• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • আইনি পদক্ষেপ থেকে আহতদের ক্ষতিপূরণ, গাড়ি দুর্ঘটনা নিয়ে এই তথ্যগুলো জেনে রাখুন

আইনি পদক্ষেপ থেকে আহতদের ক্ষতিপূরণ, গাড়ি দুর্ঘটনা নিয়ে এই তথ্যগুলো জেনে রাখুন

ঠিক কী কী মানা উচিৎ, কী নিয়ম এক্ষেত্রে বর্তায়, জানাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রাচী মিশ্র (Prachi Mishra)

ঠিক কী কী মানা উচিৎ, কী নিয়ম এক্ষেত্রে বর্তায়, জানাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রাচী মিশ্র (Prachi Mishra)

ঠিক কী কী মানা উচিৎ, কী নিয়ম এক্ষেত্রে বর্তায়, জানাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রাচী মিশ্র (Prachi Mishra)

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: দেশের প্রতিটি বড় শহরে পথ দুর্ঘটনা নিত্য বিষয়। একাধিক বিধি নিষেধ জারি থাকলেও, রোড সেফটি নিয়ে একাধিক প্রচার করা হলেও এই ছবিতে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি।

পথ দুর্ঘটনা ও তার সঙ্গে একাধিক বিষয় জড়িয়ে থাকে। ইন্সিওরেন্স থেকে চিকিৎসা ব্যবস্থা, হাসপাতালে পৌঁছানো থেকে সিট বেল্টের নিয়ম, ঠিক কী কী মানা উচিৎ, কী নিয়ম এক্ষেত্রে বর্তায়, জানাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রাচী মিশ্র (Prachi Mishra)।

দুর্ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব কাদের?

কোনও পথ দুর্ঘটনা হলে, প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ করার ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের দায়িত্ব গাড়ির মালিক বা গাড়ির চালকের।

গোল্ডেন আওয়ার কী?

আহত হওয়ার পর থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত সময়কে গোল্ডেন আওয়ার বলা হয়ে থাকে। গুরুতর আহত যে কাউকে বাঁচানোর সব চেয়ে মূল্যবান সময় এটা।

গোল্ডেন আওয়ার ও ক্যাশলেস ট্রিটমেন্ট-

মোটর ভেহিকেল (সংশোধনী) আইন, ২০১৯-এর ১৬২ (১) ধারা বলছে, এই গোল্ডেন আওয়ারে আহতদের ক্যাশলেস ট্রিটমেন্ট করতে হবে।

যদি দুর্ঘটনার সময়ে কারও ইন্সিওরেন্স করা না থাকে-

উপরিউক্ত ধারা অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির দাবি করা টাকা, চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত, তা গাড়ির মালিক বা চালককে দিতে হবে। যা তার ইন্সিওরেন্স পলিসিতে থাকা বাধ্যতামূলক।

যদি গাড়ি কোনও বন্ধুর কাছে ছিল বা শুধু চালকের কাছে ছিল, তাহলে-

যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন তাঁকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩৩৭, ৩৩৮ ও ৩০৪ (a) ধারায় শাস্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি মোটর ভেহিকেল আইন, ১৯৮৮ ধারায় গাড়ির চালককে পেনাল্টি দিতে হবে।

যদি গাড়ি এমন কারও কাছে থাকে, যার কোনও বৈধ লাইসেন্স নেই-

এক্ষেত্রে গাড়ির চালক ও মালিক দু'জনকেই এর দায় নিতে হবে। এবং ক্ষয়ক্ষতির ভার নিতে হবে।

যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক কারও দ্বারা এই দুর্ঘটনা ঘটে?

গাড়ির মালিক বা ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক যুবক বা যুবতীর অভিভাবককে এক্ষেত্রে দায় নিতে হবে। তবে, যদি তাঁরা প্রমাণ করতে পারেন, যে এই ঘটনা ওই যুবক বা যুবতীর ইচ্ছাকৃত নয়, তাহলে এর দায় মালিক বা অভিভাবকের উপরে পড়বে না। পাশাপাশি ওই যুবক বা যুবতীর যদি লার্নার লাইসেন্স থাকে বা লার্নার লাইসেন্সের আবেদন করে থাকে, মোটর ভেহিকেলের ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনার দায় মালিকের উপরে যাবে না। যদি এই ঘটনায় শুধু অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই যুবক বা যুবতীরই দায় হয়, তা হলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।

যদি কেউ ব্যক্তিগত ভাবে আহত বলে আবেদন জানায়, তাহলে কি তাকে আদালতে যেতে হবে?

যদি গাড়ির চালকের ইন্সিওরেন্স কোম্পানি আহত যা চাইছে তা দিতে রাজি হয় এবং বিষয়টি মিটিয়ে নিতে চায়, তা হলে আদালতে যাওয়ার দরকার পড়বে না। যদি তা না হয়, তাহলে যেতে হবে।

আহতদের কত ক্ষতিপূরণ দিতে হয়?

যদি দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়, তা হলে মোটর ভেহিকেল (সংশোধনী) আইন, ২০১৯-এর ১৬৩A ও ১৪০ ধারা অনুযায়ী আবেদন করা যেতে পারে। ১৬৩A ধারা অনুযায়ী, ৫ লক্ষেরও বেশি টাকা দাবি করা যেতে পারে কিন্তু ১৪০ ধারায় নির্দিষ্ট অর্থই পাওয়া যায়।

যদি দুর্ঘটনার সময়ে যিনি আহত হয়েছেন বা যাঁর মৃত্যু হয়েছে, তিনি সিট বেল্ট পরে ছিলেন না, তা হলে কি এই একই ভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যেতে পারে?

এক্ষেত্রে রাজ্য বিশেষে আলাদা আলাদা নিয়ম আছে। কয়েকটি রাজ্যে পথ সুরক্ষার নিয়ম না মানলে, বা আহতের ভুল থাকলে ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে অর্থের পরিমাণ কমে।

যদি কেউ মারা যান-

এই ক্ষেত্রে গাড়ির চালকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৬০ কোডের ৩০৪A ধারা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়।

Prachi Mishra

First published: