দাঁতন ভাগবত চরণ হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মৌমিতা জানা নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বইকে আপন করে নেওয়ার এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছে। ব্রাউন পেপার বা খবরের কাগজে সাধারণ মলাট নয়, তার প্রতিটি বই যেন ছোট্ট একেকটি শিল্পকর্ম। ইতিহাস বইয়ের মলাটে হেরোডেটাস, বাংলা বইয়ে লীলা মজুমদার, অঙ্ক বইয়ে শ্রীনিবাস রামানুজন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মনীষীদের প্রতিকৃতি নিজ হাতে এঁকে সাজিয়ে তুলেছে সে।
advertisement
পেন্সিলের সূক্ষ্ম আঁচড়ে ফুটে উঠেছে জীবন্ত অভিব্যক্তি, যত্ন আর নিষ্ঠার ছাপ। বাড়িতে পড়াশোনার অবসরে কিংবা বিদ্যালয়ে টিফিন টাইমে সে ফুটিয়ে তুলেছে বিভিন্ন মনীষীদের প্রতিকৃতি। ছোটবেলা থেকেই অঙ্কনের তালিম নিচ্ছে মৌমিতা। তবে বইয়ের মলাটকে ক্যানভাস হিসেবে বেছে নেওয়ার ভাবনা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। তার কাছে বই শুধু পরীক্ষার উপকরণ নয়, জ্ঞানের বন্ধু। তাই নতুন বই পাওয়া মানেই নতুন সৃষ্টির আনন্দ। বন্ধুদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও দেখিয়েছে তার এই অনন্য শিল্পকর্ম।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
মিলেছে প্রশংসাও। মৌমিতার এই উদ্যোগ সহপাঠীদের মধ্যেও কৌতূহল ও প্রশংসা কুড়িয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছেও সে হয়ে উঠেছে গর্বের কারণ। ডিজিটাল বিভ্রান্তির সময়েও বইয়ের সঙ্গে সৃজনশীল বন্ধন গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা এক বড় বার্তা দেয়। প্রযুক্তি যতই এগোক, মন আর মেধার বিকাশে বইয়ের বিকল্প নেই। দাঁতনের এই কিশোরী দেখিয়ে দিল, ভালবাসা আর সৃজনশীলতা থাকলে বইয়ের পাতাও হয়ে উঠতে পারে স্বপ্নের ক্যানভাস।





