হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মদন মিত্রের বার্ষিক আয় ১১ লক্ষ ৬২ হাজার ৭৯০ টাকা। গত পাঁচ বছরে তাঁর আয়ে বেশ ওঠানামা লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে আয় ছিল ১৬ লক্ষ টাকার বেশি, সেখানে পরবর্তী বছরগুলিতে তা কমে ৬-৭ লক্ষ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী অর্চনা মিত্রের আয় ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মাত্র ৭২ হাজার ৮৩০ টাকা। সম্পত্তির হিসাবে দেখা যাচ্ছে, মদন মিত্রের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকার বেশি। স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রায় ৭৪ লক্ষ টাকার সম্পদ। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা, ফিক্সড ডিপোজিট, বিমা পলিসি এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ মিলিয়ে এই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে।
advertisement
এছাড়া তাঁর নামে গাড়ি রয়েছে একটি মারুতি জিমনি (২০২৪ সালে কেনা, মূল্য প্রায় ১২.৯৮ লক্ষ টাকা) এবং একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও (২০০৮ সালে কেনা, মূল্য প্রায় ৭.০৮ লক্ষ টাকা) যেটি স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য তথ্য সামনে এসেছে। মদন মিত্রের নিজস্ব সম্পত্তির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৩৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। গয়নার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, পাথর-সহ সোনা ও রূপার মোট ৭৫ গ্রাম গয়নার আনুমানিক মূল্য ১০,১২,০০০ টাকা। এছাড়া আরও ২৪৪ গ্রাম গয়নার মূল্য প্রায় ৩২,৯০,০০০ টাকা (আনুমানিক বাজারদর) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্ত্রীর নামে।
অন্যদিকে, মদন মিত্রর স্ত্রীর নামে প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তিও রয়েছে। তবে শুধু সম্পত্তিই নয়, হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে মোট ৬টি বিচারাধীন মামলার কথাও। তার মধ্যে আর্থিক তছরূপ ও দুর্নীতির ধারায় মামলাও রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও মামলায় দোষী সাব্যস্ত হননি তিনি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেওয়া ঋণ মোট প্রায় ১৪ লক্ষ টাকার বেশি। সব মিলিয়ে, হলফনামায় মদন মিত্রের মোট সম্পত্তির পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১,৬৮,৫৬,৮৪৫.৮৮ টাকা। পাশাপাশি অন্য একটি অংশে ৭৪,৪৪,৪৬৮.১২ টাকার সম্পদের উল্লেখ রয়েছে স্ত্রীর নামে। সব মিলিয়ে, কামারহাটির এই হেভিওয়েট প্রার্থীর হলফনামা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নির্বাচনের আগে এই তথ্য ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।






