চিনা ডাস্টে ছড়াচ্ছে নতুন আতঙ্ক ! ফের ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখীন পৃথিবী 

এই ধুলো ঝড়ের পর থেকে সেখানকার প্রায় ৩৪১ জন নিখোঁজ। একাধিক জায়গাতেই বাড়ি থেকে বেরোনোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এই ধুলো ঝড়ের পর থেকে সেখানকার প্রায় ৩৪১ জন নিখোঁজ। একাধিক জায়গাতেই বাড়ি থেকে বেরোনোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

  • Share this:

 #বেজিং: চিনের রাজধানী বেজিংয়ের আকাশ-বাতাস ঢেকে গিয়েছে এক হলুদ রঙের ধুলো ঝড়ে। শুধু বেজিং নয়, আশেপাশের শহর ও দেশগুলিও এই ঝড়ের ধ্বংসলীলার সম্মুখীন। ক্রমেই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে বিষ। বিশেষজ্ঞদের কথায় এই দশকের সব চেয়ে ভয়ঙ্কর ধুলো ঝড় এটি। কেউ কেউ আবার চিনা ডাস্ট বলেও ডাকছেন। আসলে কী এই ধুলো ঝড়? জেনে নেওয়া যাক বিশদে!

দশকের সব চেয়ে ভয়ানক ধুলো ঝড়

চিনের আবহাওয়াবিদদের মতে, দশকের সব চেয়ে ভয়ঙ্কর ধুলো ঝড় এটি। ইতিমধ্যেই মঙ্গোলিয়া দিয়ে প্রবেশ করে বেজিং, হুবেই-সহ একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এই বিষাক্ত ধুলো। কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, মঙ্গোলিয়ায় আরও খারাপ পরিস্থিতি। এই ধুলো ঝড়ের পর থেকে সেখানকার প্রায় ৩৪১ জন নিখোঁজ। একাধিক জায়গাতেই বাড়ি থেকে বেরোনোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

চিনা ডাস্ট

আসলে চিন ও অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়ার মরুভূমি থেকে উড়ে এসেছে এই হলুদ ধুলো। এটিকে চিনা ডাস্টস্টর্ম বা এশিয়ান ডাস্ট বলেও ডাকা হচ্ছে। প্রতি বছর মূলত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ভয়ানক রূপ নেয় এই ধুলো ঝড়। চিন থেকে এই ধুলো ঝড় উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের আকাশকেও দূষিত করেছে। এর বিস্তার এতটাই, যে মাঝে মাঝে আমেরিকার বাতাসেও এই ধুলো ঝড়ের অস্তিত্ব মেলে। তবে এবার মার্চ মাসে বইতে শুরু করেছে ধুলো ঝড়। যা যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিন বরাবর মরুভূমিকে দোষারোপ করেছে

এই ধুলো ঝড়ের পিছনে বরাবর গোবি মরুভূমিকে দায়ি করে এসেছে চিন। গোবি মরুভূমি চিনের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ক্রমশ মঙ্গোলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়েছে। এখানেও ধুলো ঝড় দেখা যায়। এ নিয়ে আবার চিনের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছে আমেরিকা। বিশেষজ্ঞদের কথায়, উন্নয়ন আর জনসংখ্যার পালে ভর করে প্রকৃতিকে ভুলতে বসেছে চিন। বিঘার পর বিঘার জঙ্গল কেটে বাড়ি-ঘর, কল-কারখানা তৈরি হয়েছে। ক্রমে দূষণ বেড়েছে, মরুভূমি বেড়েছে। বেড়েছে ধুলো ঝড়ের পরিমাণ।

হলুদ এই ধুলোর পিছনে রয়েছে রাশিয়াও

একাধিক নদীর গতি পরিবর্তনে প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী সোভিয়েন ইউনিয়ন। ইতিমধ্যেই কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানের একাধিক জায়গা শুকিয়ে গিয়েছে। এখানেও আকাশে বাতাসে শুকনো ধুলো ছড়াচ্ছে। এর জেরে প্রতিবেশী দেশগুলিও প্রভাবিত হচ্ছে।

কতটা ভয়ঙ্কর এই ধুলো ঝড়

এ নিয়ে একাধিক সমীক্ষা করা হয়েছে। এর জেরে ধুলোর মধ্যে নানা ধরনের রাসায়নিক যৌগের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এক্ষেত্রে এই বিষাক্ত ধুলোয় ২৪-৩২ শতাংশ সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম, মার্কারি, ক্যাডমিয়াম-সহ একাধিক ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে এগুলি শরীরের ভিতর প্রবেশ করলে ফুসফুসের ক্যানসার হতে পারে। এমনকি শ্বাসকষ্টে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। শিশু বা গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে সরাসরি রক্তে মিশে গিয়ে ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনতে পারে এই ধরনের বিষাক্ত ধুলো।

ধুলো ঝড়ের জেরে বর্তমানে বেজিং-সহ একাধিক শহরের বাতাসের গুণগত মান হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ব জুড়ে নানা দেশের স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর চিন্তায় রয়েছে।

আগে থেকেই একই সমস্যায় জর্জরিত উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া

চিনের হলুদ ধুলো ঝড় ইতিমধ্যেই উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশের হাওয়ায় উপস্থিত ৩০ শতাংশ সালফিউরিক অ্যাসিড ও ৪০ শতাংশ নাইট্রিক অ্যাসিড। দেশ দু'টির দাবি, এই বিষাক্ত উপাদান চিন থেকে আসছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক অভিযোগও এনেছে কোরিয়া। সরব হয়েছে জাপানও। বিশেষজ্ঞদের একাংশের কথায়, এত কিছুর পরও সচেতন নয় চিন। নির্বিচারে অরণ্য ধ্বংস, ইমারত তৈরি ও কল-কারখানার কাজ চলছে। আর এই ফাঁকে মারণ রূপ নিচ্ছে চিনা ধুলো ঝড়।

Published by:Piya Banerjee
First published: