সকাল থেকেই শাকসহর বাজার এলাকা ঘিরে জমে ওঠে রাজনৈতিক উন্মাদনা। সেখান থেকেই হুটখোলা গাড়িতে করে শুরু হয় রোড শো, যা বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে। প্রচারে অংশ নেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক। রাস্তায় দুই ধারে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানান প্রার্থী বাহারুল ইসলাম ও শওকত মোল্লাকে।
গোটা কর্মসূচি ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয় এলাকাজুড়ে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই ভিড়ই প্রমাণ করছে ক্যানিং পূর্বে তৃণমূলের সংগঠন কতটা মজবুত। প্রচার শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত মন্তব্য করেন শওকত মোল্লা। তিনি অভিযোগ করেন, আইএসএফ প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই ভাঙড় এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে।
advertisement
তাঁর দাবি, নির্বাচনী সভায় যাওয়ার পথে তৃণমূল কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন এবং নিয়মিত কটুক্তির শিকার হচ্ছেন। শওকত মোল্লা বলেন, ২০২৩ সালের পর থেকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি করিনি। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু সমাজবিরোধী শক্তি কচি বয়সের ছেলেদের ব্যবহার করে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্বের মানুষ আগামী দিনে এই পরিস্থিতির উপযুক্ত জবাব দেবে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ঘিরে ক্যানিং পূর্বে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল, সেই প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, “পরিবারের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী বাহারুল ইসলাম আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান, ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। তিনি বলেন, “শওকত মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এই সংগঠনকে গড়ে তুলেছেন। আমি তাঁর দেখানো পথেই সাধারণ মানুষের সেবা করতে চাই।”
আরও পড়ুন- বেঙ্গালুরু ভূমি সঙ্কট: এমব্যাসি ডেভেলপমেন্টসকে ৩০ দিনের মধ্যে KIA-র ৭৮ একর জমি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
এছাড়াও আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে কড়া সুরে আক্রমণ শানিয়ে বাহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অতীতে ভাঙড়ে তৃণমূল সংগঠনকে দুর্বল করার পিছনে তাঁর ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, “মানুষ সব দেখছে, এবং সময়মতো তার জবাব দেবে।”
সব মিলিয়ে, ক্যানিং পূর্বে তৃণমূলের এই প্রচার কর্মসূচি এবং পাল্টা রাজনৈতিক তরজা ঘিরে নির্বাচনের আগে উত্তেজনা ক্রমশ তুঙ্গে উঠছে।





