এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দা পুলক মন্ডল। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারে থাকা ইলেকট্রিক পোস্টগুলি জঙ্গল ও আগাছায় ঢেকে ছিল। কোথাও ছেঁড়া পোস্টার, কোথাও ময়লা আবর্জনায় ঢাকা লাইটপোস্টগুলির কোনও সৌন্দর্য্য ছিল না। সেই দৃশ্য বদলাতেই পুলকবাবু হাতে তুলি তুলে নেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পোস্টগুলি পরিষ্কার করে সেখানে রঙিন অক্ষরে লেখা হয় অ-আ-ক-খ থেকে শুরু করে ১, ২, ৩ ইংরেজি ও বাংলা সংখ্যা, সঙ্গে সহজ অঙ্কের চিহ্ন।
advertisement
গ্রামের বাসিন্দা মিনতি ভুইয়া জানান, আগে সন্তানদের নিয়ে পাঠশালায় যাওয়ার পথে এই পোস্টগুলির দিকে কেউ তাকাত না। এখন বাচ্চারা হাঁটতে হাঁটতেই অক্ষর পড়ে, সংখ্যা গোনে। অভিভাবকরাও সুযোগ পাচ্ছেন সন্তানদের পড়াতে। এতে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি গ্রামজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ইতিবাচক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। পুলক মন্ডল বলেন, সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষার আলো আরও ছড়িয়ে দিতে ‘এক টাকার পাঠশালা’ চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, বিদ্যাসাগর নাকি মাইলস্টোন দেখে ইংরেজি সংখ্যা শিখেছিলেন। সেই ইতিহাস থেকেই অনুপ্রেরণা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তাই গ্রামের অবহেলিত ইলেকট্রিক পোস্টগুলিকেই শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার ভাবনা আসে। বর্তমানে এলাকার খুদে পড়ুয়ারা এই উদ্যোগে দারুণ খুশি। শুধু পড়ুয়ারা নয়, গ্রামবাসীরাও এই অভিনব প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এভাবে গ্রামের প্রতিটি কোণ যদি শিক্ষার বার্তা বহন করে, তবে আগামী প্রজন্ম আরও সচেতন ও শিক্ষিত হয়ে উঠবে। কুলতলীর দেউলবাড়ীর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে সীমিত সম্পদ নিয়েও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিদ্যাসাগরের আদর্শকে ধারণ করে এক টুকরো গ্রাম আজ শিক্ষার রঙে রাঙিয়ে তুলেছে নিজের পথঘাট।





