• Home
  • »
  • News
  • »
  • life-style
  • »
  • Bengali Ritual : নারকেল দিয়ে চালকুমড়ো, ইলিশ কচুশাক-সহ পান্তা, চালতার টক, অরন্ধনের নিমন্ত্রণ আজও আসে

Bengali Ritual : নারকেল দিয়ে চালকুমড়ো, ইলিশ কচুশাক-সহ পান্তা, চালতার টক, অরন্ধনের নিমন্ত্রণ আজও আসে

আধুনিকার আয়োজনে রান্নাপুজো, ছবি সৌজন্য-সংযুক্তা চক্রবর্তী

আধুনিকার আয়োজনে রান্নাপুজো, ছবি সৌজন্য-সংযুক্তা চক্রবর্তী

হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও ভাদ্র সংক্রান্তিতে অরন্ধনের (Arandhan) আয়োজন না করলে মন ভরে না ৷

  • Share this:

মহা সমস্যা বেঙ্গালুরুবাসী মোনালিসা সাহার ৷ সে শহরে চালকুমড়ো বা চালতা, কোনওটাই ভাল পাওয়া যায় না ৷ অথচ ভাদ্রমাসের অরন্ধনে (Bengali Ritual) এই দু’টি জিনিস লাগবেই ৷ হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও ভাদ্র সংক্রান্তিতে অরন্ধনের (Arandhan) আয়োজন না করলে মন ভরে না ৷ কলকাতায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে মহা ধুম করে এই রীতি পালিত হয় ৷  স্বামীর কর্মোপলক্ষে বেঙ্গালুরুবাসী হয়ে অনেক নিয়ম ভুলতে হলেও এটা করা চাই-ই চাই ৷

মোনালিসার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ম, ভাদ্র সংক্রান্তির আগের দিন উনুনকে পুজো করা হবে ৷ তার পর সারারাত তাতে রান্না করা হবে কচুর শাক, চালকুমড়োর ঘণ্ট, মটর ডাল এবং চালতার টক ৷ সঙ্গে ইলিশ ও চিংড়ির পদ ৷ ভাত রান্না করে সারারাত জল ঢেলে ভিজিয়ে রাখা হবে ৷ কোনও খাবারেই পেঁয়াজ রসুন দেওয়া হবে না ৷ রান্নার পর ফ্রিজেও তোলা হবে না ৷ পান্তাভাত-সহ সব রান্না খাওয়া হবে পর দিন, অর্থাৎ ভাদ্র সংক্রান্তিতে বিশ্বকর্মা পুজোতে ৷ সে দিন উনুন ধরা বা ছোঁওয়া যাবে না ৷ যেমন উনুন, পড়ে থাকবে তেমনই ৷ তার পরের দিন উনুন আবার ফিরবে চেনা ব্যস্ততায় ৷

অনেক নিয়মই পালন করা সম্ভব হয় না ৷ মোনালিসার কথায়, ‘‘অরন্ধনের রান্নার নিয়ম হল উনুনের আঁচ একটানা জ্বলবে ৷ বন্ধ করা যাবে না ৷ এখন তো গ্যাসে সেটা সম্ভব নয় ৷ আমি সব যোগাড় করে তার পর গ্যাস জ্বালাই ৷ যে আভেনে রান্না শুরু হয়, সেটা জ্বলতেই থাকে ৷ পর পর সব রান্না করে নিই ৷ অন্য আভেন অবশ্য যখন যেমন প্রয়োজন সেরকমই জ্বালাই ৷’’ সঙ্গে জানাতে ভুললেন না, অরন্ধনের সব রান্নাই করা হয় জল কম দিয়ে ৷ যাতে গরমে নষ্ট না হয়ে যায় ৷

রকমারি রান্নার পাশাপাশি পান সুপারি দিয়ে পুজো গ্যাসের আভেনকে, ছবি সৌজন্য-মোনালিসা সাহা

আরও পড়ুন : সাবুদানা, ইসবগুল, গদের আঠা দিয়ে অ্যারারুট জ্বাল, তাতে মিশত বাতিল টিউবলাইটের মিহি চূর্ণ

অরন্ধন বা রান্নাপুজোয়  পূজিতা হন মনসাদেবীও ৷ মনে পড়ছে আর এক বেঙ্গালুরুবাসী শ্রাবণীর ৷ তাঁর বাঙাল শ্বশুরবাড়িতে এই রীতি পালিত হয় না ৷ তবে ছোট থেকে অরন্ধন দেখে এসেছেন নিজেদের ঘটি রীতিনীতিতে ৷ বললেন, ‘‘অরন্ধন কিন্তু ঘটি বাঙাল দু’ বাড়িতেই পালিত হয় ৷বেশিরভাগই সংক্রান্তির আগের দিন রান্না করে পরের দিন খায় ৷ আমাদের বাড়িতে হত ইচ্ছে অরন্ধন ৷ আমরা ব্রত পালন করে বাসি খেতাম সংক্রান্তি অর্থাৎ বিশ্বকর্মাপুজোর (Vishwakarma Puja) আগের দিন ৷’’

মশারির ভিতর রাতভর রান্নাপুজোর খাবার, ছবি সৌজন্য-ঋতুপর্ণা মজুমদার

শ্রাবণীদের পরিবারে উনুনকে মনসাদেবীর প্রতীক বলে পুজো করা হয় ৷ উনুনের পাশে আঁকা হয় ৫ টা সাপ ও ৫ টা পদ্ম ৷ সর্পদেবীর আরাধনা বলে এই পুজোয় ধূপ ও ধুনোর ব্যবহার নৈব নৈব চ ৷ উনুনে বসানো হয় ফণীমনসার ডাল ৷ প্রসাদ হিসেবে সাজিয়ে দেওয়া হয় পান্তা ভাত, ছোলার ডাল, মটর ডাল, চিংড়ি দিয়ে মিষ্টি কুমড়ো, নারকেল দিয়ে চালকুমড়ো, শাপলা বা কচুর কোন পদ ৷ শ্রাবণীর কথায়, ‘‘আমি যতদূর জানি, ইচ্ছে অরন্ধনে মাছের পদ দেওয়া যায় ৷ অন্য অরন্ধন ব্রতের রান্না হয় মাছহীন সম্পূর্ণ নিরামিষ ৷ তবে এটা পরিবার হিসেবে ব্যতিক্রমও আছে ৷ তবে দু ক্ষেত্রেই পুরোহিতের বদলে বেশিরভাগ পরিবারে বাড়ির গৃহিণীই পুজো করেন ৷’’

কিন্তু অরন্ধনে বা মনসা পুজোয় ঠান্ডা খাবারই কেন খেতে হবে? ব্যাখ্যা দিলেন দেবস্মিতা সাহা৷ জানালেন, সাপ গরম খাবার সহ্য করতে পারে না ৷ তাই তাদের দেবীর পুজোয় শীতল খাবারই প্রসাদ ৷ দেবস্মিতার বাড়িতে মনসাদেবী প্রতিষ্ঠিত ৷ জানালেন, ভাদ্র বা বছরের অন্য যে কোনও সময়ে মনসাদেবীর পুজো হলেও ধূপ ধুনোর প্রবেশ সেখানে নিষিদ্ধ ৷ রান্নাপুজোর ভোগ নতুন বাসনে, নতুন চালে রান্না করাই বাঞ্ছনীয় ৷

আরও পড়ুন : গোবরজলের ছড়া দিয়ে মাটির উঠোন তকতকে করে শুরু দিন, ঠাকুমা পুষ্পরানি জানালেন সুস্থতার চাবিকাঠি

শুধু বিশ্বকর্মা বা মনসাপুজোর সঙ্গেই নয় ৷ ভাদ্রমাসের লক্ষ্মীপুজো এবং চাপড়া বা মন্থনষষ্ঠীর সঙ্গেও জড়িয়ে আছে অরন্ধন রীতি ৷ মন্থন হল মথিত করা ৷ বললেন চিত্তরঞ্জন এবং মনোরঞ্জন দাস ৷ প্রবীণ দুই ভাই শৈশব ফেলে এসেছেন মেদিনীপুরের শিলদায় ৷ সেখানেই ছোটবেলায় কাকভোরে উঠে বাঁশপাতা সংগ্রহ করতে যেতেন ৷ কারণ মন্থন বা চাপড়া ষষ্ঠীর পুজোর অন্যতম উপকরণ এই বাঁশপাতা এবং ভিজিয়ে রাখা পাঁচরকম কলাই ৷ দু’জনেই স্মৃতিচারণা করলেন, ‘‘ যে দণ্ড ঘুরিয়ে দুধ মন্থন করে দই বা ননী তৈরি হয়, সেই দণ্ডকেই পুকুরের মধ্যে পুঁতে জলে দাঁড়িয়ে পুজো করা হয় ৷ এই ষষ্ঠীব্রতেরও অন্যতম অঙ্গ অরন্ধন, অর্থাৎ আগের দিন রেঁধে পরের দিন খাওয়া ৷ ষষ্ঠীর দিন সব রান্না করে পরের দিন খাওয়া হবে ৷’’ মূলত নিরামিষ হলেও, অনেক বাড়িতে রান্নার তালিকায় যুক্ত হয় মাছও ৷ তবে অবশ্য-উপস্থিতি হয় আমড়ার চাটনির ৷ ঘটিবাড়ির ডাকে ‘আমড়ার টক’ বলে৷

তবে ব্রত যে বাড়িতেই হোক না কেন, নিমন্ত্রণ থাকে প্রিয়জনদের জন্য ৷ যেমন ছিল কুমুর বাড়ির দাওয়ায়, তাঁর ‘হীরেন দার’ জন্য ৷ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অরন্ধনের নিমন্ত্রণ’-এ ৷

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published: