সাহসিকতার পুরস্কার, গালোয়ানে শহিদ ২০ জন জওয়ানের নাম জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধতে

photo/toi

গালোয়ানে শহিদদের জন্য জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে নাম লেখানো হল। পাকিস্তানের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধে এবং চিনের সঙ্গে যুদ্ধে যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁদের নাম তো আগে থেকে ছিলই। এবার সেই বীরদের তালিকায় যুক্ত হল গালোয়ান বীরদের নাম।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: চিনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যে কুড়ি জন জওয়ান প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের আগেই সম্মানিত করেছিল ভারত সরকার। শোনা যাচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন তাঁদের পরিবারকে বিশেষ সম্মান দেবে সরকার। তার আগেই অবশ্য দুর্দান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হল।

    গালোয়ানে শহিদদের জন্য জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে নাম লেখানো হল। পাকিস্তানের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধে এবং চিনের সঙ্গে যুদ্ধে যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের নাম তো আগে থেকে ছিলই। এবার সেই বীরদের তালিকায় যুক্ত হল গালোয়ান বীরদের নাম। যদিও ওই শহিদদের নামে একটি স্মৃতিসৌধ আগেই তৈরি হয়েছিল দূর্বুক শায়ক দৌলত বেগ অল্ডির ১২০ নম্বর ইউনিট লেভেল পোস্টে।

    দিনটা ছিল পনেরো জুন। প্রতিপক্ষের সংখ্যা ২৫০-এর বেশি। সেখানে কর্নেল বি সন্তোষ বাবুর নেতৃত্বে ভারতীয় জওয়ান ছিলেন মেরেকেটে ৫০ জন। পরে দু'পক্ষের আরও জওয়ান এলেও চিনারা পাল্লায় এগিয়েছিল। সঙ্গে তারা কাঁটাতার, পেরেক নিয়ে প্রস্তুত ছিল। শুধু একটা দিক দিয়েই সেই পরিস্থিতি এগিয়ে ছিলেন সন্তোষ বাবুরা - অদম্য সাহস। আর তাতেই ভর করে সাত ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিজেদের এলাকা ধরে রাখলেন ভারতীয় জওয়ানরা। তারপর হাতাহাতি যুদ্ধ। নীচে বয়ে চলা নদীতে পড়ে গেলেন অনেকে। ভারত নিজের কুড়ি জন বীর যোদ্ধাকে হারিয়েছিল বটে, কিন্তু চিনের তরফে সংখ্যাটা ছিল তিরিশের বেশি। চিন আজ পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্বীকার করেনি নিহতের সংখ্যা।

    কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করে ওই রাতে হাতাহাতি সংঘর্ষে তিরিশের বেশি চিনা সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। পরে অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায় ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত এক চিনা সেনার কবর। ওপরে খোদাই করে নাম, বয়স এবং ঠিকানা লেখা। চিনে সমালোচনা শুরু হয়ে যায় জিনপিং সরকারের। ভারত নিজেদের শহিদ সেনাদের সম্মান জানাতে পারলে চিন কেন পারছে না প্রশ্ন ওঠে জনতার মধ্যে।

    কিন্তু জিনপিং সরকার ভেবেছিল নিহত সেনাদের সংখ্যা জানা গেলে দেশে বিদ্রোহ শুরু হয়ে যাবে। তারপর থেকে আট মাস হয়ে গেল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি এখনও। দুই দেশ কেউ এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নয়। ভারত মৌখিক আলোচনা চালালেও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে চিন আগ্রাসন দেখিয়েছে, সুতরাং আগে জায়গা খালি করতে হবে তাঁদের। না হলে ভারতীয় সেনার সরে যাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: