• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • EXPLAINED: করোনাকে জব্দ করছে আমাদেরই শরীরের টি কোষ, দাবি নতুন গবেষণায়

EXPLAINED: করোনাকে জব্দ করছে আমাদেরই শরীরের টি কোষ, দাবি নতুন গবেষণায়

টি কোষ একটি হত্যাকারী কোষ হিসাবে কাজ করে, যা ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত কোষগুলিকে আক্রমণ করে।

টি কোষ একটি হত্যাকারী কোষ হিসাবে কাজ করে, যা ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত কোষগুলিকে আক্রমণ করে।

টি কোষ একটি হত্যাকারী কোষ হিসাবে কাজ করে, যা ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত কোষগুলিকে আক্রমণ করে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনাভাইরাসের (Coronavirus) ওমিক্রন প্রজাতি (Omicron Variant) বিশ্বজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। দেশে দেশে নতুন করে নানা বিধিনিষেধ জারি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সর্বত্রই চিন্তিত যে কোভিডের সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার (Health Systems) উপর বিপুল চাপ আসতে চলেছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি হতে পারে যদি না সংক্রমণের গতি রোখা যায়। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় এই ছবি ভারতে দেখা গিয়েছিল। আমরা এটা জানি যে সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিলে কী ধরনের ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু কেউ কেউ এই তত্ত্বে নিজেদের সান্ত্বনা দিচ্ছে যে ওমিক্রন মারাত্মক সংক্রমণযোগ্য হলেও ডেল্টা প্রজাতির চেয়ে হালকা সংক্রমণ ঘটায়। পূর্ববর্তী সংক্রমণ থেকে বা টিকা নেওয়ার মাধ্যমে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে, আর তা ওমিক্রনের সংক্রমণকে গুরুতর করতে দিচ্ছে না। এই দাবিটি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি গবেষণায় সমর্থন পেয়েছে। গবেষণায় পুরো কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে টি কোষকে (T-cells)। এরা না কি ওমিক্রনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। কিন্তু, টি কোষ কী?

গবেষণায় কী পাওয়া গিয়েছে?

দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) গবেষকরা গত বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে প্রচুর সংখ্যক মিউটেশন-সহ একটি নতুন প্রজাতির উত্থানের বিষয়টি প্রথম জানান। এই গবেষকরা সম্প্রতি জানিয়েছেন যে টি কোষ সফলভাবে ওমিক্রন প্রজাতিকে বাধা দেয়। টি কোষ হল মানুষের ইমিউন সিস্টেমের (Immune System) একটি অংশ। ওমিক্রনের বিস্তৃত মিউটেশন রয়েছে এবং অ্যান্টিবডিকে (Antibody) এড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও, টি কোষ এই ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটা বলা হচ্ছে যে এক্ষেত্রে ক্রস-রিকগনিশন হয়। ক্রস-রিকগনিশন (Cross-recognition) বা ক্রস-রিঅ্যাকটিভিটি হল এমন একটি ঘটনা যেখানে একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (Antigen) টার্গেট করার জন্য তৈরি হওয়া সুরক্ষা অন্য অ্যান্টিজেনকেও মেরে ফেলতে সফল হয়।

রিপোর্টে বলা হয়েছে যে গবেষকরা টেস্ট টিউবে এই পরীক্ষা চালিয়েছেন। জনসন অ্যান্ড জনসন (Johnson & Johnson) বা ফাইজার-বায়োএনটেকের (Pfizer-BioNTech) টিকা নিয়েছেন বা টিকা নেয়নি, অথচ আগে অতিমারীর শুরুর দিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন স্বেচ্ছাসেবকদের শরীর থেকে টি কোষ সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ওমিক্রনের মিউটেশনগুলি এটিকে অ্যান্টিবডি থেকে বাঁচতে সাহায্য করতে পারলেও শরীরের দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা লাইনের থেকে সে পালাতে পারে না। অ্যান্টিবডি সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যর্থ হলে টি কোষ কাজে নামে। এই পরিস্থিতিতে টি কোষ ভাইরাসকে আক্রমণ করে। শরীরের কোষে প্রবেশ করার সময়ে এটি বাধা দেয়। গবেষকরা উপসংহারে পৌঁছেছেন যে টি কোষগুলি ওমিক্রন প্রজাতিকে চিনতে এবং আক্রমণ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। টি কোষ ওমিক্রন সংক্রমণকে গুরুতর হতেও বাধা দেয়।

ইমিউন সিস্টেমের কী ধরনের প্রতিরক্ষা আছে?

এটি মনে হতে পারে যে করোনাভাইরাস প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এড়ানোর একটা অভ্যাস করে তুলেছে। প্রকৃতপক্ষে ভাইরাসের মতো রোগজীবাণুর (Pathogen) বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দুই স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলেছে, তথাকথিত প্রতিরক্ষার প্রথম লাইন হল শরীরের সহজাত অনাক্রম্যতা। যা যে কোনও সংক্রমণের সাধারণ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। সাম্প্রতিক গবেষণায় এটাও দেখা গিয়েছে যে টিকা এবং পূর্বের সংক্রমণের মাধ্যমে প্রাপ্ত দ্বিতীয় সারির প্রতিরক্ষা (টি কোষ এবং বি কোষ) এড়াতে এটি ততটাও সফল নয়। ভাইরাস আসলে অভিযোজিত অনাক্রম্যতার মুখোমুখি হয়। যেমন, সেলুলার প্রতিক্রিয়া, অর্থাৎ টি কোষ এবং অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে নির্মিত একটি সংক্রমণের নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া, যা মেমোরি বি কোষ (B Cells) হিসাবে পরিচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, যদি সহজাত অনাক্রম্যতা একটি প্যাথোজেন ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে মেরে ফেলার জন্য আঘাত করে তবে, সেলুলার এবং অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া সাধারণত ছয় থেকে আটদিন পরে শুরু হয়। টিকা এবং পূর্বের সংক্রমণ থেকে সেরা ওঠা ব্যক্তিরা আবারও সংক্রমণের মুখোমুখি হলে টি কোষ ও বি কোষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় এবং রোগের কারণ ঘটার আগেই ইমিউন সিস্টেম কার্যকরভাবে একটি সংক্রমণকে পরিষ্কার করতে পারে। আমাদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য টিকা এই ইমিউন মেমোরি ব্যবহার করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union ) সংস্থা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (European Centre for Disease Prevention and Control) জানিয়েছে যে সংক্রমণ বা টিকা নেওয়ার পরে অভিযোজিত প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা প্রদান করে। মেমোরি বি কোষগুলি ভাইরাস বা ভাইরাস-সংক্রমিত কোষগুলিকে নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন শ্রেণীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে। মেমোরি টি কোষগুলি অ্যান্টিবডি উৎপাদন সাহায্য করে এবং ভাইরাস-সংক্রমিত কোষগুলিকে মেরে ফেলতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

টি কোষ কী?

টি কোষ হচ্ছে মানবদেহের শ্বেত রক্তকণিকার (White Blood Cells) কোষ। এরা ভাইরাস আক্রান্ত কোষকে আক্রমণ করে অথবা সেগুলো ধ্বংসের জন্য অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সহায়তা করে। টি কোষ ভাইরাসের সমগ্র স্পাইক প্রোটিনকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে। উল্লেখ্য, উচ্চ মাত্রায় মিউটেশন হওয়া ওমিক্রনেও এই প্রোটিন স্তর অনেকাংশে একই থাকে। টি কোষ ওমিক্রন ধরন চিনতে এবং একে আক্রমণ করতে অনেক বেশি কার্যকর। সে কারণে জটিল অবস্থায় যাওয়া থেকে রক্ষা পায় ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীরা। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে আমাদের টি কোষ এবং কোভিডের বিরুদ্ধে এর প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে বোঝার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন। প্রাথমিক তথ্যগুলি থেকে জানা যাচ্ছে যে এটি আমাদের রোগের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা প্রদান করতে পারে। টি কোষের কারণে কিছু মানুষ কোভিড থেকে তুলনামূলকভাবে দ্রুত সেরে উঠছে। সেখানে অন্যরা সংক্রমণের পরে কয়েক মাস ধরে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের শিকার হতে থাকছে। টি কোষ একটি হত্যাকারী কোষ হিসাবে কাজ করে, যা ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত কোষগুলিকে আক্রমণ করে। এরা বি কোষের সহায়ক হিসাবে কাজ করে, এরা বি কোষকে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সহায়তা করে।

ঠিক কী কাজ করে টি কোষ?

টি কোষগুলি খুব ব্যাপকভাবে লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম। টি কোষের প্রতিক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও শক্তিশালী হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হল গবেষকরা প্রমাণ করেননি যে টি কোষগুলি তাদের নিজের স্বভাবেই প্রতিরক্ষামূলক কি না। সংক্রমণ বা টিকা দেওয়ার পর শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না তা নির্ধারণ করার জন্য সেরোলজিক্যাল টেস্ট (Serological Test) পরিচালনা করা তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু, টি সেল পরীক্ষার পদ্ধতিগুলির জন্য উচ্চ প্রযুক্তির পরীক্ষাগার প্রয়োজন।

অ্যান্টিবডি হল ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার প্রথম লাইন। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে স্পাইক প্রোটিনকে (Spike Protein) টার্গেট করে অ্যান্টিবডি। স্পাইক প্রোটিনের সাহায্যেই ভাইরাস মানবকোষে প্রবেশ করে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে অ্যান্টিবডিগুলি সম্ভবত খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং সংক্রমণের আট থেকে দশ সপ্তাহ পরেই সেগুলিকে সনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। যার অর্থ এই সময়ের পরে ভাইরাসের আর কোনও তাৎক্ষণিক সুরক্ষা পাওয়া যাবে না। অ্যান্টিবডিগুলি রোগ শুরু হওয়ার ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শনাক্ত করা যায়। ১৪ থেকে ২২ দিন পর্যন্ত মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর পর ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কিন্তু মেমোরি বি কোষগুলি উপসর্গ দেখা যাওয়ার পরেও ২৪২ দিনের বেশি সময় ধরে থাকে। একই ভাবে, মেমোরি টি কোষের বিকাশ দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পথ দেখাতে পারে।

First published: