বিজেপির চতুর্থ প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে গিরিজা শঙ্কর রায়কে৷ গত ২৪ মার্চ গ্রেটার কোচবিহার পিপলস্ অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মণ বিজেপিকে সমর্থনের কথা প্রকাশ্যে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছিলেন৷ সেদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য৷ ওই দিনই রাজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর রায়ের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন শমীক-শুভেন্দু৷
advertisement
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, পরিচয় ও অধিকার প্রশ্নে রাজবংশী রাজনীতি সামনে আসেন গিরিজা শঙ্কর রায়। রাজবংশী সমাজের সংগঠক ও অধিকার আন্দোলনের মুখ প্রধানত উত্তরবঙ্গ (কোচবিহার–জলপাইগুড়ি অঞ্চল)৷ রাজবংশী সম্প্রদায়ের সামাজিক-রাজনৈতিক অধিকার, উন্নয়ন ও স্বীকৃতির প্রশ্ন তুলে ধরতেন তিনি৷ বিভিন্ন গণআন্দোলন, সংগঠন গঠন এবং সম্প্রদায়ের ঐক্য জোরদারে সক্রিয় ছিলেন৷ উত্তরবঙ্গের রাজবংশী রাজনৈতিক চেতনা গঠনে তাঁর অবদানও উল্লেখযোগ্য বলে মত দলীয় সূত্রের৷ রাজবংশী সম্প্রদায়ের পৃথক পরিচয় ও উন্নয়নের দাবি তুলতেন। উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক সমস্যাগুলি (চাকরি, শিক্ষা, উন্নয়ন) নিয়ে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন৷ তাঁর সময়ে রাজবংশী সম্প্রদায়কে আলাদা রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সংগঠিত করার চেষ্টা হয়, যা পরে বিভিন্ন দল গুরুত্ব দিতে শুরু করে।
বড় রাজনৈতিক দলগুলো রাজবংশী নেতৃত্বকে সামনে আনা ও প্রার্থী বাছাইয়ে সম্প্রদায়ভিত্তিক হিসাব করতে শুরু করে। রাজবংশী সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন গঠনে তাঁর প্রভাব দেখা যায়। কোচবিহার–জলপাইগুড়ি অঞ্চলে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির আলোচনায় তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল বলে জানা যায়৷
প্রসঙ্গত, নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শৈলেন বর্মা৷ এই কেন্দ্রে একর আগে বিধায়ক ছিলেন পরিচিত পদ্ম রাজনীতিক মিহির গোস্বামী৷ একুশের নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছিলেন তিনি৷ তবে শোনা গিয়েছে, মিহির গোস্বামী বর্তমানে শারীরিক ভাবে ভীষণ অসুস্থ৷ তিনি নিজেই এবার নির্বাচনে লড়তে চাননি৷
হুগলির আরামবাগ মহকুমা থেকে গতবারের নির্বাচিত দু’জন বিধায়ককে এ বার আর প্রার্থী করেনি বিজেপি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আরামবাগের বিধায়ক মধুসুদন বাগ এবং গোঘাটের বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক। মধুসুদন বাগের জায়গায় আরামবাগে প্রার্থী হচ্ছেন আরান্ডি এলাকার বাসিন্দা তথা দলের যুবনেতা হেমন্ত বাগ। গোঘাটে বিশ্বনাথ কারককে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে প্রশান্ত দিগেরকে।
বিজেপির তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা বলছে, ছাব্বিশের নির্বাচনে বাদ গেলেন কোচবিহার দক্ষিণ-এর বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দে৷ টিকিট দেওয়া হয়নি ইংলিশবাজারের শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীকেও।
প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, কোচবিহার দক্ষিণ থে্কে বিজেপি প্রার্থী করেছে শ্রী রথীন্দ্রনাথ বোসকে৷ ইংলিশবাজার থেকে প্রার্থী করা হয়েছে অম্লান ভাদুড়িকে৷
ময়নাগুড়িতে প্রার্থী বদল করল বিজেপি। সেখান নতুন প্রার্থী হয়েছেন ডালিম রায়। চৌরঙ্গীতে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া সন্তোষ পাঠক। সিতাই আসনে আশুতোষ বর্মা, নাটাবাড়িতে গিরিজাশঙ্কর রায়, বাগদায় সোমা ঠাকুর, মগরাহাট পূর্বে উত্তমকুমার বণিক, ফলতায় দেবাংশু পাণ্ডা, সোনারপুর উত্তরে দেবাশিস ধর, হাওড়া দক্ষিণে শ্যামল হাতি, পাঁচলা রঞ্জনকুমার পাল, চণ্ডীপুরে পীযূষকান্তি দাস, গড়বেতায় প্রদীপ লোধা, মেমারিতে মানব গুহ এবং বারাবনিতে অরিজিৎ রায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি।
