ভরতগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই মহেশপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একদিকে যেমন বেহাল ও ভগ্ন দশা, তেমনই এখানকার চিকিৎসা পরিকাঠামো যথেষ্ট খারাপ। চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে গ্রুপ ডি কর্মী খাতায়-কলমে সবই থাকলেও সেভাবে হাসপাতালে কারও দেখা মেলে না। এই হাসপাতালে একজন চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে তাঁকেও দেখা যায় না।

আরও পড়ুনঃ চা বাগানে পোকার উপদ্রব ঠেকানোর উপায়! কীভাবে গাছ বাঁচানো সম্ভব, জানালেন চা গাছ বিশেষজ্ঞ

advertisement

চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে অন্যান্য কর্মীরাও ঠিক মতো হাসপাতালে আসেন না। শুধু নিয়ম করে আসেন একজন ফার্মাসিস্ট। সৌরভ জানা নামের ওই ফার্মাসিস্ট নিজেই রোগী দেখেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন। বাসন্তীর ভরতগড় গ্রাম পঞ্চায়েত ও বাসন্তী গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার মানুষের অন্যতম ভরসা এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এই হাসপাতাল দশ শয্যার হলেও বর্তমানে এখানে আউটডোর ছাড়া কোনও চিকিৎসাই হয় না। আউটডোরও চালান একজন মাত্র ফার্মাসিস্ট। তিনি নিজেই রোগী দেখেন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন।

advertisement

View More

স্থানীয়দের দাবি, জ্বর, মাথা ব্যাথা, হাসপাতাল থেকে মূলত রক্তচাপ ও সুগারের ওষুধই পাওয়া যায়। এর থেকে বেশি কোনও অসুবিধা হলে প্রায় ১২ কিমি দূরে বাসন্তী ব্লক গ্রামীণ হাসপাতাল অথবা ৩০ কিমি দূরে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে যেতে হয়। ফার্মাসিস্ট অবশ্য দাবি করেছেন, মেডিক্যাল অফিসার মাঝেমধ্যে হাসপাতালে আসেন। এছাড়া মূলত তিনিই পুরনো প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ দেন। কোনও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেন না।

advertisement

বর্তমানে হাসপাতালের অবস্থা প্রায় ভগ্ন। চারিদিক থেকে পলেস্তারা খুলে পড়ছে, ঘরের মধ্যে, দেওয়ালে, ছাদে গজিয়ে উঠেছে বড় বড় গাছ। মাঝেমধ্যেই ভেঙে পড়ছে ছাদের চাঙড়। বর্তমানে কোনও মতে এই হাসপাতালের একটি মাত্র ঘর ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানেই চলছে আউটডোর বিভাগের রোগী দেখা। তবে সেটিরও বিভিন্ন জায়গায় চাঙড় ভেঙে পড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, আগে এই হাসপাতালে আরও অনেক বিভাগ চলত। কোথায় পরিষেবা আরও উন্নত হবে, সেটা না হয়ে আরও খারাপ হয়েছে। হাসপাতালের বিল্ডিং সংস্কার থেকে শুরু করে হাসপাতালের পরিষেবা উন্নত করার জন্য অনেক আন্দোলনও করেছেন স্থানীয়রা। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁদের। উল্টে হাসপাতাল পানীয় জলের সমস্যাতেও ভুগছে বলে দাবি করেছেন ফার্মাসিস্ট।

advertisement

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

হাসপাতালের এই দুরাবস্থার অভিযোগ অবশ্য মানতে চাননি বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে এই বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিককে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে বিরোধীরা এই নিয়ে শাসকদলকে বিদ্রুপ করতে ছাড়েনি।