হঠাৎ বিপর্যয়ে সব শেষ, ২০০ বছরের স্মৃতি জড়ানো ইতিহাস এখন ধ্বংসস্তূপের নীচে

এক ধাক্কায় মুছে যাবে ২০০ বছরের ইতিহাস, ধ্বংসস্তূপেই বাঘের ছাল, মোটা থামের দালান, দাবার ছক কাটা শ্বেত পাথরের মেঝে, লন্ডন থেকে আনা পিয়ানো আরও কত কী..

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Sep 09, 2019 09:34 PM IST
হঠাৎ বিপর্যয়ে সব শেষ, ২০০ বছরের স্মৃতি জড়ানো ইতিহাস এখন ধ্বংসস্তূপের নীচে
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Sep 09, 2019 09:34 PM IST

#কলকাতা: দুর্গা পিতুরি লেনে পাশাপাশি তিনটি বাড়ি। সবই শীল পরিবারের। একটি বাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। বাকি দুটিও ভেঙে ফেলা হবে। প্রতিটি বাড়ি ঘিরেই ছিল ইতিহাস। ছিল নানা কাহিনি। হাজারো স্মৃতি। অনেক ছেলেবেলা। পিয়ানোর টুংটাং। বারান্দায় দৌড়াদৌড়ি। হঠাৎ বিপর্যয়ে সব শেষ।

সামনে পুজো, মেয়ের বিয়ে, সেই সব ছেড়ে এখন শেষবেলায় স্মৃতি বাঁচানোর লড়াই ৷ গত মঙ্গলবার চোখের সামনে নিজেদের বাড়িটাকে ধুলোয় মিশে যেতে দেখেছেন। এখনও চোখ বুজলেই সেই দৃশ্যটা ভেসে ওঠে। মনে পড়ে যায় পুরোন কথা.... শ্বেতপাথরের সেই মেঝে, বিদেশ থেকে আনানো খাট, লন্ডন থেকে কেনা সেই পিয়ানো ৷ চোখের জল মুছে নিলেও গলা থেকে আক্ষেপটা মুছল না এবাড়ির কনিষ্ঠ সদস্যের ৷ ‘সেই ৬-৭ বছর থেকে পিয়ানো বাজাই ৷ পিয়ানোটা এখন ধ্বংসস্তূপের তলায় ৷’

এই তিন তলা বাড়ির পাশে আরও দুটি বাড়িতে শীল পরিবারের সদস্যরা থাকতেন। হলুদ বাড়িটি ভেঙে পড়েছে। বাকি দুই বাড়িতে এমনই ফাটল যে ভাঙা ছাড়া উপায় নেই। শেষ হয়ে যাচ্ছে পুরনো দিনের কত কথা....না জানা নানা ইতিহাস ৷ ‘বউবাজারে তখন জঙ্গল। শীল ও মতিলাল পরিবার এসে দুর্গা পিতুরি লেনে থাকা শুরু করে। বাড়ির বয়স দেড়শো-দুশো বছরের কম নয়। সার্কাসে বুকে হাতি দাঁড়ায়। এখন বুকে সেই যন্ত্রণা হচ্ছে ৷’

শীল পরিবারের ছাপাখানার ব্যবসা। তিনতলা যে বাড়িটি গত সপ্তাহে ভেঙে পড়ে, তার নীচে ছিল একটি ছাপাখানাটি। আরেকটি ছাপাখানা যে বাড়িতে, সেটাও ভেঙে ফেলা হবে। তিনটি বাড়ি মিলিয়ে চল্লিশটির কাছাকাছি ঘর। বিরাট পরিবার। পুজোর সময়ে বাড়িগুলি গমগম করত। সব এখন স্মৃতি। সব মনে পড়ছে। জল আসছে চোখে।

শীল পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, শুধুমাত্র ঠাকুরের মূর্তির গায়েই কয়েক লক্ষ টাকার গয়না ছিল। সে সবই ধ্বংসস্তূপের নীচে। তাই, কেএমআরসিএলের কাছে তাদের আর্জি, ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় যেন একটু নজর দেওয়া হয়।

First published: 09:33:32 PM Sep 09, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर