বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ছবি, প্রতীক ও স্লোগান দিয়ে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য ব্যানার ও ফ্লেক্স। যা পরে ছড়িয়ে পড়ছে গ্রাম থেকে শহরের অলিতে-গলিতে। ডিজিটাল প্রিন্টিং এখন ভোট প্রচারের এক অত্যন্ত কার্যকরী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। রঙিন, বড় আকারের এবং চোখে পড়ার মতো এই ফ্লেক্স ব্যানার সহজেই মানুষের নজর কাড়ে। ফলে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই প্রচারের ক্ষেত্রে এই মাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম থেকে শুরু করে SUCI প্রতিটি দলের অর্ডারেই এখন ব্যস্ত ছাপাখানাগুলি। জয়নগরের এক ছাপাখানার মালিক শাহাবুদ্দিন ঢালী জানালেন, কাজের চাপ বাড়লেও লাভের অঙ্কটা ততটা সুখকর নয়।
advertisement
তাঁর কথায়, “বর্তমান পরিস্থিতিতে কাঁচামালের দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে এই ব্যবসায়। সারা বছর যে দামে আমরা ফ্লেক্স বিক্রি করি, ভোটের সময় প্রতিযোগিতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তার থেকেও কম দামে দিতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কাঁচামাল সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। “যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাইরে থেকে কাঁচামাল আনতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। ফলে সময়মতো অর্ডার ডেলিভারি দেওয়াও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, বলেন তিনি। অন্যদিকে, কর্মীদের ওপর চাপও বেড়েছে বহুগুণ। এক কর্মী শামীম আহমেদ গায়েন জানান, “দিনরাত এক করে কাজ করতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই ওভারটাইম করতে হচ্ছে। এত অর্ডার যে থামার সুযোগ নেই।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় ফ্লেক্সের দামও কিছুটা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, এই কাজ মূলত নির্বাচন পর্যন্তই চলবে। তারপর আবার কাজ কমে যায়। যদি সারা বছর এই কাজের ধারাবাহিকতা থাকত, তাহলে অনেক বেকার যুবকের রোজগারের সুযোগ তৈরি হত। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগের তুলনায় ডিজিটাল ফ্লেক্সের চাহিদা কিছুটা কমলেও নির্বাচনের সময় তা সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু কাঁচামালের ঊর্ধ্বগতির কারণে ব্যবসায়ীরা বড় মুনাফার আশা করতে পারছেন না। বরং অনেকেই ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। সবমিলিয়ে, ভোটের মরশুমে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন চরমে, তেমনি তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল প্রিন্টিং শিল্পেও। দিনরাত পরিশ্রম করেও বাড়তি লাভের মুখ না দেখে চিন্তায় ছাপাখানার মালিক ও কর্মীরা। তবুও আশা একটাই, নির্বাচনের এই ব্যস্ততা কিছুটা হলেও তাদের আর্থিক সঙ্কট কাটাতে সাহায্য করবে।





