• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Omicron: ডেলমিক্রন বনাম ওমিক্রন: কী কী বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি?

Omicron: ডেলমিক্রন বনাম ওমিক্রন: কী কী বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি?

ছবি: পেক্সেলস

ছবি: পেক্সেলস

Covid 19: সংক্রমণের নতুন ঢেউ ওমিক্রনের প্রভাবের চেয়ে খারাপ হবে কি না বা এটি আরও বিপদ ডেকে আনতে পারে কি না তা এখনও জানা যায়নি।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের শুরু থেকে অতিমারী শুরু হওয়ার পর বেশ কয়েকবার ভোল বদলেছে করোনাভাইরাস (Coronavirus)। বর্তমানে করোনাভাইরাসের নতুন প্রজাতির নাম ওমিক্রন (Omicron)। এই মারাত্মক সংক্রমণ যোগ্য প্রজাতি বিশ্বজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। তার মধ্যে বিজ্ঞানীরা এখন 'ডেলমিক্রন' (Delmicron) নামের একটি নতুন হুমকির উত্থানের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ইউরোপে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি হয়েছে ডেল্টা (Delta) এবং ওমিক্রন প্রজাতির মিশ্রণের কারণে। তাই এর নাম 'ডেলমিক্রন'। তবে, সংক্রমণের নতুন ঢেউ ওমিক্রনের প্রভাবের চেয়ে খারাপ হবে কি না বা এটি আরও বিপদ ডেকে আনতে পারে কি না তা এখনও জানা যায়নি।

ডেলমিক্রন কি একটি নতুন মিউট্যান্ট প্রজাতি?

ডেলমিক্রন করোনাভাইরাসের একটি নতুন প্রজাতি নয়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে, ডেলমিক্রনকে ডেল্টা এবং ওমিক্রন প্রজাতির সংমিশ্রণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি আলফা, বিটা এবং অন্য প্রজাতির মতো করোনাভাইরাসের একটি নতুন রূপ নয়। এটি দু'টি বিদ্যমান স্ট্রেন- ডেল্টা এবং ওমিক্রনের সংমিশ্রণ। মহারাষ্ট্রের কোভিড-১৯-এর (COVID-19) টাস্ক ফোর্সের সদস্য শশাঙ্ক জোশী জানিয়ছেন, এটি ভাইরাসের নতুন কোনও প্রজাতি নয়। আসলে ব্রিটেন ও আমেরিকার একাধিক জায়গায় একই সঙ্গে করোনার ডেল্টা এবং ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্ট চোখ রাঙাচ্ছে। সুনামির মতো ছড়িয়ে পড়া দু'টি ভাইরাসের দাপট একসঙ্গে বোঝাতেই ডেল্টা ও ওমিক্রনকে জুড়ে ডেলমিক্রন শব্দ জন্ম নিয়েছে। কোভিডের এই দ্বিগুণ রূপ পশ্চিমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ডেল্টা প্রজাতি চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য দায়ী ছিল। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ নিয়েছে এই প্রজাতি। ডেলমিক্রনে গুরুতর সংক্রমণ এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এছাড়াও, সংক্রমণ-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী জটিলতাও থাকতে পারে। সেই জটিলতাগুলি হল-মাথা ঘোরা, পেশিতে ব্যথা এবং চুল পড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

যদিও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) বা ভারতের জাতীয় কোভিড টাস্ক ফোর্স (Indian National Covid-19 Task Force) এখনও পর্যন্ত ডেলমিক্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে, কোভিড সংক্রমণের ক্রমবর্ধমান হার নেটিজেনদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় জাগিয়েছে।

আরও পড়ুন - করোনা মোকাবিলায় ফের চ্যালেঞ্জ, নয়া ভ্যারিয়ান্ট Flurona নিয়ে কী জানা যাচ্ছে

ডেলমিক্রনের উপসর্গ কি ওমিক্রন বা অন্যান্য প্রজাতির থেকে আলাদা?

একটি ডেলমিক্রন সংক্রমণ ঘটে, যখন একজন ব্যক্তি ডেল্টার পাশাপাশি ওমিক্রন প্রজাতিতে সংক্রমিত হয়। এটি একটি পুনঃসংক্রমণের আকারে ঘটতে পারে। যা বিরল হলেও সুরক্ষার ক্ষেত্রে অবহেলা করা যাবে না। এখনও পর্যন্ত ডেলমিক্রনের আলাদা কোনও উপসর্গের কথা জানা যায়নি। কোভিড সংক্রমণ হলে সাধারণ উপসর্গগুলি হল- জ্বর, ক্লান্তি, কাশি, গন্ধ এবং স্বাদের অনুভূতি চলে যাওয়া ইত্যাদি। যত দূর জানা গিয়েছে, তাতে ডেল্টা এবং ওমিক্রনের মতো ডেলমিক্রনের সংক্রমণে কম-বেশি একই উপসর্গ দেখা যায়। সাধারণ উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে- জ্বর, একটানা কাশি, হাঁচি, গন্ধ বা স্বাদের অনুভূতিতে ক্ষতি বা পরিবর্তন, মাথাব্যথা, সর্দি, গলা ব্যথা ইত্যাদি।

ভারতে কি ডেলমিক্রনের প্রাদূর্ভাব ঘটবে?

