আন্তর্জাতিক স্তরে লেখার সুযোগ পাওয়াও তাঁর পথচলার বড় সাফল্য। সম্প্রতি কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর উপন্যাস। সাহিত্য জগতে ‘সেমিকোলন’ ছদ্মনামে পরিচিত। সাহিত্যের প্রতি ভালবাসাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ইংরেজি অনার্সের ছাত্র প্রীতম ত্রিপাঠী। চণ্ডীপুর এলাকায় বেড়ে ওঠা তাঁর। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি ছিল আলাদা টান। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় প্রথম কলম ধরেন তিনি। তখন থেকেই ডায়েরির পাতায় জমতে থাকে অনুভূতি আর ভাবনা। পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালিখিকে কখনও ছাড়েননি। নানা প্রতিকূলতা, সময়ের অভাব ও সংগ্রামের মধ্যেও থেমে থাকেনি তাঁর সাহিত্যচর্চা।
advertisement
অনুভূতি প্রকাশনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে লেখার সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের বড় অর্জন। সম্প্রতি কলকাতা বইমেলায় প্রকাশ পেয়েছে তার ১২৪ পৃষ্ঠার উপন্যাস ‘বিকৃত ভালোবাসা’। প্রকাশের পর থেকেই পাঠকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে বইটি। সামাজিক সম্পর্ক, আবেগ আর বাস্তবতার মিশেলে তৈরি এই উপন্যাস পাঠকদের মন ছুঁয়েছে। ‘সেমিকোলন’ ছদ্মনামে সাহিত্য জগতে পরিচিত প্রীতমের ঝুলিতে রয়েছে পঞ্চাশটিরও বেশি কবিতা। উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে আছে ‘আসব ফিরে’, ‘জলপট্টি’, ‘উন্মাদনা’ ও ‘ছোবল’। ছোটগল্পের তালিকায় রয়েছে মুখোশ, একাকি, ছাতা, জীবনের টয়ট্রেন, ভ্যালেন্টাইনস ডে ও আলোর ভার।
শুধু লেখক হিসেবেই নয়, সম্পাদক হিসেবেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ। একাধিক কবিতা ও গল্প সংকলন সম্পাদনার কাজও করেছেন তিনি। বিভিন্ন পত্রিকা ও মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর লেখা। আকাশবাণী কলকাতার মতো প্ল্যাটফর্মেও প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর সৃষ্টি।
আরও পড়ুন : এই ঘর থেকেই হত দিবাকরের রাজকীয় উপাসনা, পুরুলিয়ার কাশীপুর রাজবাড়িতে বহু ইতিহাসের সাক্ষী ‘সূর্যঘর’
সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলে দুনিয়ার বাইরে থেকেও যে নিজের প্রতিভা দিয়ে পরিচিতি তৈরি করা যায়, সেই বার্তাই দিচ্ছেন প্রীতম ত্রিপাঠী। তাঁর বিশ্বাস, সাহিত্য মানুষের অনুভূতিকে বাঁচিয়ে রাখে। আগামী দিনে আরও বড় লেখক হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে চলেছে এই তরুণ সাহিত্যসাধক।