোচনার উত্তর দিলেন অধ্যাপকরাও

Research on Chop Shilpo : সংসারে চপশিল্পের প্রভাব নিয়ে গবেষণা স্নাতকোত্তরের ছাত্রীর, সমালোচনার উত্তর দিলেন অধ্যাপকরাও

স্নাতকোত্তর স্তরে এই গবেষণা করেছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের ছাত্রী কণা সরকার

স্নাতকোত্তর স্তরে এই গবেষণা করেছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের ছাত্রী কণা সরকার

Research on Chop Shilpo : স্নাতকোত্তর স্তরে এই গবেষণা করেছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের ছাত্রী কণা সরকার

  • Share this:

    রায়গঞ্জ: শুধু বর্ষার সন্ধ্যায় মুড়ির জুড়িদার নয় ৷ লোহার কড়াইয়ে ছাঁকা তেলে ভাজা চপ এখন নেটিজেনদেরও ব্যঙ্গের খোরাক ৷ কারণ সম্প্রতি চপশিল্প উঠে এসেছে উচ্চশিক্ষার গবেষণার বিষয়বস্তু হয়ে ৷ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেও সময় নেয়নি সেই গবেষণাপত্রের মলাট ৷ সেখানে জ্বলজ্বল করছে শিরোনাম ‘গবেষণায় চপশিল্প’৷ স্নাতকোত্তর স্তরে এই গবেষণা করেছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের ছাত্রী কণা সরকার ৷

    স্নাতকোত্তর স্তরের চতুর্থ সেমেস্টারের ছাত্রী কণার গবেষণার সম্পূর্ণ বিষয় ‘‘গ্রামীণ চপশিল্প এবং সংসার পরিচালনায় তার প্রভাব৷’’ তাঁকে এই বিষয় নির্বাচনে সাহায্য করেছেন অধ্যাপক তাপস পাল ৷ ভূগোলের এই অধ্যাপকের কথায়, প্রান্তিক অর্থনীতি নিয়ে তাঁদের গবেষণা এই প্রথম নয় ৷ তাঁরা এর আগে মুচি, ক্ষৌরকার, ঠেলাচালক-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা করেছেন ৷ অসংগঠিত অর্থনীতিতে দেশের ৮৩ শতাংশ মানুষ কর্মরত৷ তাঁদের কথা তুলে ধরা হবে না কেন? প্রশ্ন তাপসের ৷

    গবেষণাপত্রে বিভিন্ন তেলেভাজার দোকানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাগত অবস্থানও দেওয়া আছে৷ রয়েছে এই শিল্প থেকে গড় আয়ের খতিয়ানও৷ গবেষণাপত্রে দাবি, তেলেভাজার দোকান থেকে মহিলাদের মাসে উপার্জন হয় গড়ে ৯ হাজার টাকা ৷ পুরুষদের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ৯ হাজার থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত ৷ দেশের অর্থনীতিতে এই অবদান সামান্য হলেও তা তুলে ধরা হবে না? সমালোচকদের কাছে জিজ্ঞাসা তাপসের৷ তবে সমালোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি ৷ বলেছেন, সমালোচমা হলে সেটাই কোনও গবেষণার সার্থকতা ৷

    আরও পড়ুন :  জাতীয় সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কারখানায় ঢুকে গেল বাস, নিহত ১, আহত ২০

    ইউজিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, স্নাতকোত্তর স্তরে কোনও কোনও বিষয়ে ডিসার্টেশন বা গবেষণাপত্র জমা দিতে হয় ৷ কার্যত প্রাথমিক স্তরে গবেষণায় হাতেখড়িও বলা যায় একে৷ সেই পর্যায়ে এক ছাত্রীর কাজ নিয়ে এত আলোচনা কেন নেটমাধ্যমে? কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তেলেভাজাকে উল্লেখ করেছিলেন চপশিল্প বলে ৷ কোনও কাজই যে ছোট নয়, সেই প্রসঙ্গে তিনি চপশিল্পের কথা বলেছিলেন ৷ ঘটনাক্রমে নেটমাধ্যমে যে ছবি ভাইরাল হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে ‘গবেষণায় চপশিল্প’ শিরোনামের উপরে লেখা রয়েছে ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চপশিল্প ধারণায় অনুপ্রাণিত হয়ে’৷

    ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হওয়া ছবি দেখেই বিষয়টি জানতে পারেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বাণিজ্য ও আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক দীপককুমার রায়৷ বললেন, ‘‘সমালোচনা করার আগে কিন্তু ভাল করে জেনে নেওয়া দরকার৷ যে গবেষণাপত্র জমা পড়েছে তাতে কি সত্যি ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চপশিল্প ধারণায় অনুপ্রাণিত হয়ে’ লাইনটি লেখা আছে? সঠিক তথ্য জানার পরই সমালোচনা করা উচিত৷’’ মনে করেন এই অধ্যাপক ৷

    আরও পড়ুন : গর্ভের দ্বিতীয় সন্তানকেও শেষ করল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন,পুলিশের কাছে বধূ

    কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় অধ্যাপকরাই এই ডিসার্টেশনের মূল্যায়ন করেন ৷ এ ক্ষেত্রেও তা করা হবে ৷ কিন্তু গবেষণালব্ধ তথ্য কি পাঠানো হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে? এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক তাপস পাল বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁদের কাছে পাঠানো হবে গবেষণার সারমর্ম৷

    পরে কী হবে, সময়ই বলবে৷ আপাতত হাতেগরম চপের স্বাদে মশগুল সোশ্যাল মিডিয়াও মুচমুচে হয়ে আছে৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published:

    Tags: Raiganj

    পরবর্তী খবর