• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Second Generation Covid 19 Vaccine: কোভিডের দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা কী? কীভাবে কাজ করবে?

Second Generation Covid 19 Vaccine: কোভিডের দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা কী? কীভাবে কাজ করবে?

বিশ্ব জুড়ে জীবনযাত্রা তখনই স্বাভাবিক হবে, যখন কোভিড ১৯-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা (Second Generation Covid Vaccines) আসবে।

বিশ্ব জুড়ে জীবনযাত্রা তখনই স্বাভাবিক হবে, যখন কোভিড ১৯-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা (Second Generation Covid Vaccines) আসবে।

বিশ্ব জুড়ে জীবনযাত্রা তখনই স্বাভাবিক হবে, যখন কোভিড ১৯-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা (Second Generation Covid Vaccines) আসবে।

  • Share this:

#কলকাতা: জাইডাস ক্যাডিলার (Zydus Cadila) কোভিড টিকা জাইকোভ-ডি (ZyCoV-D) দিতে সূচের প্রয়োজন হয় না। অন্য দিকে, সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (SII) করোনার বিরুদ্ধে প্রথম প্রোটিন সাবইউনিট টিকা (Protein Subunit Vaccine) তৈরির জন্য মার্কিন সংস্থা নোভাভ্যাক্সের (Novavax) সঙ্গে জোট বেঁধেছে।

এক বছরের বেশি হয়ে গিয়েছে করোনাভাইরাসের টিকাকরণ শুরু হয়েছে। বর্তমানে পরবর্তী প্রজন্মের কোভিড টিকা আনার লক্ষ্যে কাজ করছে টিকা তৈরি করা নানা সংস্থা। যাতে আরও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দেওয়া যায়। অনেকেই বলছেন, বিশ্ব জুড়ে জীবনযাত্রা তখনই স্বাভাবিক হবে, যখন কোভিড ১৯-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা (Second Generation Covid Vaccines) আসবে।

কেন আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা দরকার?

বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা প্রায় ২ ডজন কোভিড টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে ইতিমধ্যেই। আর সেই সব টিকা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organisation) জানিয়েছে যে ১২০টি বেশি টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে।

২০০টির বেশি টিকা প্রাক-ক্লিনিকাল পর্যায়ে রয়েছে। অতিমারীকে রুখতে অভূতপূর্ব গতিতে টিকা তৈরির কাজ চলছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। নতুন নতুন গবেষণা সামনে আসছে। সেগুলিকে পর্য়ালোচনা করে আরও উন্নত ও কার্যকর টিকা তৈরির কাজে নেমে পড়েছে একাধিক ফার্মা সংস্থা। ফলে আগে যা সময় যেত টিকা তৈরিতে, এখন তার চেয়ে অনেক কম সময় লাগছে।

আরও পড়ুন- মারাত্মক আকার নিয়েছে বায়ু দূষণের মাত্রা, এর জন্যই কি ভাইরাল জ্বরের বাড়বাড়ন্ত

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চিনের (China) উহানে প্রথম করোনার মানব সংক্রমণ ধরা পড়ে বলে অনুমান করা হয়। প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার ১২ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা তৈরি করা হয়েছিল। এর আগে সবচেয়ে দ্রুত টিকা তৈরি করা হয়েছিল ষাটের দশকে। সেটা ছিল মাম্পস-এর টিকা (Mumps Vaccine)। যা তৈরিতে প্রায় চার বছর লেগেছিল।

এখন দ্রুত সংক্রমণ রোখার তাগিদ ও পূর্ব গবেষণাপত্রগুলির নাগাল পাওয়ার দৌলতে টিকা তৈরিতে সময় কম লাগছে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ফাইজার (Pfizer-BioNTech) ও মডার্নার (Moderna) প্রাথমিক টিকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বেশ কয়েকটি দেশ ব্যবহার করেছিল কোভিডের প্রথম ঢেউয়ের সময়েই।

তবে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে পুরোপুরি ১০০ শতাংশ কার্যকর কোনও টিকাই এখনও পর্যন্ত আসেনি। আর তাই ফাঁক পূরণ করার তাগিদে চলছে দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা তৈরির কাজ। যা করোনার যে কোনও সম্ভাব্য মিউটেশনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে।

দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা কী ভাবে সাহায্য করবে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী এবং গবেষক, সবাই একমত যে বর্তমানে ব্যবহার হওয়া টিকাগুলি কোভিড অতিমারির প্রভাব সীমিত করতে ও বিশ্বব্যাপী সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে কার্যকর হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, টিকাকে গুরুতর রোগ, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর বিরুদ্ধে সর্বোত্তম উপায় হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাই অতিমারীর বিরুদ্ধে সাফল্য টিকার প্রাপ্যতা এবং রোল আউটের উপরেই নির্ভর করবে।

বিশেষজ্ঞরা যেমন উল্লেখ করেছেন, প্রাথমিক ভাবে তৈরি হওয়া টিকাগুলি কোভিডের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকরী হয়েছে। তবে, এতে আরও উন্নতির প্রয়োজন আছে, বিশেষ করে করোনার নতুন রূপগুলির বিরুদ্ধে লড়তে। যখন প্রথম টিকাকরণ শুরু হয়েছিল, তখন অনেক কিছুই অজানা ছিল। উদাহরণস্বরূপ, টিকার দ্বারা তৈরি হওয়া অনাক্রম্যতা কত দিন স্থায়ী হবে এবং তারা নতুন রূপের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর হবে ইত্যাদি। তবে, এটাও উল্লেখ করতে হবে যে দ্রুততার সঙ্গে টিকা আনা হলেও সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও আপোস করা হয়নি।

আরও পড়ুন- দিনের মধ্যে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা উপোস, আদৌ তরতরিয়ে কমবে ওজন

ভাইরাস সম্পর্কে নতুন তথ্য, নতুন রূপগুলি আবির্ভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুস্টার ডোজ (Booster Dose) দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানিয়েছিল স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি। বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই বুস্টার ডোজ দিতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকাগুলিকে কয়েকটি নির্দিষ্ট উদ্বেগের সমাধান করতে হবে, যার মধ্যে প্রথমটি হল- বর্তমান ও ভবিষ্যতের যে কোনও রূপের বিরুদ্ধে তাদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা।

কোভিডের প্রাথমিক প্রভাবশালী স্ট্রেনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রজন্মের টিকা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কোভিডের আলফা (B.1.1.7), বিটা (B.1.351), গামা (P.1) এবং ডেল্টা (B.1.617.2) স্ট্রেনের বিরুদ্ধে ওই টিকার কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে। যদিও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এখনও পর্যন্ত চালু থাকা সমস্ত টিকা এই স্ট্রেনগুলির বিরুদ্ধে লড়তে পারে।

দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা যে বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টা করছে তা হল সরবরাহের সুবিধা। কারণ, এখন যে সমস্ত টিকাগুলি রয়েছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি টিকাকে বিশেষ ভাবে সংরক্ষণ করতে হয়। তাই যে সমস্ত দেশে টিকা সংরক্ষণের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই, সেই সমস্ত দেশে ওই টিকাগুলি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বিশ্ব হয় তো কখনই করোনাভাইরাসকে সম্পূর্ণভাবে হারাতে পারবে না। পরিবর্তে রোগের সঙ্গে বাঁচতে শিখতে হবে। এখন এমন একটি টিকার অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে যেটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা দিতে পারে।

একটি সমাধান হল- সর্বজনীন করোনাভাইরাস টিকা (Universal Coronavirus Vaccine) তৈরি করা, যেটি ভাইরাসের সমস্ত স্ট্রেন ও রূপের বিরুদ্ধে রক্ষা করতে পারে৷ প্রকৃতপক্ষে, বিজ্ঞানীরা 'মাল্টিভ্যারিয়ান্ট ভ্যাকসিন' (Multivariant Vaccines) তৈরিতে কাজ করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিটস্টোন এই ধরনের টিকা তৈরিতে কাজ করছে। যা করোনাভাইরাসের স্পাইক এবং নন-স্পাইক প্রোটিন (Non-Spike Proteins) উভয়কেই টার্গেট করবে।

এই স্পাইক প্রোটিন (Spike Protein) দিয়েই ভাইরাস মানুষের কোষ আক্রমণ করতে এবং কোষের ভিতরে ঢুকতে ব্যবহার করে। ভাইরাসের এই স্পাইক প্রোটিনকে টার্গেট করতেই বর্তমানে ব্যবহৃত সমস্ত টিকা তৈরি করা হয়েছে। যাতে মানুষকে সংক্রামিত করার জন্য ভাইরাসের যে ক্ষমতা, সেটাকে ভোঁতা করে দেওয়া যায়। তবে, ভাইরাসের বেশিরভাগ ভ্যারিয়্যান্ট তার স্পাইক প্রোটিনে বদল এনে টিকার কার্যকারিতাকে ব্যর্থ করতে দিতে পারে।

যেহেতু এমআরএনএ টিকার (RNA Vaccines) অনাক্রমতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে, তাই বিশেষজ্ঞরা বুস্টার শটের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। কিন্তু, বিশ্বব্যাপী বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনও টিকা নেননি। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ধনী দেশগুলিকে বুস্টার শট দেওয়া এই মুহূর্তে বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ এসএআরএনএ (saRNA Vaccines) টিকা তৈরি করেছে। যা নিলে কোনও বুস্টার শটের প্রয়োজন হবে না এবং এটি আরও কম খরচে বিপুল পরিমাণে তৈরি করা যেতে পারে। নোভাভ্যাক্স বলেছে যে তাদের প্রথম প্রোটিন সাবইউনিট ভ্যাকসিন (Subunit Vaccines) রোল আউটের জন্য প্রস্তুত।

এমআরএনএ টিকার মতো সাবুনিট টিকাগুলিও তৈরি করা তুলনামূলকভাবে সহজ এবং ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সংরক্ষণ করা যায়। যা উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব রয়েছে এমন দেশে বিতরণ করা সহজ। আমেদাবাদের জাইডাস ক্যাডিলা বিশ্বের প্রথম ডিএনএ প্লাজমিড টিকা তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেলেও এখনও দেশের টিকাকরণ অভিযানের অংশ করা হয়নি এই টিকাকে।

এদিকে, দ্বিতীয় প্রজন্মেই শেষ নয়। উন্নত কোভিড টিকা তৈরির কাজ আগামীদিনেও জারি থাকবে। একজন বিশেষজ্ঞ যেমন উল্লেখ করেছেন, তৃতীয় প্রজন্মের টিকা তৈরি করা হবে কোভিডের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী লড়াইকে সামনে রেখে৷ আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এই টিকা তৈরির কাজ শুরু হতে পারে।

First published: