• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Explained: ePassport: ই-পাসপোর্ট কী, কবে ভারতে চালু হতে পারে এই ব্যবস্থা?

Explained: ePassport: ই-পাসপোর্ট কী, কবে ভারতে চালু হতে পারে এই ব্যবস্থা?

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ePassport: বিশ্বের অনেক দেশই ই-পাসপোর্ট চালু করেছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্টগুলি অনেক সুবিধা দেয় এবং অভিবাসন কাউন্টারগুলির কাজে গতি আসে

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ভারতে খুব শীঘ্রই নাগরিকদের জন্য ই-পাসপোর্ট (ePassport) ইস্যু হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এমনই পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) এক শীর্ষ আধিকারিক এই পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের (Ministry of External Affairs) কনস্যুলার, পাসপোর্ট ও ভিসা (CPV) বিভাগের সচিব সঞ্জয় ভট্টাচার্য (Sanjay Bhattacharyya) ট্যুইট করেন, "ভারত শীঘ্রই নাগরিকদের জন্য পরবর্তী প্রজন্মের ই-পাসপোর্ট চালু করবে।" তিনি যোগ করেছেন যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সংক্রান্ত নথিটি সুরক্ষিত বায়োমেট্রিক ডেটার (Biometric Data) উপর ভিত্তি করে করা হবে। যাতে করে বিশ্বব্যাপী অভিবাসন পোস্টগুলির কাজ আরও মসৃণ হবে।

বিশ্বের অনেক দেশই ই-পাসপোর্ট চালু করেছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্টগুলি অনেক সুবিধা দেয় এবং অভিবাসন কাউন্টারগুলির কাজে গতি আসে। তাতে আখেরে যাত্রীদেরই সুবিধা হয়। পাসপোর্ট ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ (Passport Issuing Authorities) ২০১৯ সালে ভারতে এবং বিদেশে ১২.৮ মিলিয়নেরও বেশি পাসপোর্ট ইস্যু করেছিল। এক্ষেত্রে ভারত চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রচারের একটি অংশ হিসাবে বিদেশ মন্ত্রক ৭০টি বিদেশি মিশন এবং পোস্টগুলিতে পাসপোর্ট ইস্যু করার সিস্টেম চালু করেছে। যেগুলি বিদেশে জারি করা মোট পাসপোর্টের ৯৫ শতাংশেরও বেশি।

আরও পড়ুন : করোনা মোকাবিলায় ফের চ্যালেঞ্জ, নয়া ভ্যারিয়ান্ট Flurona নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?

প্রস্তাবিত নতুন ই-পাসপোর্ট ঠিক কী?

বর্তমানে ভারতীয় নাগরিকদের ইস্যু করা পাসপোর্ট বুকলেটে ছাপা হয়। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (International Civil Aviation Organization) কর্তৃক নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার এগুলিকে আপগ্রেড করতে চায়। এই প্রক্রিয়ায় দু'টি স্বতন্ত্র বিষয় আছে। প্রথমটি হল ই-পাসপোর্ট (ePassports), পাসপোর্ট বুকলেটে একটি ইলেকট্রনিক চিপ (Chip) এম্বেড করে নন-ইলেকট্রনিক পাসপোর্টে নিরাপত্তার একটি স্তর যুক্ত করা হবে। পাসপোর্টের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় জীবনী সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও থাকবে। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হল একটি 'ডিজিটাল স্বাক্ষর' (Digital Signature)। যা প্রতিটি দেশের জন্য অনন্য এবং নিজ নিজ শংসাপত্র ব্যবহার করে এটি যাচাই করা যেতে পারে।

ভারত সরকারি আধিকারিক এবং কূটনৈতিক আধিকারিকদের জন্য ২০ হাজার ই-পাসপোর্ট জারি করেছে পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে। পাসপোর্টে ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ রয়েছে। চিপযুক্ত ই পাসপোর্টের উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের জন্য় নাসিকের ইন্ডিয়ান সিকিউরিটি প্রেস (Indian Security Press) এবং ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের (National Informatics Centre) সঙ্গে কাজ করছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। কেন্দ্রের অন্য পরিকল্পনাটি হল সম্পূর্ণ ডিজিটাল পাসপোর্ট চালু করা, যা মোবাইল ফোনেও বহন করা যায়।

আরও পড়ুন : ডেলমিক্রন বনাম ওমিক্রন: কী কী বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি?

অন্যান্য দেশ কি ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে?

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, ১০০টিরও বেশি দেশ এবং অ-রাষ্ট্রীয় সংস্থা, যেমন রাষ্ট্রসংঘ (United Nations) বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করে। ৪৯০ মিলিয়নেরও বেশি ই-পাসপোর্ট চালু আছে বর্তমানে। ভারতের প্রতিবেশী নেপাল ২০২১ সালের নভেম্বরে নাগরিকদের ই-পাসপোর্ট ইস্যু করার কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশ পুরনো মেশিন পাঠযোগ্য পাসপোর্ট ইস্যু করা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দিয়েছে। কয়েকটি দেশের দ্বারা জারি করা ই-পাসপোর্ট হল মেশিন-পাঠযোগ্য ডেটা, যা সাধারণত বারকোডের মাধ্যমে স্ক্যান করা হয়। তা এখন সরাসরি পলিকার্বোনেট কাগজে রূপান্তরিত হয়েছে, যেগুলি দিয়ে পাসপোর্ট বুকলেটের পাতাগুলি তৈরি হয়। পুণের অ্যালাইড মার্কেট রিসার্চ (Allied Market Research) জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ই-পাসপোর্ট বাজারের আকার ২০২০ সালে ছিল ২০.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৭ সাল নাগাদ এটা ৯৭.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে।

ই-পাসপোর্টের সুবিধা কী হবে?

এর ফলে ভ্রমণ নথিগুলির নিরাপত্তাও উল্লেখযোগ্যভাবে আপগ্রেড করা হবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, পাসপোর্ট জালিয়াতি অনেকাংশে রোখা যাবে। যাত্রীদের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে (Immigration Counters) বেশি সময় ব্যয় করতে হবে না। প্রক্রিয়াকরণের কাজে গতি বাড়বে। কারণ, এই ই-পাসপোর্টগুলি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। একই ধরনের সুরক্ষা বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যবহার করে এমন দেশগুলিতে ভারতের ইস্যু করা ই-পাসপোর্টকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। ফলস্বরূপ, পূর্বের ইস্যু হওয়া ভিসা (Visa) ছাড়াই ভারতীয় পাসপোর্টের মাধ্যমে অন্য দেশে আরও বেশি সংখ্যায় ভারতীয় প্রবেশ করতে পারবে, অর্থাৎ বিদেশে যাওয়া ভারতীয়দের সংখ্যাও বাড়তে পারে।

হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুসারে, কোনও দেশের পাসপোর্টের র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী তাদের ধারক পূর্ববর্তী ভিসা ছাড়াই যতগুলি গন্তব্যে প্রবেশ করতে পারে, সেই গন্তব্যের সংখ্যা অনুসারে ভারতীয় পাসপোর্ট বিশ্বব্যাপী ৯০তম স্থানে রয়েছে। একটি বৃহৎ ভূ-রাজনৈতিক শক্তি হওয়া সত্ত্বেও ভারতের র‍্যাঙ্কিং ২০১৩ সালের ৭৪ থেকে নেমে এসেছে। ভারতীয়রা বর্তমানে ৫৮টি দেশে পূর্বের ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারে। পাসপোর্ট ইস্যু করার জন্য প্রয়োজনীয় মোট সময়ও কমিয়ে আনা হয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন-সহ নানা প্রক্রিয়া একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস থেকে তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এই ডেটাবেসের সঙ্গে সমস্ত প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের সংযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন : 6G পরিষেবা আনতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশ? পরিকল্পনা কত দিনে বাস্তবায়িত হবে?

সরকার কেন ডিজিটালাইজেশনের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে?

এই পদক্ষেপটি সরকারি পরিষেবাগুলিকে ডিজিটালাইজ করার জন্য কেন্দ্রের প্রচেষ্টার অংশ। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে ৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ৯৩টি পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র এবং ৪২৪টি পোস্ট অফিসে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র রয়েছে। পাসপোর্ট কেন্দ্রের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১৭। তবুও, পাসপোর্ট কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য দেশের বৃহৎ অংশের নাগরিককে শত শত কিলোমিটার যাতায়াত করতে হয়।

ভারত থেকে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে চলে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। তবে, সেই তুলনায় পাসপোর্ট পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় ফাঁক থেকে যাচ্ছে। সমস্যাটি গুরুতর জায়গায় পৌঁছেছে। ফলস্বরূপ, সরকার প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রের একটি পোস্ট অফিস পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র খোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পরে পরিষেবা অনলাইন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই পোস্ট অফিসে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়েছিল। বদলে সরকার এমপাসপোর্ট সেবা (mPassport Seva) অ্যাপ চালু করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্ত পরিষেবা সরাসরি অ্যাক্সেস করতে পারবে। একইভাবে, এমপাসপোর্ট পুলিশ (mPassport police) অ্যাপটি পুলিশ কর্মীদের জন্য চালু করা হয়েছে।

কবে চালু হবে ই-পাসপোর্ট?

ভারতের ফিজিক্যাল পাসপোর্টের বৈশিষ্ট্য এবং চেহারা আপগ্রেড করার ধারণা বেশ কিছু দিন ধরেই চলছে। ২০১৬ সালে, তৎকালীন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভিকে সিং (VK Singh) বলেছিলেন যে চিপ-এম্বেডেড ই-পাসপোর্ট ২০১৭ সালের প্রথম দিকে চালু করা হবে। তবে, এই উদ্যোগ বেশ কয়েকবার পিছিয়ে গিয়েছে। ২০২০ সালের জুনে বর্তমান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (External Affairs Minister S Jaishankar) বলেছিলেন যে চিপ-ভিত্তিক পাসপোর্ট তৈরির জন্য ক্রয় প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, প্রক্রিয়াটি দ্রুত করা দরকার। বর্তমানে পাসপোর্ট ইস্যু সিস্টেম ব্যবহার করে ভারতের সমস্ত ৩৬টি পাসপোর্ট অফিস ই-পাসপোর্ট ইস্যু করার জন্য প্রস্তুত।

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published: