হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, যুবকটি মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় নিজের নাম, ঠিকানা কিছুই বলতে পারছিলেন না। ফলে তাকে ‘অজ্ঞাত পরিচয় রোগী’ হিসেবেই ভর্তি রাখা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে এমন গুরুতর রোগীকে সামলানো চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকরা জানান, যুবকটি কথা বলতে গেলেই অকারণে হেসে উঠছেন এবং প্রায়ই কম্বলের মধ্যে মুখ ঢেকে চুপ করে থাকছেন। শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি তার মানসিক অবস্থাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
advertisement
আরও পড়ুনঃ চা বাগানে ঘাপটি মেরেছিল লেপার্ড! ঝাঁপিয়ে পড়ল ‘শিকারের’ উপর, গুরুতরভাবে জখম চা শ্রমিক
অবশেষে মানবিক উদ্যোগেই মিলল বড় সাফল্য। টানা তিন দিন ধরে যুবকের ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই সূত্র ধরেই যোগাযোগ হয় গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ সীমান্ত লাগোয়া দাউড জেলার উচমানিয়া গ্রামের এক পরিবারের সঙ্গে। জানা যায়, যুবকের নাম মুকেশ, বয়স ২২ বছর। ছোটবেলায় মা দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে যান। বাবাও পরে আলাদা সংসার করেন। পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যেই বছর দু’য়েক আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় মুকেশ।
এখন পশ্চিমবঙ্গের একটি সরকারি প্রাথমিক হাসপাতালে তার সন্ধান পাওয়ায় পরিবার আপ্লূত। আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় তাদের এখানে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
চিকিৎসক সুমন মাইতি হ্যাম রেডিও ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের মাধ্যমে অজ্ঞাত যুবকের খবর ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তাঁদের এই মানবিক প্রচেষ্টাতেই অবশেষে নিজের ঘরে ফেরার পথ খুলছে মুকেশের জন্য। খুব শিগগিরই বাংলা থেকে গুজরাটে ফিরবে এই যুবক। এক অজানা জীবন আবার ফিরে পাবে নিজের ঠিকানা।






