Home /News /life-style /
Health tips for Children in Summer: "এই গরমে বাচ্চার জ্বর হলে অযথা অ্যান্টিবায়োটিক নয়", সন্তানকে সুস্থ রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ পড়ুন

Health tips for Children in Summer: "এই গরমে বাচ্চার জ্বর হলে অযথা অ্যান্টিবায়োটিক নয়", সন্তানকে সুস্থ রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ পড়ুন

গরমে বাচ্চাদের জ্বর হলে কী করতে হবে

গরমে বাচ্চাদের জ্বর হলে কী করতে হবে

Healthy Tips for Children: প্যাচ প্যাচ গরমে ঘাম বসে অনেক বাচ্চারই শরীর খারাপ হচ্ছে৷ মা-বাবারা কী করবেন আর কী করবেন না, জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ৷

  • Share this:

প্রচন্ড গরম৷ সঙ্গে আর্দ্রতায় বাড়ছে অস্বস্তি৷ ঘাম প্যাচ প্যাচে শরীরে বাড়ছে কাশি-সর্দি এমনকী জ্বরের ভয়৷ বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের অবস্থা খুবই খারাপ৷ সারাদিন দুরন্তপনায় ঝরছে ঘাম৷ সেই ঘাম বসে গিয়ে হাঁচি, কাশি লেগেই থাকছে৷ কীভাবে এর থেকে মুক্তি? বৃষ্টি নিয়ে কোনও ইতিবাচক খবর শোনাতে পারছে না আবহাওয়া দফতর৷ ফলে এই ভ্যাপসা গরম থাকবে আরও কিছু দিন৷ তার মধ্যে কীভাবে সুস্থ রাখবেন বাড়ির খুদে সদস্যকে? টিপস দিচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সুমিতা সাহা

প্রশ্ন- প্রচন্ড গরম, সঙ্গে হাই হিউমিডিটি৷ ১ বছর বা তার কম বয়সি বাচ্চাদের কীভাবে সুস্থ রাখা যাবে?

উত্তর- এই সময় বাচ্চাদের বেশি করে জল খেতে হবে৷ কারণ এই আবহাওয়ায় ডিহাইড্রেশন হচ্ছে বাচ্চাদের৷ অতিরিক্ত ঘামের মধ্যে দিয়ে শরীর থেকে অনেকটা জল বেরিয়ে যাচ্ছে৷ এছাড়াও গরমে হজম ক্ষমতা কমে যায়৷ পেট খারাপও হচ্ছে অনেকের৷ একটু খেয়াল রাখতে হবে, যাতে বাচ্চারা নির্জীব না হয়ে পড়ে৷

প্রশ্ন-ঘাম থেকে বাঁচতে কিছু কি করা যাবে?

উত্তর-খুব সাধারণ ভাবে নরম কাপড় দিয়ে বারবার ঘাম মুছে দেওয়া, গা ধুয়ে দেওয়া৷ অনেকে হয়ত মনে করেন যে বাচ্চাদের একবারের বেশি স্নান করানো বা গা ধোওয়ায় সমস্যা হতে পারে৷ কিন্তু তা নয়৷ উল্টে গা মুছে দিলে ওরা আরাম পায়, আর ঘামও বসে যায় না৷

প্রশ্ন- সাধারণত বলা হয় সিজারিয়ান (caesarean) বাচ্চাদের গরম বেশি লাগে, সেটা কী ঠিক?

উত্তর-না, এনিয়ে কোনও ডকুমেন্টেশন নেই৷

আরও পড়ুন Beauty Tips: যেমন খুশি সাবান কেনেন? এটাই ত্বকের সমস্যার কারণ, দেখে নিন কোন সাবান আপনার জন্য উপযুক্ত!

প্রশ্ন-এই সময় বাচ্চাদের এসি-তে রাখা নিয়ে একটা চিন্তা হয়৷ কারণ গরমে ঘেমে ঠান্ডা ঘরে ঢুকলে শরীর খারাপ হতে পারে৷

উত্তর- বাচ্চাদের নিশ্চিন্তে AC-তে রাখা যাবে৷ কোনও অসুবিধা নেই তাতে৷ কারণ শহর বা শহরতলীর অধিকাংশ বাচ্চা জন্মের পরই এসি রুমে বা নার্সারিতে থাকে৷ নবজাতদেরও এসিতে রাখলে সমস্যা নেই৷ খেয়াল রাখতে হবে যাতে AC-র তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির আশপাশে থাকে৷ আর এসির ভেন্ট থেকে সরাসরি ঠান্ডা হাওয়া ওদের গায়ে না লাগে৷ তবে বারবার এসি- নন এসি করলে শরীর খারাপ হতে পারে৷ কারণ তাপমাত্রার পার্থক্যে সমস্যা হয়৷

প্রশ্ন-আপনি বললেন যে এই সময় বাচ্চাদের পেট খারাপ হতে পারে৷ তাহলে কী খেতে দিতে হবে? কারণ ছোট বাচ্চারা প্রাধাণত দুধ খায়, তাতে কী শরীরে বেশি গরম লাগে? ৬ মাসের বেশি বাচ্চাদের শরীর ঠান্ডা রাখতে কী ধরণের খাবার দিতে হবে?

