ভূতে পাওয়া কলকাতা, কিস্তি ৩: কে যেন তিনতলার কাঠের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে...! খট খট খট !

ভূতে পাওয়া কলকাতা, কিস্তি ৩: কে যেন তিনতলার কাঠের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে...! খট খট খট !

খোদ কলকাতায় ভূতেদের 'নাগরিকত্ব' সেই সাহেব আমল থেকে !

  • Share this:

#কলকাতা: খোদ কলকাতায় ভূতেদের 'নাগরিকত্ব' সেই সাহেব আমল থেকে! শহরের অলিতে গলিতে তাদের নিয়ে অনেক গা ছমছমে গল্পের শেষ নেই! কমতি নেই জল্পনা কল্পনারও ! তারা ঘাড় মটকায়, সাদা শাড়ি মুড়ে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকে, উলটো পায়ে হাঁটে, নাকি সুরে কথা বলে...! কিন্তু ভূতেরা যে গান শুনতেও ভালবাসে তা জানা যায় গারস্টিন প্লেসে আকাশবাণীর পুরনো অফিসে তাদের বসবাসের কথা প্রসঙ্গে! এখন অবশ্য সেই বাড়িটা আর নেই! AIR-এ মিশে গিয়েছে!

তা পুরনো দিনের কথাতেই ফেরা যাক! এই গারস্টিন প্লেস বিবাদী বাগ ছাড়িয়ে পশ্চিম দিকে যেতে যে ছোট আদালত, তার উল্টো দিকে দক্ষিণমুখো একটা রাস্তা-- জর্জ চার্চের গা-লাগোয়া। বাড়িটার পাশেই চার্চের বিশাল বাগান। কবরখানা বলে কথা-- নির্জন, গা ছমছমে তো হবেই ! তিনতলা বাড়ির দোতলা আর তিনতলা ভাড়া নিয়েছিল ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি। কলকাতার এই স্টুডিওর প্রথম দায়িত্বে ছিলেন ওয়ালিক সাহেব, পরে স্টেপলটন সাহেব।

সেদিন নিজের চেয়ারে বসে ওয়ালিক সাহেব কীসব যেন ভাবছিলেন ! সামনে জোড় হাত করে দাঁড়িয়ে কেয়ারটেকার জগমোহন--সাহেবের খুব পেয়ারের! হাত দুটো জোড় করা কিন্তু চোখ দুটো যেন ঠেলে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে! ভয়ার্ত গলায় তিনি বলছিলেন, গত রাতে ওপরের সব ঘরে চাবি লাগিয়ে, একেবারে নীচের তলায় সিঁড়ির খোপটাতে চৌপায়ায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন! রোজকার মতোই! হঠাৎ খট খট খট আওয়াজ...! ঘুম ভেঙে গেল! কে যেন তিনতলার কাঠের সিঁড়ি বেয়ে বুট পরা পায়ে নেমে আসছে...! খট খট খট! প্রথমে ভেবেছিলেন চোরটোর কেউ ঢুকেছে...! দামি যন্তরপাতি সব আছে! তাই সাহসে ভর করে লাঠি ঠুকতে ঠুকতে তিনতলার সিঁড়ি পর্যন্ত উঠে গিয়েছিলেন জগমোহন! কিছু ঠাহর করতে পারেননি! কিন্তু যখন নীচে নামতে শুরু করলেন... পেটের নাড়িভুঁড়ি প্রায় দলা পাকিয়ে পাথরের মতো হয়ে গিয়েছে!

স্পষ্ট দেখলেন, যে খাটিয়ায় তিনি শুয়েছিলেন সেটা মেঝে থেকে শূন্যে দুলতে দুলতে এগিয়ে চলেছে! ঠিক যেমন করে শ্মশানবন্ধুরা মড়ার খাটিয়া বয়ে নিয়ে যায়। খাটিয়ায় শুয়ে এক আবছায়া ছায়ামূর্তি...

ওয়ালিক সাহেবের পাশেই বসেছিলেন প্রোগ্রাম এগজিকিউটিভ ব্যানার্জি সাহেব। তিনি জগমোহনের কথা শুনে ইংরেজি বাংলা মিশিয়ে সাহেবকে বলেছিলেন, 'ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড স্যর, জগমোহন মনে হয় রাতে একটু হেভি ডোজের গাঁজা টেনেছিল!'

সেই ব্যানার্জি সাহেবই একদিন শিতের ঘন কুয়াশা ঢাকা রাতে রেকর্ড বাজানো শেষ করে স্টুডিও থেকে বেরচ্ছিলেন। হঠাৎ কবরখানার দিকে নজর পড়তেই চমকে গেলেন! একট আবছা ছায়ামূর্তি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারপর দেখলেন, লাউঞ্জে সারবেঁধে রাখা চেয়ারগুলোর মধ্যে একটা চেয়ার একবার উপরে উঠছে, একবার নীচে নামছে! পরের দিন ইংরেজি কাগজে খবর বের হল-- A.I.R spook frightens employees.

আরেকদিনের কথা...!

এক ইংরেজ মহিলা ঘোষিকা চেয়ারে বসে হঠাৎ দেখতে পেলেন তাঁর চেম্বারের পুরু কাচের জানলার পাশেই ফাঁকা স্টুডিওতে এক বিদেশি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে।
তিনি রেগে চেয়ার ছেড়ে প্রথমে ডিউটি অফিসার এবং পরে দারোয়ানকে বকা দিলেন বাইরের লোককে না বলেকয়ে স্টুডিওতে ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য! তাঁরা এককথায় ঘোষিকার কথা অস্বীকার করলেন! তাঁরা কাউকেই স্টুডিওতে ঢোকান নি! মহিলা ভাবলেন, তাহলে কি ভুল দেখলেন?

স্টুডিওতে ফিরে গিয়ে ফের বাইরে চোখ ফেলতেই আবার সেই দীর্ঘদেহী ছা্য়ামূর্তিটা... 'হুজ দেয়ার?' চেঁচিয়ে উঠলেন মহিলা! মূর্তির কোনও নড়ন-চড়ন নেই, তারপর আচমকা গায়েব!

এরপরই নতুন বড়ি বনে উঠে এল আকাশবাণী! পুরনো বাড়িতে ভূতেদের মায়া, নতুনে নয়! তাই বোধহয় এই বাড়িতে আর তাদের আনাগোনার খবর মেলেনি!

ভূতে পাওয়া কলকাতা, কিস্তি ১ পড়তে ক্লিক করুন-ভূতে পাওয়া কলকাতা, কিস্তি ১: একটা হাত ঝুলছে পালকির বাইরে, কাঁধ থেকে বইছে রক্ত...

ভূতে পাওয়া কলকাতা, কিস্তি ২ পড়তে ক্লিক করুন-ভূতে পাওয়া কলকাতা, কিস্তি ২: সমস্ত নিস্তব্ধতাকে চিরে একটা তীব্র আওয়াজ উঠেছিল--চিঁহি চিঁহি...

First published: 04:37:40 PM Mar 02, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर