মনোতোষ আচার্য পেশায় একজন শিক্ষক। এগরা জ্ঞানদ্বীপ বিদ্যাপীঠের বাংলার শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি কবিতা তাঁর জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। ১৯৯২ সাল থেকে তিনি নিয়মিত কবিতা লিখে চলেছেন। ১৯৯৫ সালে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর ধীরে ধীরে সাহিত্যজগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। ২০০৪ সালে কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। সেই শুরু, তারপর একে একে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একাধিক কাব্যগ্রন্থ। ‘জোনাকিগ্রাম’ এবং ‘কান্নাধোয়া তন্ডুলের স্বাদ’ তাঁর উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
advertisement
এখন পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কবিতার বইয়ের সংখ্যা আটটি। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন একাধিক সম্মান ও পুরস্কার। ২০১১ সালে রামকৃষ্ণ মিশন থেকে পান ‘বিবেকানন্দ শিক্ষা পুরস্কার’। ২০১৭ সালে অর্জন করেন ‘কবি নিত্যানন্দ পুরস্কার’। ২০১৮ সালে ‘সৃজন সম্মান’ এবং ২০১৯ সালে ‘সোপান সাহিত্য পুরস্কার’। তবে পুরস্কার নয়, তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল নতুন প্রজন্মের মধ্যে কবিতার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা। তিনি বিশ্বাস করেন, কবিতা মানুষের মনন গড়ে তোলে এবং সমাজকে সংবেদনশীল করে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১৪ সালে তিনি গড়ে তোলেন কবিতা পাঠ্যচক্র। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জেলায় কবিতা আড্ডার আয়োজন করে চলেছেন। নতুন কবিদের সামনে নিয়ে আসা এবং তাদের উৎসাহ দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কবি মনোতোষ আচার্য বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে কবিতা সাহিত্যে আগ্রহী করতে হবে। তাদের মধ্যে সৃষ্টিশীলতার বীজ বপন করতে হবে। তবেই বাংলা কবিতা আরও সমৃদ্ধ হবে।’ তাঁর এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে।





