পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের দাবি, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রোহিণীর কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন কমল। রাত ১১টা ৫৩ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে শেষবার কথা হয় তাঁর। এক বন্ধুর কথায়, তিনি জানান যে ডিসি সেন্টারে পৌঁছে গিয়েছেন এবং আর মাত্র ১৫ মিনিট লাগবে বাড়ি পৌঁছতে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফেরেননি।
আশঙ্কা বাড়তে থাকায় পরিবারের লোকজন একাধিকবার ফোন করলেও কোনও সাড়া মেলেনি। এরপর রাতভর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অভিযোগ, একাধিক থানায় গিয়েও তাৎক্ষণিক সাহায্য মেলেনি। জনকপুরী থানায় নিখোঁজের অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ জানায়, ২৪ ঘণ্টা না পেরোলে অভিযোগ নথিভুক্ত করা যাবে না। পরিবারের দাবি, পুলিশ প্রথমে মোবাইল ফোন ট্র্যাক করলেও সেই লোকেশন পরে মুছে ফেলা হয় এবং আবার চাইলে তা ‘গোপন’ বলে জানানো হয়।
বন্ধু ও আত্মীয়রা জানান, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সাতজন মিলে খোঁজ চালানো হয়। একটি গর্তের ভিতরেও নজর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তখন কিছু দেখা যায়নি বলে দাবি। পরে সকাল আটটা নাগাদ এক মহিলা পুলিশে খবর দেন যে জনকপুরী এলাকার একটি প্রায় ১৫–১৭ ফুট গভীর গর্তে একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় কমলের দেহ।
মৃতের বাবা নরেশ চাঁদের অভিযোগ, ওই জায়গায় দু’-তিন দিন আগেও কোনও গর্ত ছিল না। তাঁর দাবি, সদ্য খোঁড়া ওই গর্ত যথাযথভাবে ঘেরা বা চিহ্নিত করা হয়নি। তিনি সরাসরি প্রশাসন ও Delhi Jal Board-এর গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।
পরিবারের আরও অভিযোগ, পুলিশ সময়মতো সক্রিয় হলে কমলের প্রাণ বাঁচানো যেত। এমনকী দেহ পরে গর্তে ফেলে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই সন্দেহও প্রকাশ করেছেন তাঁরা। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, সব অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিম দিল্লির ডিসিপি শরদ ভাস্কর জানান, জল বোর্ডের কাজের জন্য ওই গর্ত খোঁড়া হয়েছিল এবং রাতের দিকে কমলের বাইক সেই গর্তে পড়ে যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাত ২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কামলের ভাই থানায় এসে নিখোঁজের কথা জানান। মোবাইল ট্র্যাক করে জনকপুরী ডিস্ট্রিক্ট পার্ক এলাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও দীর্ঘ সময় খোঁজ চালিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সকালেই দেহ উদ্ধারের পর ঘটনার পূর্ণ ছবি সামনে আসে।
ঘটনার পর দিল্লির নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশীষ সুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এক্সে পোস্ট করে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও রাজ্য সরকার শোকাহত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিল্লি জল বোর্ডও একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে। কমিটি ঘটনাস্থলের ব্যারিকেডিং, সাইনেজ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে গাফিলতি পেলে দায়িত্ব নির্ধারণ করবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র হয়েছে। বিজেপি সাংসদ রামবীর সিং বিধুরি দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার ছবি শেয়ার করে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন।
উল্লেখ্য, এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক নয়ডার সেক্টর ১৫০–এর দুর্ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে নির্মীয়মাণ এলাকার জল জমা গর্তে গাড়ি পড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক যুবকের। পরপর এমন ঘটনায় রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার নিরাপত্তা ও নির্মাণকাজের তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।