উত্তর- কম মশালার খাবার, হাল্কা-পাতলা ঝোল৷ ৬ মাসের কম বয়সি শিশুরা যেহেতু মায়ের দুধ বা টিনের দুধ খায়, তাদের পেট খারাপের সমস্যা কম৷ কিন্তু একটু বড় যারা, তাদের পেটের গন্ডোগোল হতে পারে৷ ধরুন বাচ্চা বাইরের খাবার খেতে জেদ ধরেছে৷ এই সময় অনেক জায়গায়, গরমের ফলে খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ আর না জেনে সেই ধরণের ফাস্ট ফুড বা বাইরের খাবার বাচ্চা খেলে পেট খারাপ হবে৷ ডায়রিয়া হতে পারে৷ তাই খাবার ব্যাপারে সাবধান হতে হবে৷ ঘরের হাল্কা রান্না বাচ্চাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন৷

প্রশ্ন-দিনে কতটা পরিমাণ জল খেতে হবে?

উত্তর- একটা সাধারণ নিয়ম থাকে যেমন ১০ কেজির অর্থাৎ ১ বছরের বাচ্চার দিনে ১ লিটার খাওয়া উচিৎ৷ ২০ কেজি বাচ্চার দিনে দেড় লিটার জল খাওয়া উচিৎ৷ তবে এটা একটা সাধারণ হিসেব৷ এর থেকে বেশি-কম হতে পারে৷ তবে খেয়াল রাখতে হবে যে প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ হয়, তাহলে জল খাওয়াতে হবে বেশি করে৷ কারণ প্রস্রাব হলুদ হওয়ার মানে শরীরে জলের ঘাটতি হচ্ছে৷

প্রশ্ন-অনেক বাচ্চা জল খেতে চায় না, তাদের কী ভাবে জল খাওয়ানো যেতে পারে?

উত্তর- ডাবের জল, জল যুক্ত ফল যেমন তরমুজ বা জামরুল দিন৷ শরীরের জলের পরিমাণ কম হলে সমস্যা হবে৷

প্রশ্ন- ঠান্ডা-গরম লাগলে কী করতে হবে?

উত্তর- দেখুন, এই সময় কাশি-হাঁচি হলে খুব ভয়ের কিছু নেই৷ এধরনের রোগ নিজে থেকে ঠিক হয়৷ ৫ থেকে ৭ দিন লাগবে শিশুদের সুস্থ হতে৷

প্রশ্ন- আর জ্বর হলে?

উত্তর-সেটাও নিজে থেকে ঠিক হয়ে যাবে৷ তবে কিছু উপসর্গ খেয়াল রাখতে হবে৷ বাড়িতে বাচ্চাকে একটু আরামে রাখার চেষ্টা করুন৷ অযথা প্যানিক করবেন না৷ প্যারাসিটামল দিন, বেশি করে জল খাওয়ান৷ কারণ এধরণের সর্দি-কাশিতে ৭০% বাচ্চা নিজে থেকে ঠিক হয়ে যায়৷ ৩০% নিউমোনিয়ার আশঙ্কা থাকে৷ একটু খেয়াল রেখে, ৪৮ ঘণ্টা দেখে তারপর চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন৷ আর একটা বিষয়, অনেক বাবা-মা চান তাঁদের শিশুদের তাড়াতাড়ি সুস্থ করে তুলতে, অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে৷ চিকিৎসকের কাছে এসেও সেই দাবি জানা৷ এটা খুব ভুল৷ এই ধরনের জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিকের একেবারই প্রয়োজন নেই৷ অযথা সেই দাবি রাখবেন না৷ এই রকম সর্দি-কাশি-জ্বরে বাচ্চারা কিছু দিন ভুগলে কোনও সমস্যা নেই৷ এই জ্বর নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়৷

প্রশ্ন-করোনাও বাড়ছে৷ তার জন্য কী বাড়তি সতর্কতা?

উত্তর- হ্যাঁ, মাস্ক পরতে হবে৷ আগের নিয়ম মানতে হবে৷ মাথা ব্যথা বা হাঁচি-কাশি হলে কোভিড টেস্ট করতে হবে৷ ঝুঁকি নিলে চলবে না৷

Published by:Pooja Basu
First published:

Tags: Chilren, Health Tips, Summer

পরবর্তী খবর