বিবেকের এই প্রতিভাকে অলৌকিক কোনও শক্তি বলতে নারাজ তার পরিবার। তাঁদের মতে, এ কেবলই কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য জেদের ফল। মাত্র দু’বছর আগে যোগব্যায়াম শেখা শুরু করেছিল বিবেক। বর্তমানে সে এতটাই দক্ষ যে, দু’হাত মাটিতে রেখে পা উপরে তুলে অনায়াসেই হেঁটে বেড়ায়। এমনকি হাত ছাড়াই শুধু পা ব্যবহার করে চশমা পরে নিতে পারে সে। তার এই নমনীয়তা দেখে গ্রামবাসীদের অনেকেই তাকে ‘হাড়হীন বালক’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন। তবে এই সাফল্যের পথ সহজ ছিল না।
advertisement
আরও পড়ুন: ফাঁকা জমিই এখন টাকার খনি, মাত্র কয়েক মাসেই পকেট গরম করে দিচ্ছে শসা! কম পরিশ্রমে ভাগ্য ফিরছে কৃষকদের
বিবেকের বাবা যুগল মান্না পেশায় একজন সামান্য সেলুন কর্মী। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অভাবের সংসারে পুষ্টিকর খাবার জোটানোই যেখানে বিলাসিতা, সেখানে যোগাসনের সরঞ্জাম বা উন্নত প্রশিক্ষণ একপ্রকার আকাশকুসুম কল্পনা। কিন্তু দারিদ্র্যের ভ্রুকুটিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে এই খুদে প্রতিভা। প্রতিদিন ভোরে উঠে কয়েক ঘণ্টার কঠোর অনুশীলনই তাকে আজ রাজ্য স্তরের একাধিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ছেলের কৃতিত্বে গর্বিত মা-বাবা। বিবেকের বাবা জানান, “সংসারের যা হাল, তাতে ওর স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন। কিন্তু ওর জেদের কাছে আমাদের হার মানতে হয়। অভাব থাকলেও ও কখনও অনুশীলন থামায়নি।” স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বিবেকের এই কৃতিত্ব এখন জেলার গর্ব। বাহারদল টিটিয়ার মত প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এই বিস্ময় বালক আগামী দিনে দেশের মানচিত্রে নিজের জায়গা করে নেবে, এমনটাই আশা স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিবেকের এই লড়াই প্রমাণ করে দেয়, সুযোগ বা সুবিধা নয়, ইচ্ছাশক্তিই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।





