পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার অন্তর্গত সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা বাপন মান্না। বয়স হয়েছিল ৩৬ বছর। বাবা, মা ও এক বিবাহিত দিদি রয়েছে। পেশায় বাপন একজন প্লাম্বার। বাড়ির একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি। অন্যান্য দিনের মতোই সোমবার সন্ধ্যায় বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে পাড়ার ক্লাবে আড্ডা দিতে গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ তিলপাড়া ব্যারেজে ফের ‘ক্ষত’! ফাটল সারতেই বেরিয়ে এল গর্ত, তড়িঘড়ি বাঁশ দিয়ে ঘেরা হল গুরুত্বপূর্ণ সেতু
advertisement
বাপন মান্না
সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত সাড়ে আটটা থেকে শুরু হয় দুর্যোগ। বইতে থাকে ঝোড়ো হাওয়া। সেই সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত। তখনও বৃষ্টি আসেনি। বৃষ্টি আসার আগেই ক্লাব ঘর থেকে একে একে সবাই যে যার বাড়ি ফেরে। বাড়ির পথে পা বাড়ায় বাপন মান্নাও। ক্লাব থেকে বাড়ি ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বাপনের সামনে ছিল আরও একজন। হাতে ছিল মোবাইল। হঠাৎই চারদিক আলো করে বিকট আওয়াজে বজ্রপাত হয়। আর সেই বজ্রপাতের আঘাতে রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন বাপন।
বন্ধুর চোখের সামনেই বাপনের এমন পরিনিতি। তার চিৎকারে বাড়ির সবাই বেরিয়ে আসেন। ততক্ষণে যা ঘটার ঘটে গিয়েছে। বজ্রপাতের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে বাপনের। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বাপনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বাপনের আত্মীয় মিঠু মণ্ডল জানিয়েছেন, “প্রতিদিনের মতোই বন্ধুদের সঙ্গে ক্লাব ঘরে আড্ডা দিচ্ছিল বাপন। দুর্যোগ শুরু হতে বাড়ি ফিরছিল সবাই। বাপনের বাড়ি থেকে ক্লাব ঘরের দূরত্ব হাঁটা পথে এক মিনিটের। সেই সময়ের মধ্যেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে বাপনের।” বাড়ির একমাত্র পুত্র সন্তান তথা একমাত্র উপার্জনকারী বাপনকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে প্রায় বার্ধক্যে পৌঁছানো বাপনের বাবা-মা।