দ্বিতীয় ঢেউয়ের তরঙ্গের সময় ভারতে বিপুল সংখ্যকে মানুষ সংক্রমিত হয়েছিল ডেল্টা প্রজাতি। যা আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে ডেল্টা সংক্রমণের কারণে। বর্তমানে, ওমিক্রন মামলার বৃদ্ধিও উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী ১১ শতাংশ সংক্রমণ বেড়েছে। ভারতে ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছুঁতে চলেছে। এখনও পর্যন্ত ২৩টি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই প্রজাতি। তবে দেশে এখনও এটির প্রাদূর্ভাব দেখা দেয়নি। অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে ভারতে ওমিক্রন প্রজাতির সংক্রমণ হালকা হতে পারে, যেহেতু বিপুল সংখ্যক মানুষ ইতিমধ্যেই ডেল্টার সংস্পর্শে এসেছে ও প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতা অর্জন করেছে। দেশে এখনও পর্যন্ত ডেলমিক্রনের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ভারতে ওমিক্রন প্রজাতি কী ভাবে আচরণ করবে, তা এখনও দেখা যায়নি। কেউ কেউ এমনও বিশ্বাস করেন যে ওমিক্রন ডেল্টার মতো ভারতকে প্রভাবিত করতে পারবে না। ঠিক কী হবে? তা সময়ই বলতে পারবে।

আরও পড়ুন : ৩০-৪০ বছরে এগ ফ্রিজিংয়ের প্ল্যান? পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

কাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি?

প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু এবং বয়স্ক, সবাই করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ভাইরাসটিই অত্যন্ত সংক্রামক। যারা বয়স্ক এবং আগে থেকেই কোনও রোগে আক্রান্ত বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। তাই কোভিড বিধি ও অন্য সব সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে।

মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি:

টিকা নেওয়া হোক বা না হোক, বর্তমানে সবাই ওমিক্রন সংক্রমণ প্রবণ। নতুন প্রজাতিটি অত্যন্ত সংক্রমণযোগ্য এবং টিকা প্রতিরোধ ক্ষমতা এড়াতে পারে। এটা বিবেচনা করে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, মাস্ক (Mask) পরতে হবে। অন্য লোকেদের থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (Centers for Disease Control and Prevention) মতে, "কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বেশি এমন এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। ভিড়ের মধ্যে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। সম্পূর্ণ টিকা নেয়নি, এমন লোকজনের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। সামাজিক সমাবেশে 'না' বলতে হবে- শীতকাল মানেই মিঠে রোদ গায়ে মেখে বেড়াবার সময়, প্রিয়জনদের নিয়ে ছুটি কাটানোর সময়। তবে, এসব এখনই না করা ভালো। এটি নজর করা গুরুত্বপূর্ণ যে ওমিক্রন প্রজাতি লুকিয়ে আছে এবং দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। তাই সামাজিক জমায়েত এড়াতে হবে, বাড়িতেও পার্টি না দেওয়াই ঠিক হবে। ভিড় এলাকায় যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

বুস্টার শটের ভূমিকা:

বিশ্বজুড়ে কোভিড সংক্রমণের হার বাড়তে থাকায় টিকার বুস্টার ডোজ (Vaccine Boosters) দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় শুরু হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরুও করে দিয়েছে। যার ফলে বুস্টার ডোজের চাহিদা বেড়েছে। ফাইজার-বায়োএনটেক (Pfizer-BioNTech) এবং মডার্না (Moderna)-র মতো টিকা উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি সম্প্রতি ওমিক্রন প্রজাতির বিরুদ্ধে তাদের টিকা ও বুস্টার ডোজের কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি, মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের (Joe Biden) প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউচি (Anthony Fauci) বলেছেন যে নতুন তথ্যে জানা গিয়েছে যে বুস্টার শটগুলি ওমিক্রন প্রজাতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় এবং তাই টিকার আপডেটের প্রয়োজন নেই। ভারতেও এখনও বুস্টার ব্যবহারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্য করোনাযোদ্ধাদের বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হবে। কোমর্বিডিটি থাকা ৬০ বছর বা তার বেশি বয়স্ক ব্যক্তিরাও পাবেন কোভিড টিকার তৃতীয় ডোজ (Third Shot)। এই ঘোষণার সঙ্গে ভারত ১২০টিরও বেশি দেশের তালিকায় যোগ দিয়েছে, যারা ইতিমধ্যে যোগ্য জনগোষ্ঠীকে কোভিড টিকার তৃতীয় শট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) তৃতীয় ডোজকে 'সতর্কতামূলক শট' (Precaution Shot) হিসাবে অভিহিত করেছেন।

First published: