দুঃস্থ আসহায় দুই দম্পতির ঘর তৈরি করে দিলেন কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়

বৃষ্টি এলেই বিছানাপত্র গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছে এই বৃদ্ধ দম্পতির। সরকারি প্রকল্পে ঘরের জন্য বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেছেন কিন্তু কোন কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত হাল ফিরল বিধায়কের হাত ধরে...

বৃষ্টি এলেই বিছানাপত্র গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছে এই বৃদ্ধ দম্পতির। সরকারি প্রকল্পে ঘরের জন্য বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেছেন কিন্তু কোন কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত হাল ফিরল বিধায়কের হাত ধরে...

  • Share this:

#রায়গঞ্জ: ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়।এমনই করে দেখালেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জে বিজেপি বিধায়ক সৌমেন রায়। হতদরিদ্র পরিবারের মাথা গোজার ঠাঁই করে করে দিলেন সৌমেন বাবু। মাথা গোজার ঠাঁই পেয়ে খুশি কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের দুই বাসিন্দা।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে পরাজিত করে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সৌমেন রায়।এরই মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নাজেহাল রাজ্যের মানুষ।করোনা নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার কার্যত লকডাউন ঘোষণা করেছে।এই লকডাউনের ফলে মানুষের রুটি রুজি বন্ধ। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের জন্য খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হচ্ছেন কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়। সেই খাদ্য সামগ্রী দিতে গিয়ে তাঁর নজরে পড়ে কালিয়াগঞ্জ শহরের ফতেপুরের বাসিন্দা ভান্ডারু বর্মনের বাড়ি। তিনি দূরারোগ্য প্যারালিস রোগে আক্রান্ত। স্ত্রী মালতি বর্মন মহেন্দ্রগঞ্জ বাজারে কচুশাক এবং ডেকিশাক বিক্রি করে সংসার চালান। বাড়ি অবস্থা দেখলে যে কেউ আশ্চর্য হবেন। এই ভাঙচোড়া বাড়িতে দিন গুজরান করে এই বৃদ্ধ দম্পত্তি। বিধায়কের নজরে আসতে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঘর তৈরির নির্দেশ দেন। দেরি নয়। আজ বলাতো কাল থেকেই কাজ শুরু। একটি টিনের ঘর, টিনের বারান্দা এবং শৌচাগার নির্মান করে বৃদ্ধ দম্পত্তিকে ঘরে ঢুকিয়ে দেন।

বিধায়কের এই উদ্যোগ চাউর হতেই রায়গঞ্জ ব্লকের বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়পুরের এলাকার কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী তার কাছে হাজির হন। রায়পুরের বাসিন্দা সমীর সান্যালের বাড়িতে নিয়ে আসেন।সমীরবাবু নিঃসন্তান। স্ত্রী অঞ্জলি দেবী অসুস্থ। সমীরবাবু হোটেলে রাধুনির কাজ করেন। সেই আয় দিয়ে স্ত্রীকে চিকিৎসা করে বাঁচিয়ে রাখা এবং দুই জনের খাওয়া যোগান দেওয়া। ফলে থাকার ঘরের অবস্থা করুণ। ঘরে চাল প্রায় নেই বললেই চলে।  বৃষ্টি এলেই বিছানাপত্র গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছে এই বৃদ্ধ দম্পতির। সরকারি প্রকল্পে ঘরের জন্য বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেছেন কিন্তু কোন কাজ হয়নি। বাধ্য হয়েই বৃদ্ধ দম্পতি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্নধার অচিন্ত্য দেবের শরনাপন্ন হন। তিনি বৃদ্ধ দম্পত্তি ঘর দেখে খানিকটা হতবম্ব হয়ে পড়েন। অচিন্ত্যবাবু কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়ের শরনাপন্ন হন। বুধবার কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায় তাঁর বাড়িতে পৌঁছান। বৃদ্ধ দম্পতির হাতে খাদ্য সামগ্রী এবং একটি ত্রিপল তুলে দেন।  বৃদ্ধের বাড়ি দেখে তৎক্ষণাত ঘর তৈরির নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঘরের কাজ শুরু হয়েছে। টিন ঘর তৈরি করা হচ্ছে। মাথা গোজার আশ্রয় পেয়ে খুশি বৃদ্ধ দম্পত্তি। অচিন্ত্যবাবু মনে করে সমাজের জন্য বহু কাজ তিনি প্রতিদিন করছেন। তার জীবনে এটা সব থেকে বড় কাজ। বৃদ্ধ সমীরবাবু জানান, লকডাউনের কারণে হোটেলে রান্না বন্ধ। স্ত্রীর ওষুধ কিনতেই মাসে পাঁচ হাজার টাকা প্রয়োজন। দু’ দুবার স্ত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে। কোনক্রামে তাঁকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।কাজ না থাকায় স্ত্রী ওষুধ কিনবেন, না খাবেন কোনটাই হচ্ছে না। দীর্ঘ পাঁচ বছর এই ঘরে তারা বসবাস করছেন। গতকাল বিধায়ক তাদের বাড়িতে এসে খাদ্য সামগ্রী এবং একটি ত্রিপাল দিয়ে গিয়েছেন। বিধায়ক এই ঘরের অবস্থা দেখে ঘর বানিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।আজ সকাল থেকে ঘরের কাজ শুরু হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে তারা একটু ভাল ঘরে বসবাস করার সুযোগ পাবেন। কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায় জানান, ঘর দেখে নিজেরই লজ্জা লাগছে। সরকারি বহু প্রকল্প আছে। সেই প্রকল্পের মাধ্যমে এই পরিবারকে একটি ঘর বানিয়ে দেওয়াই যেত। দিন রাত যখনই বৃষ্টি হয় তখন তারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসে ত্রিপাল মাথায় দিয়ে বসে থাকেন।এই দুঃখ দেখে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। দম্পতিকে একটি ঘর তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি মত কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে এক দুদিনের মধ্যে ঘর, শৌচালয় বানিয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

Published by:Pooja Basu
First published: