গণধর্ষণ-খুন-জনরোষ, এবার দ্রুতবিচারের আওয়াজ তুললেন আইনজীবীরাও

গণধর্ষণ-খুন-জনরোষ, এবার দ্রুতবিচারের আওয়াজ তুললেন আইনজীবীরাও

এমন জনরোষের কারণ খুঁজতে আমরা বিভিন্ন আদালত চত্বরে যাই। মামলার দীর্ঘসূত্রিতাকেই দায়ী করছেন অনেকে।

  • Share this:

Arnab Hazra

#কলকাতা:  "ধর্ষকদের পিটিয়ে মারা হোক..."৷ আইনপ্রণেতা আইন হাতে তুলে নেওয়ার নিদান দিচ্ছেন। তাও খোদ আইনসভায়। সোমবার এমন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ। সাংসদ জয়া বচ্চনের এমন মন্তব্য আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ছাপোষা থেকে ভিভিআইপি-কে ।

একজন সাংসদ এমন মন্তব্য করতে পারেন?  পক্ষে এবং বিপক্ষে মত জড়ো হয়ে যাচ্ছে মুহূর্তে। বিপক্ষে মতপোষণ করেন যারা, বলছেন এটা অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই না। সিনেমার চিত্রনাট্যের চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্সের অভিনয় দেখানোর জায়গা আইনসভা নয়। অবশ্য জয়া দেবীর পক্ষে দাঁড়ানো মানুষেরা বলছেন অন্য কথা।

বিমর্ষ, বিষণ্ন ও  চূড়ান্ত  হতাশার বহিঃপ্রকাশ দেখিয়ে ফেলেছেন জয়া বচ্চন। আসলে হায়দারাবাদ উত্তর পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ। ধর্ষণ রুখতে আরো কড়া আইনের চর্চায় তাই সাংসদরা। দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের পর "ধর্ষণ" অপরাধে শাস্তির ধার বাড়ায় পার্লামেন্ট। তবু দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে নির্ভয়া কাণ্ডের ছায়া। এমন জনরোষের কারণ খুঁজতে আমরা বিভিন্ন আদালত চত্বরে যাই। মামলার দীর্ঘসূত্রিতাকেই দায়ী করছেন অনেকে।

রাজ্য তোলপাড় করা নব্বই দশকের হেতাল পারেখ ধর্ষণ খুনের মামলা। সেই মামলার সঙ্গে কাজ করেছেন আইনজীবী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্য, ‘হেতালকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার ১৯৯০সালের। চার বছর পর আলিপুর আদালত ফাঁসির সাজা দেয় দোষী ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে । কিন্তু এরপরই বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় বারবার আটকে পড়ে ফাঁসির আদেশ। হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট হয়ে যখন ফাঁসি কার্যকর হয় তখন  কেটে গেছে আরও দশ বছর। অর্থাৎ খুন ও ধর্ষণের ঘটনার ১৪ বছর পর দোষীর ফাঁসি দেখে রাজ্যের মানুষ। কাজেই ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার জনরোষ হওয়াটা স্বাভাবিক।

বার ও বেঞ্চকে একযোগে এগিয়ে এসে দীর্ঘসূত্রিতা কাটাতে হবে। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা পরোক্ষে উৎসাহিত করছে অপরাধীদের?  প্রশ্নটা থেকেই যায়। রাজ্যে দুটি ধর্ষণ সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা। হেতাল পারেখ আর কামদুনি। যা আজও নাড়া দেয় রাজ্যবাসীকে। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় বারবার আটকে যায় দুই মামলা।

নির্ভয়া কাণ্ডের পর আইন বদলেছে। নতুন আইনে মামলা হয়েছে আমাদের রাজ্যের কামদুনি গণধর্ষণ খুনের ঘটনার। নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী ছিলেন জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, ‘২০১৩ সালের ঘটনার ২০১৬ সালে রায় দেয় নগর দায়রা আদালত। তিন দোষীর ফাঁসির সাজা হয় এবং অন্য তিনজনের হয় আমৃত্যু কারাদণ্ড। এরপর থেকে তিন বছর হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলা।’

কামদুনি ফৌজদারি আপিল মামলার নিষ্পত্তি হতেও হয়তো আরও বছর কয়েক লেগে যাবে। লাগবে নাইবা কেন । ৩০শে নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত শুধুমাত্র কলকাতা হাইকোর্টের পরিসংখ্যান বলছে, ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা ২০৭৫২৩। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১৬৮৪২২ এবং ফৌজদারি মামলা ৩৯১০১। আবার ফৌজদারি আপিল মামলা ১২২৫০। রাজ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যাটাও বেশ কয়েক লক্ষ।

‘তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া একে অপরের পরিপূরক। তদন্ত নিখুঁত হলে বিচারে দেরি হয় কম,’ মত আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের। দেশে যে পরিমাণ নেতা, মন্ত্রীদের কেন্দ্রীয় বাহিনী বা রাজ্যের বাহিনী নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। সেই নিরাপত্তা মহিলাদের সুরক্ষায় কাজে লাগানোর আবেদন রাখছে রাজ্যের আইনজীবী মহল। দ্রুত বিচার জনরোষের গ্রাফ নামাতে ওষুধ হতেই পারে। তাই দেশজুড়ে ঝুলে থাকা মামলার পাহাড় কমানো হোক। আইন সভায় আলোচনা হোক তা নিয়েও। আওয়াজ তুলছেন আইনজীবীরা।

First published: 09:42:03 PM Dec 04, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर