ঘটনাটি ঘটে যখন সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় মনোনয়ন জমা দিতে মিছিল সহকারে বারুইপুর মহকুমা শাসকের দফতরের দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই কুলতলী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গণেশ মণ্ডল-এর সমর্থনে আরেকটি মিছিল বারুইপুর থানার সামনে দিয়ে একই গন্তব্যে এগিয়ে আসছিল। হঠাৎ করেই দুই মিছিল মুখোমুখি হয়ে পড়লে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।
advertisement
আরও পড়ুনWB Assembly Election 2026: ভোটের মুখে কড়া নজরদারি! মালদহের রতুয়ায় নাকা চেকিংয়ে উদ্ধার ১৫ লক্ষ টাকা
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর তা গড়ায় স্লোগান যুদ্ধে। উভয় পক্ষই নিজেদের দলীয় স্লোগান দিতে শুরু করে এবং একে অপরকে কটাক্ষ করতে থাকে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে।
এই ঘটনার পর বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, “ওরা আগেই জানত আজ আমাদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন। ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের পথ আটকে ঝামেলা তৈরি করার চেষ্টা করেছে। আমাকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তারা সফল হয়নি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাসকদল পরিকল্পনা করেই এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গণেশ মণ্ডল সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “বিজেপি চক্রান্ত করে বাংলার মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। মানুষ সব বুঝতে পারছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের নির্বাচনে মানুষ জোড়া ফুলে ভোট দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের জয়ী করবে।” তাঁর দাবি, এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারুইপুর থানার পুলিশ। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই পক্ষকেই আলাদা করে দেয় এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যদিও বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তবুও এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও বজায় রয়েছে। ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন মুখোমুখি সংঘর্ষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্ন তোলে বলেও মত তাঁদের। সাধারণ মানুষের একাংশও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সব মিলিয়ে, বারুইপুরে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির এই সংঘর্ষ ভোটের আগেই রাজনৈতিক আবহকে আরও গরম করে তুলল। আগামী দিনে এই উত্তেজনা কতটা প্রভাব ফেলবে নির্বাচনী ফলাফলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
সুমন সাহা





