পথে গায়ের কাপড় ঝুলিয়ে সেনা আগ্রাসন ঠেকাচ্ছেন মায়ানমারের মেয়েরা, সেনার ভয়ের কারণটা ঠিক কোথায়?

পথে গায়ের কাপড় ঝুলিয়ে রেখে সেনার আগ্রাসন ঠেকাচ্ছেন মায়ানমারের মেয়েরা, সেনার ভয়ের কারণটা ঠিক কোথায়?

দেশের প্রাচীন এক ধারণার সাহায্যে এবার মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন দেশের নারীরা।

  • Share this:

#মায়ানমার: সব দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যেই কিছু কুসংস্কারের প্রচলনের কথা শোনা যায়। সেটা খুব একটা অস্বাভাবিকও কিছু নয়। জীবন আর মৃত্যুর ঠিক মধ্যবর্তী ফাঁকটুকুতে নিরন্তর দাঁড়িয়ে থাকেন যে সেনারা, তাঁদের রক্ষাবর্ম হিসেবে নানা সংস্কারের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়া অত্যন্ত স্বাভাবিক এক মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা। সেটা যত প্রাচীন হয়, তার মান্যতাও হয় তত বেশি। সেনাদের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে, দেশের প্রাচীন এক ধারণার সাহায্যে এবার মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন দেশের নারীরা। এই কাজে তাঁরা হাতিয়ার করে তুলেছেন নিজেদের গায়ের কাপড়কে। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় সারং।

সারং কেন আর কী ভাবে সেনার ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে?

সারং মায়ানমারের একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক। এটি সাধারণত ১ মিটার চওড়া এবং আড়াই মিটার লম্বা হয়। জিনিসটা অনেকটা আমাদের দেশের শাড়ির মতো। পরাও হয় সে রকম ভাবেই পাকে পাকে। তবে শাড়ি যেন কাঁধ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পুরোটাই ঢেকে রাখে, সারংয়ের ক্ষেত্রে তা হয় না। এটি পাকে পাকে জড়িয়ে রাখা হয় বুক থেকে কোমরের একটু নিচ পর্যন্ত। আগে মায়ানমারের পুরুষেরাও কোমরের নিচ থেকে পাকে পাকে সারং পরতেন। তবে পরে ধীরে ধীরে এটি কেবলমাত্র মহিলাদের পোশাক হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আর তার সঙ্গে মিশে যায় এক লোকবিশ্বাস।

সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠে যে পুরুষেরা কেন সারং পরা ছেড়ে দিলেন মায়ানমারে! লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, সারং কোনও সাধারণ পোশাক নয়, এর রয়েছে দৈব ক্ষমতা। এটি শরীরে নারীর মতো লাবণ্য এবং নমনীয়তার সঞ্চার ঘটায়। তাই কোনও পুরুষ যদি সারং পরেন, তবে তিনি তাঁর পৌরুষ হারিয়ে ফেলেন বলে মায়ানমার বিশ্বাস করে। তবে এই পৌরুষ হারিয়ে ফেলার ধারণা শুধুই সারং পরার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বলা হয়, যদি কোনও পুরুষ সারংয়ের তলায় কোনও ভাবে চলে আসেন, তাহলেও তাঁর পৌরুষের হানি ঘটবে।

এই লোকবিশ্বাসকে হাতিয়ার করেই এখন মায়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান এবং সেনার আগ্রাসন ঠেকিয়ে রাখছেন মেয়েরা। তাঁরা এলাকার পথের এক ধার থেকে আরেক ধারে সামিয়ানার মতো টাঙিয়ে দিচ্ছেন সারং, যাতে এলাকায় পা রাখলে সেনাকে তার তলা দিয়েই যাতায়াত করতে হয়!

প্রসঙ্গত, ১ ফেব্রুয়ারি মায়ানমারের সেনাবাহিনী দখল করে নেয় ক্ষমতা, দেশ থেকে কার্যত গণতন্ত্রের পতন ঘটে। বন্দী করা হয় ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বা NLD-র অন্যতম প্রধান অং সান সু চি (Aung San Suu Kyi) এবং আরও কিছু নেতাকে। তার পর থেকেই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা ভাবে প্রতিবাদে সামিল হয়েছে দেশ, এর মধ্যেই সাম্প্রতিক সংযোজন হল সারংয়ের ব্যবহার।

Published by:Rukmini Mazumder
First published: