Home /News /kolkata /
Mallickbazar hospital accident: ছেলের ডাকেও ফিরলেন না, স্ত্রীর মৃত্যুতেই বদলে যান লেকটাউনের সুজিত

Mallickbazar hospital accident: ছেলের ডাকেও ফিরলেন না, স্ত্রীর মৃত্যুতেই বদলে যান লেকটাউনের সুজিত

স্ত্রীর মৃত্যুর পরই অবসাদ গ্রাস করে সুজিতকে৷

স্ত্রীর মৃত্যুর পরই অবসাদ গ্রাস করে সুজিতকে৷

কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মাস খানেক আগেই মৃত্যু পর থেকেই অবসাদে ভুগতে শুরু করেছিলেন লেকটাউনের শ্রীভূমির বাসিন্দা ছত্রিশ বছরের সুজিত অধিকারী৷

  • Share this:

    #অনুপ চক্রবর্তী, কলকাতা: আট তলার কার্নিশ থেকে ফিরিয়ে আনতে শেষ চেষ্টা হিসেবে ভিডিও কলে ৯ বছরের ছেলে বার বার বাবাকে ডেকেছিল৷ কিন্তু ছেলের গলা শুনেও একবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকানো ছাড়া সাড়া দেননি লেকটাউনের বাসিন্দা সুজিত অধিকারী৷ শেষ পর্যন্ত মল্লিকবাজারের হাসপাতালের সেই কার্নিশ থেকেই নীচে পড়ে যান তিনি৷

    ছোটবেলাতেই বাবা মাকে হারিয়েছিলেন৷ কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সংসারে সুখের অভাব ছিল না৷ যদিও গত কয়েক মাসে বদলে গিয়েছিল ছবিটা৷ কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মাস খানেক আগেই মৃত্যু পর থেকেই অবসাদে ভুগতে শুরু করেছিলেন লেকটাউনের শ্রীভূমির বাসিন্দা ছত্রিশ বছরের সুজিত অধিকারী৷ স্নায়ু সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেওয়া দু' দিন আগেই মল্লিকবাজারের ওই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল সুজিতকে৷ এ দিন দুপুরে সেই হাসপাতালেরই আট তলার কার্নিশে গিয়ে বসেন আত্মহত্যাপ্রবণ সুজিত৷

    আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর, মল্লিকবাজারের হাসপাতালের আট তলার কার্নিশ থেকে হাত ফসকে নীচে পড়ে গেলেন রোগী

    পেশায় লোহার ব্যবসায়ী সুজিতের দু'টি সন্তান রয়েছে৷ দুই ছেলের বয়স যথাক্রমে ৯ এবং ৫৷ একমাস আগেই মাকে হারিয়েছিল শিশু দু'টি৷ আপাতত গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁদের বাবা৷ সুজিতের কিছু হয়ে গেলে তাঁর সন্তানদের কী হবে, তা ভেবেই আতঙ্কিত সুজিতের ঠাকুমা শিবানী অধিকারী৷ ছ' মাস বয়স থেকে সুজিতকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেেছন শিবানীদেবীই৷

    আরও পড়ুন: 'পরিবারই একমাত্র দায়ী', গভীর রাতে ফেসবুকে লিখে টলিউড অভিনেত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    এ দিন বেলা এগারোটা নাগাদ লেক টাউনের ফ্ল্যাটে মল্লিকবাজারের হাসপাতাল থেকে ফোন করে ঘটনার খবর দেওয়া হয়৷ এর পরে সুজিতকে নিরাপদে উদ্ধার করতে ভিডিও কলের মাধ্যমে বড় ছেলেকে দিয়ে তাঁকে কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়৷ যাতে ছেলেদের কথা ভেবে অন্তত কোনও বিপদ না ঘটান বাবা৷ কিন্তু সেই চেষ্টা বিফলে যায়৷ ছেলে বার বার ডাকলেও কার্নিশ থেকে ফিরে আসেননি সুজিত৷

    সুজিতের ঠাকুমা শিবানী দেবী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'আমাদের সংসারে কোনও সমস্যা ছিল না৷ কিন্তু কুড়ি-পঁচিশ দিন আগে স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই নাতি বদলে গেল৷ ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করত না৷' হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে সুজিতের পিসি মঞ্জু দাস বলেন, 'এত বড় হাসপাতালে কারও নজরে পড়ল না যে ও কার্নিশে চলে গেল? অন্তত সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক৷ নাহলে ছেলে দুটোর কী হবে?' এই একই প্রশ্ন সুজিতের প্রতিবেশীদেরও৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:

    Tags: Accident, Suicide

    পরবর্তী খবর