পর্যটকরা জানান, নদীর ধার ঘেঁষে অবস্থানকালে হঠাৎ নজরে আসে একটি বাঘিনী তার দুই শাবককে নিয়ে। বাঘিনী এবং তার শাবকরা এক জঙ্গল থেকে নদী সাঁতার দিয়ে অন্য জঙ্গলে যাচ্ছিল। পর্যটকরা মোবাইলে এবং ক্যামেরায় সেই দৃশ্য ধারণ করার চেষ্টা করেন। বাঘিনী নদীর ধারে এসে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়ায়, আশেপাশ পর্যবেক্ষণ করে এবং তারপর দুই শাবককে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে নদীতে নামে। নদী পার হওয়ার সময় তার সাবলীল এবং শক্তিশালী ভঙ্গি পর্যটকদের দৃষ্টিনন্দন মনে হয়।
advertisement
আরও পড়ুন: রাঙামাটির আসল রূপ! বনজ আর কৃষিজ সম্পদে বীরভূমের সমৃদ্ধ ইতিহাস জানলে অবাক হবেন
পর্যটকরা জানান, পুরো দৃশ্যটি কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ হয়, তবে তা তাদের কাছে আজীবনের স্মৃতি হয়ে যায়। অনেকে বলেন, এমন সুন্দর এবং বিরল অভিজ্ঞতা দেখা তাদের জীবনে একবারই ঘটে। বনভূমির স্বাভাবিক পরিবেশে বন্যপ্রাণীর এই কর্মকাণ্ড পর্যটকদের জন্য এক অনন্য শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতাও বটে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
জেলার মুখ্য বন আধিকারিক (DFO) নিশা গোস্বামী জানান, পীরখালি এলাকা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জন্য পরিচিত। জোয়ার-ভাটার সময় বাঘেরা এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে যাওয়ার জন্য নদী পার হতে পারে। তবে একসঙ্গে বাঘিনী এবং তার দুই শাবকের প্রকাশ্য দর্শন বিরল এবং বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এই ধরনের দৃশ্য পর্যটকরা খুব কমই প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
পর্যটকদের রোমাঞ্চের পাশাপাশি এই অভিজ্ঞতা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণীর আচরণ সম্পর্কে আরও ধারণা দেয়। বনাঞ্চলের প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকরা আশা করছেন, এই ধরনের দৃশ্য ভ্রমণ আকর্ষণকে আরও বাড়াবে। শীতকালীন মরসুমে সুন্দরবনে ভ্রমণকারী পর্যটকরা বাঘের বিচরণ, নদীপথ পারাপার এবং বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখার সুযোগ পাবেন।
পর্যটকরা বলেন, বাঘের সঙ্গে এমন কাছের অভিজ্ঞতা তাদের ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। সুন্দরবনের এ ধরনের বিরল অভিজ্ঞতা স্থানীয় পর্যটন এবং বন সংরক্ষণ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রকৃতিপ্রেমী এবং পর্যটকরা আনন্দিত, কারণ তারা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ অনুভব করতে পেরেছেন।





