এদিনও বিকেলে বিশেষ টিকিট পরীক্ষকদের (টিটিই) একটি দল কাজীপাড়া স্টেশনে আচমকা পৌঁছয়। আর তাতেই মুহূর্তে বদলে যায় গোটা স্টেশন চত্তরের দৃশ্যপট। চেকিং শুরুর আগে যে টিকিট কাউন্টার ছিল প্রায় ফাঁকাই, টিটি-দের উপস্থিতি টের পেতেই মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা টিকিট কাটার জন্য কাউন্টারের ভিড় জমাতে শুরু করেন। জরিমানার আশঙ্কায় তখন যাত্রীরা টিকিটের লাইনে দাঁড়ান। শুধু তাই নয়, ভিড় এতটাই বাড়ে যে লাইনের শেষ প্রান্ত স্টেশন চত্বর পেরিয়ে রাস্তায় গিয়ে পৌঁছয়।
advertisement
রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৈধ টিকিট ছাড়া প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ বা ট্রেনে যাত্রা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এদিন শুধুমাত্র জরিমানা নয়, যাত্রীদের সচেতন করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়। হ্যান্ড মাইক নিয়ে স্টেশন চত্বরে ঘুরে ঘুরে টিকিট পরীক্ষকদের ঘোষণা করতে দেখা যায়। পাশাপাশি স্টেশনে থুতু ফেলা বা আবর্জনা ছড়ালেও জরিমানার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ডিজিটাল টিকিট ব্যবস্থাকেও জোরদার করতে যাত্রীদের ‘Railway One’ অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। রেলের দাবি, বাড়িতে বসেই লোকাল, মান্থলি বা রিজার্ভেশন টিকিট কাটা সম্ভব এই অ্যাপের মাধ্যমে। অনেক যাত্রীকে হাতে-কলমে অ্যাপ ব্যবহার শেখাতেও দেখা যায় রেলকর্মীদের।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এদিন সাধারণ যাত্রীদের একাংশ রেলের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, হাসনাবাদ শাখায় নিয়মিত এমন অভিযান চালানো হলে বিনা টিকিটে যাতায়াত অনেকটাই কমবে। ভুল করে ভেন্ডার বা নির্দিষ্ট কামরায় ওঠা কয়েকজন যাত্রীকেও জরিমানা করা হয়। রেল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিয়ম ভাঙলে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। শিয়ালদহ–হাসনাবাদ শাখার পাশাপাশি বনগাঁ, বিরা ও বারাসাত স্টেশনেও এদিন বিশেষ অভিযান চালানো হয়। শিয়ালদহ মেন লাইনেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রেল প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান জারি থাকবে। তাই যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশের আগেই টিকিট কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে রেল যাত্রীদের টিকিট কাটার আবেদন জানানো হচ্ছে।






