TRENDING:

Inspiring Story: সকালে কলেজ, সন্ধ্যায় খাবারের দোকান! হতদরিদ্র বাবার পাশে দাঁড়াতে লড়াকু মাহির হাড় ভাঙা পরিশ্রম, হার মানাবে সিনেমাকেও

Last Updated:

Siliguri Inspiring Story: সকালে কলেজ, আর সন্ধ্যা হলেই রোজগারের জন্য দৌড়। হতদরিদ্র বাবার পাশে দাঁড়াতে খাবারের দোকান চালাচ্ছে কলেজ ছাত্রী মাহি।

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
শিলিগুড়ি, ঋত্বিক ভট্টাচার্য: কলেজের খাতা আর রান্নার খুন্তি—দুটোই সমান যত্নে সামলাচ্ছে যে মেয়েটি, তার নাম মাহি বারানওয়াল। বয়স কম, কিন্তু দায়িত্ববোধে কোনও কমতি নেই। সূর্যসেন কলেজের আর্টস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই ছাত্রী আজ শুধু পড়ুয়া নন, নিজের পরিশ্রমে বাবার কাঁধের ভার ভাগ করে নেওয়ার সাহসী উদাহরণ।
advertisement

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুন্ডু পুকুর মাঠ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মাহির পরিবার মধ্যবিত্ত। বাবা সন্তোষ বারানওয়াল কাজ করেন একটি মেডিসিন শপে, মা পাপিয়া বারানওয়াল গৃহবধূ, আর ছোট বোন পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। সংসারের টানাপোড়েন খুব নতুন কিছু নয়। সেই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে মাত্র এক মাস আগে এক বড় সিদ্ধান্ত নেয় মাহি—পড়াশোনার পাশাপাশি নিজে রোজগার করবে সে।

advertisement

আরও পড়ুন: অবসর নিলেও থামেনি কলম! আজও বিনামূল্যে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন এই আদর্শ শিক্ষক, স্যালুট জানাচ্ছে এগরা

রান্নার প্রতি ভালবাসা ছোটবেলা থেকেই। নতুন কিছু বানানোর নেশা আর সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা ফুড ট্রেন্ড থেকেই মাথায় আসে অভিনব ভাবনা। সেই ভাবনাকেই বাস্তব রূপ দেয় হাকিমপাড়া নজরুল স্মরণীতে, যেখানে শুরু হয় মাহির ছোট্ট ফুড আউটলেট। শহরে প্রথমবারের মতো সে নিয়ে আসে ভাইরাল ট্রেন্ড BYOB—Bring Your Own Bag। চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই তৈরি হয় এই BYOB। ভেজ আইটেমে পনির, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচালঙ্কা আর বিশেষ মসলার মিশেল, আর ননভেজে পনিরের জায়গায় ঝাল মাখানো চিকেন। দাম মাত্র ৫০ টাকা। কম দামে নতুন স্বাদ—এই দুই মিলেই অল্প সময়ে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাহির স্টল। পাশাপাশি তার নিজের হাতে বানানো কেকও পাওয়া যায় এখানে।

advertisement

View More

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

দিনের রুটিনটা সহজ নয়। সকালে উপকরণ তৈরি করে কলেজ, বিকেলে বাড়ি ফিরে খাওয়া সেরে বাবার স্কুটিতে করেই দোকানের পথে রওনা। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিক্রি, তারপর আবার সেই স্কুটিতেই বাড়ি ফেরা। প্রতিটা দিন এই লড়াইয়ে পাশে থাকেন মা আর ছোট বোন।

advertisement

মাহির কথায় স্পষ্ট আত্মবিশ্বাস, “বাবার পাশে দাঁড়াতেই শুরু। চাইছিলাম বাইরে যা ট্রেন্ডে আছে, সেটা শিলিগুড়ির মানুষকে নিজের হাতে বানিয়ে খাওয়াতে। এখন ভাল সাড়া পাচ্ছি, সেটাই এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।” ভবিষ্যতে নিজের স্থায়ী দোকান বা একাধিক আউটলেট খোলার স্বপ্নও লুকোচ্ছে না তার চোখে। মা পাপিয়া বারানওয়ালের গলায় গর্ব আর আবেগ একসঙ্গে, “মেয়ে পড়াশোনায় ভাল, তাই সবটা সামলাতে পারছে। কখনও খারাপ লাগে এত অল্প বয়সে এত দায়িত্ব নিতে হচ্ছে, কিন্তু জানি ও পারবে। ও একদিন অনেক দূর যাবে।”

advertisement

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
মাত্র ৬০ টাকায় ভরপেট খাওয়া,হাক্কা নুডলসে মেতেছে কালচিনিবাসী
আরও দেখুন

সংগ্রাম, স্বপ্ন আর অদম্য মানসিকতাকে হাতিয়ার করেই শিলিগুড়ির রাস্তায় নিজের পরিচয় তৈরি করছে মাহি। সে শুধু খাবার বিক্রি করছে না—সে প্রমাণ করছে, ইচ্ছে থাকলে পড়াশোনার ফাঁকেও স্বপ্নের স্বাদ ছড়িয়ে দেওয়া যায়।

বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
Inspiring Story: সকালে কলেজ, সন্ধ্যায় খাবারের দোকান! হতদরিদ্র বাবার পাশে দাঁড়াতে লড়াকু মাহির হাড় ভাঙা পরিশ্রম, হার মানাবে সিনেমাকেও
Advertisement
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল