ব্রিটিশ শাসনের আগে এটি মূলত ছিল ‘কাছারি বাড়ি’। পরবর্তীতে ইংরেজরা একে জেলা কালেক্টরের অফিস এবং ম্যাজিস্ট্রেট ভবন হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। আশ্চর্যের বিষয় হল, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রশাসনিক ভবনের ভোলবদল হলেও, এই ভবনটি আজও তার আদি লাল রং এবং স্থাপত্যরীতি বজায় রেখেছে। আজও এটি জেলা সদরের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে সগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
advertisement
তবে এই লাল বাড়ির বিশেষত্বের নেপথ্যে রয়েছে এক শিহরণ জাগান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৩২ সালে এই ভবনেই রচিত হয়েছিল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক স্বর্ণালি অধ্যায়। তৎকালীন অত্যাচারী ইংরেজ জেলাশাসক রবার্ট ডগলাস যখন এই ভবনে এক বৈঠক পরিচালনা করছিলেন, তখনই দুই নির্ভীক বিপ্লবী প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্য এবং প্রভাংশু পাল, সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে গুলি করে হত্যা করেন। পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল এই ঘটনা।
বর্তমানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রাচীন স্থাপত্যকে সযত্নে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবনের সম্মুখভাগে স্থাপিত হয়েছে বীর বিপ্লবীদের মূর্তি, যা আগত সাধারণ মানুষকে পরাধীন ভারতের সেই বীরত্বগাথার কথা মনে করিয়ে দেয়। মেদিনীপুরের লাল বাড়ি তাই কেবল একটি ইটের ইমারত নয়, এটি জেলার আভিজাত্য, সংগ্রাম এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক অমর স্মারক। যখন বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবন নীল সাদা রঙে পরিণত হয়েছে, তখন নিজের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে প্রশাসনিক এই লাল ভবন। এখনও সেই ভবনের রঙ, বেশ কয়েক দশক আগের সেই ইতিহাস, আজও স্মরণ করিয়ে দেয় ইতিহাসের সেই দিনের কথা।





