বিশ্বভারতীতে কবিগুরুর চেয়ারে বসেননি তিনি, বসেছিলেন নেহরু-গান্ধি, প্রমাণ দিলেন শাহ

বিশ্বভারতীতে কবিগুরুর চেয়ারে বসেননি তিনি, বসেছিলেন নেহরু-গান্ধি, প্রমাণ দিলেন শাহ

I did not sit on Rabindranath Tagores chair but Jawaharlal Nehru and Rajiv Gandhi did

গত বছর ২০ ডিসেম্বর বিশ্বভারতীতে এসেছিলেন শাহ। সেই সময় একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দাবি করা হয় যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সংরক্ষিত' চেয়ারে বসে ‘ভিজিটর্স বুকস’-এ লিখছেন শাহ। তা নিয়ে বিস্তর রাজনৈতিক জলঘোলাও হয়েছিল৷

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: বিশ্বভারতীতে এসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore)ব্যবহৃত চেয়ারেই বসেছিলেন অমিত শাহ (Amit Shah) ‍! কংগ্রসে সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরি (Adhir Ranjan Chowdhury) লোকসভায় এমনটাই অভিযোগ এনেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Union home minister) ও বিজেপি (BJP) নেতা অমিত শাহ-র বিরুদ্ধে৷

    এদিন সংসদে দাঁড়িয়ে প্রমাণ দিয়ে অধীররঞ্জনের অভিযোগ স্ট্রেইট ব্যাটে ওড়ালেন শাহ৷ তিনি বলেন যে, রবি ঠাকুরের চেয়ারে তিনি বসেননি৷ তিনি যেখানে বসেছিলেন, তা জানলারই একটি অংশ৷ শাহ এও বলেন যে, রবি ঠাকুরের ব্যবহৃত চেয়ার এবং সোফায় অতীতে দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু (Jawaharlal Nehru) ও রাজীব গান্ধী (Rajiv Gandhi) বসেছেন৷

    শাহ এদিন লোকসভায় বলেন, "গতকাল অধীররঞ্জন চৌধুরি নিজের ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছিলেন যে, আমি নাকি শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ারে বসেছিলাম! ওঁর কাছে হয়তো তথ্য নেই৷ কিন্তু আমি তথ্যের রেকর্ড লোকসভায় তুলে ধরব৷ সত্যিটা এই যে, পণ্ডিত নেহরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ারে বসেছিলেন৷ এমনকী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোফায় বসে চা পান করেছেন৷ আমার কাছে শান্তিনিকেতনের উপাচার্যের চিঠি আছে যেখানে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এরকম কোনও ঘটনাই ঘটেনি৷ আমি জানলার পাশে বসেছিলাম৷ সেখানে যে কেউ বসতে পারে৷" শাহ তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে বেশ কিছু ছবি ও বিশ্বভারতীর (Visvabharti University) উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর চিঠির প্রতিলিপিও পেশ করেন৷ শাহকে হোয়াটসঅ্যাপে যে ছবিগুলি পাঠান হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, শাহ যে চেয়ারে বসেছিলেন সেখানে প্রাক্তন দুই রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল (Pratibha Patil) ও প্রণব মুখোপাধ্যায় (Pranab Mukherjee), প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে রাজীব গান্ধি ও নেহরু৷

    শাহকে পাঠানো চিঠিতে উপাচার্য লিখেছেন, "দুর্ভাগ্যক্রমে আপনাকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে৷ এটি সম্পূর্ণ অসত্য৷ অতীতে উত্তরায়ণে সরকারি সফরের সময় একাধিক গণ্যমাণ্য ব্যক্তি ওই অস্থায়ী চেয়ারে বসেছেন৷ তার মধ্যে উপাচার্য থেকে শুরু করে পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু, মাননীয়া প্রতিভা পাটিল, শ্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)বসেছেন৷ এটা একদম জানলার ধারেই৷ যেখানে কিছু বালিশও রাখা আছে৷ এটা তো চেয়ারও নয়, আর গুরুদেব কখনও এখানে বসেননি৷ ছবিতে সেই তথ্য আছে৷" গত বছর ২০ ডিসেম্বর বিশ্বভারতীতে এসেছিলেন শাহ। সেই সময় একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দাবি করা হয় যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সংরক্ষিত' চেয়ারে বসে ‘ভিজিটর্স বুকস’-এ লিখছেন শাহ। তা নিয়ে বিস্তর রাজনৈতিক জলঘোলাও হয়েছিল৷ অবশেষে চেয়ার বিতর্কের অবসান হল লোকসভায়৷

    Published by:Subhapam Saha
    First published: