corona virus btn
corona virus btn
Loading

চা বাগানের পোকা মারার 'মিক্সড ব্লোয়ার'ই এখন জীবাণুমুক্তকরণের অন্যতম হাতিয়ার, তুঙ্গে চাহিদা

চা বাগানের পোকা মারার 'মিক্সড ব্লোয়ার'ই এখন জীবাণুমুক্তকরণের অন্যতম হাতিয়ার, তুঙ্গে চাহিদা

রাজ্যে করোনা থাবা বসানোর পর থেকে বড় বাজারের যে ব্যবসায়ীরা এই যন্ত্র বিক্রি করছিলেন তাঁদের বিক্রি বেড়েছে ।

  • Share this:

#কলকাতাঃ এক সময় যে যন্ত্রের ব্যবহার হত চা বাগানের পোকা মারার কাজে, করোনার জেরে সেটাই এখন স্যানিটাইজ করায় অন্যতম ভরসা । ইদানিং পুলিশ, দমকল ও পুরসভার কর্মীদের পিঠে ব্যাগের মতো একটি মেশিন নিয়ে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে । যা দিয়ে বিভিন্ন এলাকাকে স্যানিটাইজ করছেন তাঁরা । কিছুদিন আগে পর্যন্তও সেই মেশিন শুধুমাত্র ব্যবহার হত চা বাগানে । মালদহের আম বাগানে ভাল ফলনের জন্যও কেউ কেউ ব্যবহার করতেন । মূলত পোকা মারতে এই মেশিন দিয়ে কীটনাশক ছড়ান হত । কিন্তু করোনার জেরে সেই যন্ত্রই এখন হাসপাতাল, বাজার, রাস্তাঘাট এমনকি করোনা আক্রান্তের বাড়ি স্যানিটাইজ করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কাছে অন্যতম ভরসা ।

চা বাগান-আম বাগানের পোকা মারা এই যন্ত্রের আসল নাম 'মিক্সড ব্লোয়ার' । কিন্তু করোনার জেরে এখন তার ডাকনাম স্যানিটাইজার মেশিন । রাজ্যে করোনা থাবা বসানোর পর থেকে বড় বাজারের যে ব্যবসায়ীরা এই যন্ত্র বিক্রি করছিলেন তাঁদের বিক্রি বেড়েছে । ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, স্যানিটাইজার মেশিনের চাহিদা এখন সরকারি ক্ষেত্রেই সবথেকে বেশি । এই ক'দিনে কম করে দুশো যন্ত্র বিক্রি করে ফেলেছে বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা । দীপক রুঙ্গটা নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, "আগে উত্তরবঙ্গের চা বাগান, অসমের চা বাগান এবং দক্ষিণ ভারতের চা বাগান থেকে মালিকরা এই যন্ত্রের বরাত দিতেন । বছরে হাতেগোনা কিছু এই যন্ত্র বিক্রি হত । আমের সময় মালদহে যেত এই যন্ত্র । সারা বছর বিক্রি বলতে এটুকুই । কিন্তু যেদিন থেকে রাজ্যে করোনা থাবা বসিয়েছে সেই থেকেই ফোন আসতে শুরু করেছে দমকল বিভাগ, পুলিশ এবং বিভিন্ন পুরসভা থেকে ।" এই মেশিনে কীটনাশকের বদলে সরকার স্বীকৃত জীবানুনাশক 'সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড' মিশ্রন ভরে স্প্রে করা হচ্ছে স্যানিটাইজ করার জন্য ।

কেন এই যন্ত্র বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে স্যানিটাইজ করতে ?

ওই ব্যবসায়ীর বক্তব্য, সাধারণ পাইপ দিয়ে কীটনাশক স্প্রে করলে জলের মাত্রা বেশি থাকায় তা দেওয়াল বা কোনও জায়গায় সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড মিশ্রণ ভালো মতো ধরে রাখতে পারে না । ফলে রোগ জীবাণু মরার সম্ভাবনাও কম থাকে । এই যন্ত্র দিয়ে স্প্রে করলে তা কুয়াশার মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্দিষ্ট জায়গায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে রোগ জীবাণুদের মারতে সাহায্য করে । তাই এই যন্ত্র এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে ।

শুধু অফিস বা সরকারি জায়গাতেই নয়,  সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেদের বাড়িতেও এই যন্ত্র নিয়ে ব্যবহার করতে পারে এবং ঘরবাড়িকে স্যানিটাইজ করে রাখতে পারে । এখন বাজারে দু'ধরণের যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছে । একটি পেট্রোল চালিত অন্যটি ব্যাটারি চালিত । পেট্রোল চালিত যন্ত্রের দাম প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ব্যাটারি চালিত মেশিনের দাম  সেখানে পাঁচ হাজারের মধ্যে বলেই জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা । মূলত চিন ও ব্রাজিল থেকে আমদানি করা হয় 'মিক্সড ব্লোয়ার' । তবে চিন থেকে এখন আসছে না । শুধু ব্রাজিল থেকেই আমদানি করা হচ্ছে মেশিন । সঞ্জয় রুঙ্গটা নামে অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, "চাহিদা প্রচুর থাকলেও আমদানি এখন কম । শুধু ব্রাজিল থেকেই আসছে । আমরা চেষ্টা করছি এখন সরকারি দফতরকেই এই যন্ত্র সরবরাহ করতে । তাতে একসাথে বেশি মানুষ উপকৃত হবেন ।"

তবে ঘরে ব্যবহারের জন্যেও ইতিমধ্যেই বাজারে চলে এসেছে ছোট 'মিক্সড ব্লোয়ার' । যা হাতে নিয়ে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় স্প্রে করে স্যানিটাইজ করা সম্ভব । দামও সাধ্যের মধ্যেই । ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ঘর স্যানিটাইজ করতে এই ছোট স্যানিটাইজার যন্ত্রই অধিক সুবিধাজনক ।

SUJOY PAL

Published by: Shubhagata Dey
First published: May 16, 2020, 5:33 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर