Home /News /education-career /
Software Development: সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে এপিআই এবং ডেভঅপস-এর ভূমিকা, কেন বেছে নেবেন এই পেশা?

Software Development: সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে এপিআই এবং ডেভঅপস-এর ভূমিকা, কেন বেছে নেবেন এই পেশা?

সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে এপিআই এবং ডেভঅপস-এর ভূমিকা

সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে এপিআই এবং ডেভঅপস-এর ভূমিকা

Software Development: ডেভঅপস মূলত দুটি শব্দের সংমিশ্রণ, ডেভেলপমেন্ট এবং অপারেশন। এর অর্থ হল, কোনও প্রতিষ্ঠানে অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট এবং আইটি অপারেশন টিম যৌথভাবে যে কাজ সম্পাদন করে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ধরা যাক, একটা সুন্দর প্রাসাদ তৈরি করা হয়েছে কিন্তু সেটাকে এলাকার কোনও রাস্তা বা অন্যান্য পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি; তাহলে সেটা দেখতে কেমন লাগবে, কাজই বা কীভাবে করবে! সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রটাও একইরকম। যে কোনও উন্নতমানের সফটওয়্যারের মসৃণ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্যতা বাড়াতে অন্যান্য সামঞ্জস্যপূর্ণ সফটওয়্যারের সঙ্গে একীভূত বা প্লাগ ইন করতে হয়। ক্লাউড সার্ভারে সফটওয়্যার প্লাগ ইন, ইন্টিগ্রেট বা পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলি এপিআই (API) এবং ডেভঅপস (DevOps) নামে পরিচিত। নতুন সফটওয়্যার তৈরির জন্য এটাই সবচেয়ে মৌলিক এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে সফটওয়্যারের বিকাশে এপিআই এবং ডেভঅপস-এর ভূমিকা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।

ডেভঅপস কী

ডেভঅপস মূলত দুটি শব্দের সংমিশ্রণ, ডেভেলপমেন্ট এবং অপারেশন। এর অর্থ হল, কোনও প্রতিষ্ঠানে অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট এবং আইটি অপারেশন টিম যৌথভাবে যে কাজ সম্পাদন করে। অন্য ভাবে বলা যায়, ডেভঅপস হল একটা পদ্ধতি যা সংগঠনের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ, সহযোগিতা, একীকরণ এবং স্বয়ংক্রিয়তা বজায় রাখে। ডেভঅপস পাইপলাইনের মৌলিক উদ্দেশ্য হল, ক্রমাগত কাজের মাধ্যমে সফটওয়্যারের গতি এবং গুণমান উন্নত করা। পাশাপাশি এই পাইপলাইনগুলি একটি মসৃণ ডেলিভারি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যা একটি সুসংগত উন্নয়নশীল পরিবেশ এবং অটোমেশন প্রক্রিয়াগুলির সঙ্গে দক্ষ, স্বচ্ছ এবং সুরক্ষিত।

ডেভঅপস টিম প্রযুক্তিগত প্রকল্পগুলিকে ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে মিলিয়ে বিকাশকারী এবং সিস্টেম প্রশাসকদের মধ্যে বিশ্বাস এবং সংহতি তৈরি করে সংস্কৃতির পরিবর্তনগুলি নিয়ে আসে। তারা ডেভেলপারদের উৎপাদন পরিকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ উন্নত করতে এবং উৎপাদন পরিবেশ বুঝতেও সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: জগদীপ ধনকড়ের আমন্ত্রণে দার্জিলিংয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা! রাজভবনে মমতাও, প্রবল আলোড়ন পাহাড়ে

এপিআই কী

এপিআই-এর অর্থ হল অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস। এটা প্রোগ্রামিং কোডের একটি সেট বা একটি মধ্যস্থতাকারী সফটওয়্যার যা দুটি অ্যাপ্লিকেশনকে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয় এবং দুটি সফটওয়্যার পণ্যের মধ্যে ডেটা ট্রান্সমিশনে সাহায্য করে।

এপিআই-কে সঠিক ভাবে বুঝতে রেস্তোরাঁর মেনুর উদাহরণ দেওয়া যায়। মেনু কার্ড থেকে পছন্দের কোনও কিছু অর্ডার করা যায়। এখন মেনুতে থাকা খাবারগুলি ডেটা হিসেবে পরিবেশন করা হল। আর সিস্টেমের একটা অংশ হল রান্নাঘর, যেখানে অর্ডার অনুযায়ী রান্না হয়। এখন এপিআই হল সেই ব্যক্তি যিনি মেসেঞ্জার এবং রান্নাঘরের মধ্যে লিঙ্ক তৈরি করেন। অর্থাৎ মেনু থেকে অর্ডার নেন এবং রান্নাঘরকে সেটা প্রস্তুত করতে বলেন। এখন রান্নাঘর কীভাবে অর্ডার অনুযায়ী খাবার তৈরি করে তা না জানলেও চলে, তবে এটা কাজ করে এবং অর্ডার অনুযায়ী খাবার চলে আসে।

আরও পড়ুন: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ, পরদিনই ছুটলেন দলের জেলা সভাপতি! কী কাণ্ড ধূপগুড়িতে?

একইভাবে এপিআই একটা অপারেশন এবং ডেসক্রিপশনের লিস্ট যেটা কীভাবে করা হয় সেটা না জেনেই ডেভেলপাররা ব্যবহার করতে পারেন। প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ডেভেলপার এপিআই থেকে ডেটাও সরবরাহ করতে পারে।

এপিআই অনেক প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য এবং মূল্যবান অংশ হয়ে উঠেছে। গুগল, অ্যামাজনের মতো অনেক বড় বড় কোম্পানি নিজেদের জন্য এপিআই তৈরি করে এবং সেটা ব্যবহারের জন্য অন্যদের কাছে বিক্রি করে আয় করে।

ডেভঅপস-এ এপিআই-এর গুরুত্ব কোনখানে?

ক্রমবর্ধমান কর্পোরেট চাহিদার মোকাবিলা করতে ডেভঅপস একা যথেষ্ট নয়। তাই ডেভঅপস এবং এপিআই হাত ধরাধরি করে চলে। এপিআইগুলো ডেভঅপসের ফাংশনে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ডেভঅপস প্রক্রিয়াগুলি এপিআই পরিচালনাকে অপ্টিমাইজ করতে সাহায্য করে।

এপিআইগুলিকে একীভূত করার মাধ্যমে ডেভঅপস থেকে সংস্থাগুলি আরও বেশি মূল্য পেতে পারে। শুধু তাই নয়, ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে এই ফাংশনগুলোকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। একাধিক প্রকল্পে এপিআই পুনরায় ব্যবহার করার এই ক্ষমতা বা পদ্ধতি সময় তো বাঁচায়ই, অর্থেরও সাশ্রয় করে।

এপিআই-এর অটোমেশন কাজে ধারাবাহিকতা আনে এবং খরচ বাঁচায়। অটোমেশনের ফলে হিউম্যান এরর এড়ানোর পাশাপাশি সংস্থাগুলিকে অপারেশনাল দক্ষতা অর্জনেও সহায়তা করে। একটা কাজ যতবারই করা হোক না কেন এপিআই একই ধারাবাহিকতার সঙ্গে সেটা করতে পারে। এইভাবেই অপারেশনাল নির্ভরযোগ্যতা এবং দক্ষতা উন্নত হয়। এপিআই ভিত্তিক সিস্টেমগুলি প্রক্রিয়া-চালিত পদ্ধতি থেকে দ্রুত একটি অটোমেশন-চালিত পদ্ধতি অর্জন করতে পারে।

সংস্থাগুলি এপিআই ব্যবহার করে এমন সিস্টেম তৈরি করতে পারে যা তাদের অ্যাপ্লিকেশন থেকে পাওয়া ডেটার বড় সেট এবং রিয়েল টাইম রিপোর্ট তৈরি করতে পারে।

কারা এপিআই এবং ডেভঅপসে কাজ করে? বেতন কত?

একজন ডেভঅপস ইঞ্জিনিয়ার প্রাথমিকভাবে কোডিং থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণ এবং আপডেট পর্যন্ত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট চক্র জুড়ে চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া, সরঞ্জাম এবং পদ্ধতিগুলি প্রবর্তন করেন।

তাঁরা একটা অ্যাপ্লিকেশন দ্রুত পরিবর্তন করতে এবং নির্ভরযোগ্য রাখতে প্রয়োজনীয় কাজগুলির মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে প্রক্রিয়াটিকে সহজ করে তোলেন। যেহেতু আইটি অপারেশন টিম এবং ডেভেলপমেন্ট টিমগুলির বিভিন্ন উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে, তাই প্রক্রিয়াটিকে সহজ করে তোলা জরুরি। যেমন ডেভেলপাররা একটা অ্যাপ্লিকেশনে নতুন বৈশিষ্ট যুক্ত করতে চাইতে পারেন। অন্য দিকে, অপারেশন টিম অ্যাপ্লিকেশনটি লাইভ হওয়ার পর এটার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায়। একজন ডেভঅপস ইঞ্জিনিয়ার এই দুটি দলের মধ্যে প্রধান লিঙ্ক হয়ে ওঠে এবং সামগ্রিক প্রক্রিয়াটা যাতে মসৃণভাবে হয় তার নিশ্চয়তা প্রদান করে।

গ্লাসডোর অনুযায়ী, ভারতে ২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা-সহ একজন ডেভঅপস ইঞ্জিনিয়ারের গড় বেতন বার্ষিক ৭ লাখ থেকে ৪০-৫০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। প্রার্থীর দক্ষতা, জ্ঞান এবং অবস্থানের উপর ভিত্তি করে এই বেতন আরও বাড়তে পারে।

যোগ্যতা এবং কিছু মৌলিক ডেভঅপস দক্ষতা যা সকল ডেভেলপারদের জানা উচিত

একেবারে এন্ট্রি লেভেলের ডেভঅপস-এর জন্য কম্পিউটার সায়েন্স কিংবা এই সম্পর্কিত অন্যান্য ক্ষেত্রের ডিগ্রি প্রয়োজন। যেখানে কোডিং, কিউএ টেস্টিং এবং আইটি ইনফাস্ট্রাকচার মডেল সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ানো হয়। তবে হায়ার লেভেলে সিস্টেম আর্কিটেকচার এবং সফটওয়্যার ডিজাইনে অ্যাডভান্স ডিগ্রি প্রয়োজন। এটা প্রযুক্তির এমন ক্ষেত্র যা ক্রমশ বাড়ছে এবং বিকশিত হচ্ছে। তাই এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সবসময় নতুন কিছু শেখার জন্য নিজেকে তৈরি রাখা উচিত।

তবে যে লেভেলেরই হোক কিছু মৌলিক দক্ষতা রয়েছে যা প্রত্যেক ডেভঅপস ইঞ্জিনিয়ারদের জানা উচিত। সেগুলি হল:

· বিভিন্ন ডেভঅপস টুল এবং প্রযুক্তির জ্ঞান।

· ডেভঅপস-এর মূল ধারণাটা বোঝা।

· কোডিং এবং স্ক্রিপ্টিং।

· ইন্টিগ্রেশন এবং ডেলিভারির জ্ঞান।

· ক্লাউড সার্ভার বোঝা।

· অটোমেশন এবং নিরাপত্তার জ্ঞান।

· যোগাযোগ এবং সহযোগিতা।

· গ্রাহক কেন্দ্রিক মানসিকতা।

· বিশ্লেষণাত্মক মানসিকতা।

· টেস্টিং স্কিল

· মৌলিক সফট স্কিল।

সারসংক্ষেপ

প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রত্যেকটি সংস্থার কাছে ডেভঅপসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আজকাল প্রায় সব সংস্থাই এপিআই এবং ডেভঅপস নিয়ে কাজ করছে। তাই ডেভঅপস ইঞ্জিনিয়ারদের ভবিষ্যৎ আশাব্যাঞ্জক। সঠিক দক্ষতা থাকলে যে কোনও উৎসাহী ব্যক্তি তাঁর কর্মজীবনের যে কোনও সময় ডেভঅপস ভূমিকা শিখতে এবং মানিয়ে নিতে পারেন।

First published:

Tags: Job, Software Development

পরবর্তী খবর