• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • Cyber Crime: সাবধান না হলেই বিপদ ! করোনাকালে এ ভাবেই অনলাইনে চলছে প্রতারণা

Cyber Crime: সাবধান না হলেই বিপদ ! করোনাকালে এ ভাবেই অনলাইনে চলছে প্রতারণা

Representational Image

Representational Image

Cyber Crime Cases increasing: গোয়েন্দাদের পরামর্শ অচেনা লিংকে ক্লিক নয়, অচেনা অ্যাপ ডাউনলোড নয়। নিজের লোভ সামলাতে পারলে রোখা সম্ভব সাইবার প্রতারণা। 

  • Share this:

কলকাতা: করোনা আবহে সাইবার প্রতারণা ধরণ কি বদলেছে? রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের সাইবার আধিকারিদের মতে, লকডাউনে বদলেছে সাইবার প্রতারণা ধরণ (Cyber Crime cases increasing in West Bengal)।

ধরুন কোনও নামী সংস্থা থেকে কিছু কেনার জন্য আপনি গুগল সার্চ করে সেই সংস্থার ওয়েবসাইট খুললেন এবং সেখান থেকে টেলিফোন নম্বর নিয়ে ফোন করলেন। বা হঠাৎই আপনার হোয়াটসঅ্যাপে কেনাকাটার আকর্ষণীয় অফার-সহ লিংক চলে এলো। সঙ্গে লেখা, লিংকে ক্লিক করলেই মিলবে প্রচুর ডিসকাউন্ট। এসবই প্রতারকদের নানা চেহারার ফাঁদ। সঙ্গে ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি আপডেট করানোর নামে ব্যাংক অফিসারের পরিচয় দিয়ে ফোন তো আছেই।

আরও পড়ুন-আবু ধাবিতে আফগানিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগে রহস্যমৃত্যু ভারতীয় পিচ কিউরেটরের !

রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের দাবি, কখনও হাসপাতালে ডক্টরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও টাকা। আবার কখনও খাবার অর্ডার করার জন্য বুকিং করতে গিয়ে, বিভিন্ন সাইটে জিনিস অর্ডার বা বিক্রি করতে গিয়ে নিমেষে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হচ্ছে। এক প্রতারিত তরুণী জানান, ‘‘সম্প্রতি  হাসপাতালে চিকিৎসক বুকিং করার জন্য গুগল থেকে নম্বর পেয়ে ফোন করেন। কিছুক্ষণ পর অন্য একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। দশ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়। তার জন্য একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে তাকে বলা হয়। যা ডাউনলোড করার পরেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে থেকে ষাট হাজার টাকা গায়েব !’’

ওই তরুণীর বাবা ব্যাঙ্ক কর্মী। চোখের নিমেষে টাকা গায়েব দেখে হতবাক পরিবার। করোনার সংক্রমণের জেরে দীর্ঘ লকডাউন। প্রায় দু’বছর ঘরবন্দি দশা চলা। এই আবহে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় প্রায় যাবতীয় কাজকর্ম, কেনাকাটা, লেনদেন সবই চলেছে অনলাইনে। ব্যাঙ্কের ভিড় এড়াতে একাকি বয়স্করাও বাধ্য হয়েছেন অনলাইনে টাকা লেনদেন করতে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিত্যনতুন Modus Operandi-কে হাতিয়ার করে সাইবার প্রতারকরা অনলাইন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফাঁদ পেতেছেন। তাতে পা দিয়েই সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেকেই। প্রতারকদের নিত্য নতুন কৌশল সামাল দিতে দুঁদে গোয়েন্দাদেরও হিমসিম খেতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন- সিটেই পরে রইল 'পরিচয়পত্র', মা ফ্লাইওভারে গাড়ি থামিয়ে মরণঝাঁপ চালকের...

কেমন করে বাঁচাবেন অ্যাকাউন্টের টাকা? গোয়েন্দারা কি বলছেন? সাইবার  বিশেষজ্ঞ অভিষেক মিত্র জানিয়েছেন, ‘‘সব থেকে আগে মানুষের লোভ কন্ট্রোল করতে হবে। উৎসবের মরশুমে অনেক সময় খাবার ফ্রি এ সব দেখে অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করেন অনেকেই। আর তাতেই বিপদের ফাঁদ। সাধারণ মানুষকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে।’’

এ ধরণের সাইবার প্রতারনা রুখতে গোয়েন্দাদের পরামর্শ-

# অজানা অচেনা অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিৎ না।

#যে কোনও নম্বরের জন্য গুগল সার্চ বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালের / Amazon / Flipkart সাইটে  ঢুকে নম্বর নিন। 

#ফোন KYC আপডেটের  জন্য বললেও ফোন থেকে আপডেট করবেন না। সরাসরি নির্দিষ্ট স্টোরে ( ভোডাফোন / এয়ারটেল ) গিয়ে KYC-র ব্যাপারে কথা বলা দরকার।

# অজানা লিঙ্ক থেকে মেসেজ এলে ক্লিক করবেন না।

# পাসওয়ার্ড স্ট্রং রাখা দরকার।

# পার্সোনাল ডিটেলস (ডেট অফ বার্থ, ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি, রেসিডেন্টস  অ্যাড্রেস ) ফেসবুকে বা সোশ্যাল সাইটে শেয়ার করা ঠিক নয়।  

# অচেনা নম্বর থেকে কেউ ভিডিও কল করলে ফোন ধরা উচিৎ না।

#সাইবার প্রতারণা ক্ষেত্রে এই সাইটে অভিযোগ জানাতে পারেন।www.cybercrime.gov.in  | সিআইডি সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানাতে ফোন করতে পারেন - 033 24506124 নম্বরে |  কলকাতা  পুলিশে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানাতে পারেন, 033 2214 3000 ৷ প্রতারকদের  নিত্য নতুন কৌশল সামাল দিতে দুদে গোয়েন্দাদের কপালেও ভাজ পড়ছে। তবে শুধুই  পুলিশ প্রশাসনের উপর দায়ভার চাপালেই চলবে না, সাইবার ক্রাইমের  হাত থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের পাশাপাশি নিজেরা সচেতন হলে তবেই সাইবার প্রতারকদের জাল বিস্তার আটকানো সম্ভব।

ARPITA HAZRA 

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: