ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, কয়েকশো বছর আগে রাজাদের শাসনকালেই দস্যুদের দৌরাত্ম্য ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কোথাও অত্যাচারী রাজা, কোথাও আবার প্রজাহিতৈষী শাসক—এই দুই বিপরীত চরিত্রের পাশাপাশি দস্যু আক্রমণের বহু নজির রয়েছে বাংলার ইতিহাসে। তবে এক সময় দস্যু দলপতির নামে গড়বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন এক রাজা—এমন ঘটনা শুনলে বিস্মিত হতে হয়। ইতিহাসবিদদের গবেষণায় উঠে এসেছে, নারায়ণগড়ে এমনই এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়ের কথা।
advertisement
আরও পড়ুন: চাষিদের ‘আইকন’, তাঁর হাতেই কোলাঘাটে রঙবেরঙের ফুলকপি চাষে এসেছিল নতুন দিগন্ত! জানুন পরিচয়
গবেষকদের মতে, নারায়ণগড়ের পাল রাজবংশের সূচনা হয় বাংলার ৬৭১ সনে। সেই সময় এলাকায় খয়রা ও মিজি দস্যুজাতির আতঙ্কে সাধারণ মানুষ তটস্থ ছিল। পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গন্ধর্ব পাল দস্যু দমনের পাশাপাশি তাঁদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। তাঁর পুত্র নারায়ণবল্লভের নাম অনুসারেই ‘নারায়ণগড়’ নামকরণ হয়েছে বলে মনে করেন গবেষকেরা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
নারায়ণবল্লভের পুত্র দেবীবল্লভ ছিলেন আমোদপ্রিয় ও উদার মনের শাসক। তিনি খয়রাজাতিদের প্রতি বিশেষ অনুরাগ দেখিয়ে নারায়ণগড় থেকে কয়েক ক্রোশ দূরে জঙ্গলঘেরা এক মনোরম স্থানে একটি গড়বাড়ি নির্মাণ করান। ইতিহাসবিদদের ধারণা, দস্যু দলপতি বিনায়কের নামেই এই গড়ের নাম হয় ‘বিনয়গড়’। এখানে ছিল প্রমোদ ভবন, হাওয়ামহল, আস্তাবল, বারদুয়ারি ও বৃহৎ ঝিল—যার বাঁধ ‘রণবাঁধ’ নামে পরিচিত।
আজ সেই বিনয়গড়ের অধিকাংশই ধ্বংসপ্রায়। তবু কারুকার্যখচিত ধ্বংসাবশেষ আজও ইতিহাসপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলার এই বিস্মৃত অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।





