৮ বছরের ব্যবধান, আমিরের হিট তো শাহরুখের সুপারহিট, দেশপ্রেমের দুই ছবি এখনও বার বার দেখেন দর্শকরা
- Published by:Siddhartha Sarkar
- news18 bangla
Last Updated:
Bollywood Best Movies : ছবিটির পরিচালক জন ম্যাথিউ ১৯৯২ সালে চিত্রনাট্যের কাজ শুরু করেন। তিনি সাত বছর এই নিয়ে গবেষণা করেন। আমির খান একবার বলেছিলেন যে জন একটি ইংরেজি নাম এবং তিনি বিজ্ঞাপনের ছবি বানান, তাই তিনি আধ ঘণ্টার বেশি সময়ের ছবি বানাতে পারবেন না এটা তাঁর মনে হয়েছিল!
বলিউড বেশ কিছু অনুপ্রেরণামূলক এবং কাল্ট ছবির জন্ম দিয়েছে। এখন যে দুই ছবি নিয়ে কথা হবে, তা ৮ বছরের ব্যবধানে বক্স অফিসে মুক্তি পায় এবং প্রত্যেক সিনেমাপ্রেমীর প্রশংসা কুড়িয়ে নেয়। এই ছবিদুটো হল সরফরোশ এবং চক দে ইন্ডিয়া। ৩০ এপ্রিল, ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সরফরোশ পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে খোলাখুলি সমালোচনা করেছিল, ছবিতে পাকিস্তান নামটি খোলাখুলিভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। অন্য দিকে, ১০ অগাস্ট, ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চক দে ইন্ডিয়া ব্লকবাস্টার ছিল। প্রথম ছবি হিট হলেও দ্বিতীয়টি সুপারহিট হয়েছিল। দুটি ছবিরই নির্মাণের নেপথ্য কাহিনি বেশ আকর্ষণীয়।
advertisement
প্রথমেই আসা যাক ২৬ বছর আগে মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি ছবি সরফরোশের প্রসঙ্গে, যা পরিচালনা করেছিলেন জন ম্যাথিউ মাথান। গল্প এবং চিত্রনাট্য দুই তাঁর লেখা। গল্পটি শোনার পর পরই আমির খান ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হন। সরফরোশে এছাড়াও মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ, সোনালি বেন্দ্রে এবং মুকেশ ঋষি। যতীন-ললিতের সঙ্গীত ছিল সুপারহিট। ছবিটি মুক্তির পরপরই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কার্গিল যুদ্ধ শুরু হয়। ফলে ছবি বক্স অফিসে ভাল লাভ করে নেয়।
advertisement
ছবিটির পরিচালক জন ম্যাথিউ ১৯৯২ সালে চিত্রনাট্যের কাজ শুরু করেন। তিনি সাত বছর এই নিয়ে গবেষণা করেন। আমির খান একবার বলেছিলেন যে জন একটি ইংরেজি নাম এবং তিনি বিজ্ঞাপনের ছবি বানান, তাই তিনি আধ ঘণ্টার বেশি সময়ের ছবি বানাতে পারবেন না এটা তাঁর মনে হয়েছিল! চিত্রনাট্যটি শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান। নাসিরুদ্দিন শাহ ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তাঁর চরিত্রটি ছিল পাকিস্তানি গজল গায়ক গুলফাম হাসানের, যিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করেন।
advertisement
হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সম্ভবত প্রথমবারের মতো সরফরোশ ছবিতে সরাসরি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্সর বোর্ড আপত্তি জানিয়েছিল, কিন্তু আমির খান এবং ছবির দল এই নামটি পাস করানোর জন্য কঠোর লড়াই করেছিলেন। এসিপি অজয় সিং রাঠোরের চরিত্রে আমির খান সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন। ৮ কোটি টাকা বাজেটে নির্মিত এই ছবিটি বিশ্বব্যাপী ৩৩ কোটি টাকা আয় করে নেয়। ছবিটি একটি জাতীয় পুরস্কার এবং চারটি ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারও জিতে নেয়।
advertisement
চক দে ইন্ডিয়া তেমনই বলিউডের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক ছবি, এই ছবিও বার বার দেখার পরেও অবিস্মরণীয় হয়ে থাকে। ২০০৭ সালের ১০ অগাস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত এই স্পোর্টস ড্রামার পরিচালক শিমিত আমিন, তাঁর জন্ম উগান্ডায়, আমেরিকার ফ্লোরিডায় পড়াশোনা করেছেন তিনি। ছবিটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সেলিম-সুলেমান এবং গানের কথা লিখেছেন জয়দীপ সাহনি। চক দে ইন্ডিয়া টাইটেল ট্র্যাকটি ন্যাশনাল অ্যান্থেমে পরিণত হয়েছে বললে ভুল হবে না। এখন তা প্রতিটি ভারতীয় দলের ম্যাচে, ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক স্তরে, বাজানো হয়। এই গানটি শুনলে খেলোয়াড় এবং দর্শকদের মধ্যে নতুন উৎসাহ জাগে, দেশকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার অনুভূতি জাগ্রত হয়।
advertisement
এই ছবির গল্প লিখেছেন জয়দীপ সাহনি, যিনি এর আগে ‘বান্টি অউর বাবলি’ এবং ‘খোসলা কা ঘোসলা’-এর মতো ছবির গল্প লিখেছেন। ২০০৪ সালে একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে জয়দীপ সাহনির এই ছবি লেখার কথা মনে হয়। চক দে ইন্ডিয়া ছবিতে শাহরুখ খান হকি কোচ কবির খানের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছবিতে শাহরুখ খানের দুর্দান্ত অভিনয় সমালোচকদের দ্বারাও প্রশংসিত হয়েছিল। অবিশ্বাস্য মনে হবে, তবে ছবিটি প্রথমে চার দিন ধরে একেবারে ফাঁকা যাচ্ছিল। যখন ছবিটি মুক্তি পায়, তখন জয়দীপ সাহনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। তিনি যশ চোপড়াকে ফোন করে জানতে পারেন যে সেই শুক্রবার কেউ ছবিটি দেখতে আসেনি। মঙ্গলবার থেকে এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে, দর্শকরা টিকিট কিনতে প্রেক্ষাগৃহের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। চক দে ইন্ডিয়ার গল্পটি আলমোড়ার বাসিন্দা গোলরক্ষক মীর রঞ্জন নেগির জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। নেগি ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসে ভারতীয় পুরুষ দলের হয়ে খেলেছিলেন, যেখানে ভারত ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ১-৭ গোলে হেরেছিল। নেগির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আনা হয়েছিল, এমনকি তাঁকে বিশ্বাসঘাতকও বলা হয়েছিল।
advertisement
ছবির টাইটেল ট্র্যাক তৈরির ঘটনাও রোমাঞ্চকর। সেলিম এবং সুলেইমান এক সাক্ষাৎকারে জানানন যে তাঁরা চক দে ইন্ডিয়া গানের সাতটি সংস্করণ রচনা করেছিলেন। প্রযোজক আদিত্য চোপড়া প্রতিটিই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সেলিম এবং সুলেমান এক পর্যায়ে এসে ছবি ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। তার পর আদিত্য চোপড়া তাঁদের "জুম্মা চুম্মা দে দে, জুম্মা চুম্মা দে দে চুম্মা..." গানটি বাজিয়ে একই ছন্দে সুর রচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেলিম আর সুলেমান এর পর জয়দীপ সাহনিকে ডেকে বলেছিলেন যে তাঁর যা ইচ্ছা গানের কথা হিসেবে স্বতস্ফূর্ত ভাবে লিখে দিন! জয়দীপ সাহনি এবার লেখেন, "কুছ করিয়ে কুছ করিয়ে।" মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে সেই সুর তৈরি হয়েছিল, যা এখন লক্ষ লক্ষ মানুষ গুনগুন করেন।
advertisement
ছবিটির নাম নাইকি ইন্ডিয়ার ট্যাগলাইনের সঙ্গে যুক্ত। জয়দীপ আসলে নাইকি ইন্ডিয়ার ট্যাগলাইন জাস্ট ডু ইট-কে হিন্দিতে চক দে হিসেবে অনুবাদ করেছিলেন। ছবিটির নাম ছিল চক দে, কিন্তু আদিত্য চোপড়া এর সঙ্গে ইন্ডিয়া যোগ করে দেন। ২২ কোটি টাকা বাজেটে নির্মিত এই ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১০১ কোটি টাকা আয় করে- সুপারহিট প্রমাণিত হয়, যার IMDb রেটিং ৮.১। ২০০৭ সালে এটি সর্বকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়ের ছবি ছিল। সানি দেওলের কাফিলা একই দিনে মুক্তি পায়। এই ছবিও দেশপ্রেমের, এখানে সানি দেওল কর্নেল সমীর আহমেদের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হলেও চক দে ইন্ডিয়া এখনও সুপারহিট!






