দেবরাজের কাছে সাপ মানে ভয়ের প্রতীক নয়, বরং প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গভীর কুয়ো, বাড়ির ছাদ, কিংবা জালে আটকে পড়া বিষধর সাপ, যেখান থেকে খবর পান, সেখানেই ছুটে যান তিনি। কখনও ৫০, ৬০, ৭০ কিলোমিটার, আবার কখনও ১২০ কিলোমিটার দূরেও পৌঁছে গিয়েছেন শুধুমাত্র একটি সাপকে বাঁচাতে। বিষধর সাপ উদ্ধার করে তার শুশ্রূষা করে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়াই তার একমাত্র লক্ষ্য। শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর নয়, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর এমনকি পার্শ্ববর্তী ওড়িশাতেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। প্রতিদিনই একাধিক সাপ উদ্ধার করে তিনি প্রাথমিক শুশ্রূষার পর জঙ্গলে ছেড়ে দেন।
advertisement
কখনও আবার নিজের কাজও বাদ দিয়ে ছুটে গিয়েছেন সাপ উদ্ধারের নেশায়। তাঁর এই কাজের জন্য কোনও পারিশ্রমিক নেই। যাতায়াত খরচ থেকে শুরু করে সরঞ্জামের ব্যয়, সবটাই বহন করেন নিজের কষ্টার্জিত অর্থে। দেবরাজের হাতেও ফুটে উঠেছে তার ভালবাসার প্রতীক, সাপের ট্যাটু। দেব-দেবীর ছবি নয়, তার শরীরে জায়গা পেয়েছে প্রকৃতির এই অবহেলিত প্রাণী। তিনি শুধু সাপ উদ্ধারই করেন না, মানুষকেও সচেতন করেন। অনেক সময় ভয়ে সাধারণ মানুষ সাপ মেরে ফেলেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
দেবরাজ বোঝান, সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি উদ্ধার অভিযানে থাকে জীবনের ঝুঁকি। তবুও কোনও ভয় তাকে দমাতে পারে না। তার বিশ্বাস, মানুষকে যেমন বাঁচানোর দায়িত্ব রয়েছে, তেমনই বন্য প্রাণীকেও রক্ষা করা মানবিক কর্তব্য। নিজের সীমিত সামর্থ্য নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন এক অনন্য পরিবেশ আন্দোলনে। দেবরাজ চক্রবর্তীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যা প্রমান করে দেয়, ভালবাসা আর সাহস থাকলে একজন সাধারণ মানুষও অসাধারণ হয়ে উঠতে পারেন।





