বাবা ট্রাক ড্রাইভার, মেয়ের বি.টেকের পর ১০ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি প্রত্যাখ্যান ! তিনিই এখন সরকারি কর্মকর্তা
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
Dasari Indumathi IES Success Story: অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতির বাসিন্দা ইন্দুমতী তাঁর ভাগ্য নিজেই লিখেছেন বললে ভুল হবে না। একটি সরকারি স্কুল থেকে পড়াশোনা করা ইন্দুমতীর বিদেশে যাওয়ার সুযোগও হয়েছিল, কিন্তু তিনি জাতির সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন এবং নিজের সঙ্কল্পে অটল ছিলেন।
নয়াদিল্লি: শূন্য থেকে শীর্ষে পৌঁছানোর যাত্রা সহজ নয়, বিশেষ করে যখন দারিদ্র্য পথের বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং সামাজিক উপহাস ক্ষতগুলিতে লবণ ছিটিয়ে দেয়। কিন্তু ইন্দুমতীর গল্পটা হার না মানার গল্প, একজন ট্রাক ড্রাইভারের মেয়ের কঠোর পরিশ্রমের গল্প। অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতির বাসিন্দা ইন্দুমতী তাঁর ভাগ্য নিজেই লিখেছেন বললে ভুল হবে না। একটি সরকারি স্কুল থেকে পড়াশোনা করা ইন্দুমতীর বিদেশে যাওয়ার সুযোগও হয়েছিল, কিন্তু তিনি জাতির সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন এবং নিজের সঙ্কল্পে অটল ছিলেন।
ইন্দুমতীর সংগ্রামের এই গল্পটি কেবল একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প নয়, বরং সেই রাতগুলির গল্প যখন কষ্ট তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেছিল, কিন্তু তাঁর চোখে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের আবেগ জ্বলজ্বল করেছিল। এটি সেই কষ্টের গল্প যা একটি পরিবার বছরের পর বছর ধরে নীরবে সহ্য করেছিল, শুধু চেয়েছিল যে তাদের মেয়ের শিক্ষার আলো যেন নিভে না যায়।
advertisement
advertisement
সরকারি পলিটেকনিকগুলির দুর্দশা এবং তাঁর দৃঢ় সঙ্কল্প
দাসারি ইন্দুমতীর শিক্ষাজীবন কোনও ছবির গল্পের চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়। টিটিডি কপিলেশ্বর স্কুলে পড়াশোনা করার পর তিনি তিরুপতি সরকারি পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তীকালে তিনি গুন্টুরের এনআরআই কলেজে একটি সিট পান। সেখানে ইন্দুমতী বি.টেক ডিগ্রি এবং একটি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাঁর টাকার অভাবের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও ইন্দুমতী তাঁর ইঞ্জিনিয়ারিং ভিত্তিকে এতটাই শক্তিশালী করেন যে তিনি তাঁর প্রথম প্রচেষ্টাতেই UPSC IES পরীক্ষায় ৭৫তম স্থান অর্জন করেন।
advertisement
সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন আত্মীয়স্বজনরা
ইন্দুমতীর বাবা তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমের (টিটিডি) একজন চুক্তিভিত্তিক ট্রাক ড্রাইভার। তাঁর বেতন এতটাই কম ছিল যে মাসের শেষের দিকে পরিবারের সবাই খাবার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়তেন। ইন্দুমতী দিল্লিতে প্রস্তুতি নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাঁর পরামর্শদাতা তাঁকে আন্তরিকভাবে উৎসাহিত করেন। আত্মীয়স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকার কোচিং ফি এবং জীবনযাত্রার খরচ মেটান। এর ফলে তাঁর বাবা-মায়ের আর্থিক বোঝা লাঘব হয়।
advertisement
বিদেশে চাকরির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত
view commentsদিল্লির কোচিং সেন্টার আর ধাঁধায় ভরা রাস্তায় ইন্দুমতী নিজেকে ১০x১০ ইঞ্চির ছোট্ট একটা ঘরে আটকে রেখেছিলেন। তাঁর জগৎটা ছিল সেই ঘর আর কোচিং সেন্টারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বি.টেক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি বস্টনের একটি কোম্পানি থেকে ১০ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব পান। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে ওঠেন। তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে তিনি বিদেশের চাকরির চেয়েও ভাল কিছু অর্জন করতে পারবেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ এবং সিদ্ধান্তে বাবা-মা তাঁকে সমর্থন করেছিলেন।
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Jan 08, 2026 4:40 PM IST








