শতাব্দী প্রাচীন এই গ্রামের অন্যতম পরিচয়ই হল, গ্রামের গাছে ঝুলে থাকা হাজার হাজার বাদুড়। পুকুরপাড়ের কয়েকটি বড় গাছে প্রায় তিন হাজার বাদুড় সারাদিন ঝুলে থাকতে দেখা যায়। দিনের আলোয় বিশ্রাম, সন্ধ্যা নামলেই ডানায় ভর করে উড়ে যাওয়া, আর ডানা ঝাপটানো— গ্রামের মানুষের কাছে এই দৃশ্য একেবারেই স্বাভাবিক। গ্রামবাসীদের দাবি, এই বাদুড়ই তাঁদের গ্রামের শোভা বাড়িয়েছে।
advertisement
নিপা ভাইরাস মূলত বাদুড় থেকে ছড়াতে পারে, এই আশঙ্কায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও ‘বাদুড় গ্রামে’র মানুষজন তাতে মোটেই বিচলিত নন। তাঁদের বক্তব্য, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বাদুড়দের সঙ্গেই তাঁদের বসবাস। আজ পর্যন্ত বাদুড়ের কারণে গ্রামের কোনও মানুষের ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই এই বাদুড় দেখে বড় হয়েছি। আমাদের বাবা-ঠাকুরদারাও এদের সঙ্গে সহাবস্থানে অভ্যস্ত ছিলেন। হাজার হাজার বাদুড় গাছে ঝুলে থাকে, উড়ে বেড়ায়, কিন্তু কখনও আমাদের কোনও ক্ষতি করেনি। তাই এদের তাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না।”
গ্রামবাসীরা আরও জানান, কোনও বহিরাগত কেউ বাদুড় শিকার করার চেষ্টা করলে তাঁরা একজোট হয়ে বাধা দেন। শুধু বাদুড় নয়, কোনও পাখি বা বন্যপ্রাণী শিকারকেও এই গ্রামে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানই তাঁদের সংস্কৃতি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
নিপা আতঙ্কের মাঝেও জঙ্গলমহলের এই গ্রাম যেন এক অনন্য বার্তা দিচ্ছে— ভয় নয়, সচেতনতা আর সহাবস্থানই প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে পারে। ‘বাদুড় গ্রামে’র মানুষের কাছে এই হাজার হাজার বাদুড় আজও আতঙ্ক নয়, বরং গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক।





