রথযাত্রার নবম দিনে উৎসব পৌঁছয় চূড়ান্ত পর্যায়ে। উল্টো রথ উপলক্ষে মাশুড়িয়া ও আশপাশের গ্রাম থেকে হাজার হাজার ভক্ত সমাগম করেন। এই দিনটিকেই মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ধরা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা জগন্নাথ দেবের দর্শন করেন। পাশাপাশি তাঁরা অন্নপ্রসাদ গ্রহণ করেন। নবম দিনে রথযাত্রা আয়োজন করা হয় অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণভাবে। সকাল থেকেই ভক্তদের ঢল নামে মেলা প্রাঙ্গণে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উদ্যোক্তারা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এই দিনে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসব আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠিত হয় মহাধর্ম সম্মেলন, হয় কৃষ্ণনাম ও হরিনাম সংকীর্তন। গীতাপাঠ এবং ভক্ত সমাবেশে মুখরিত থাকে পুরো এলাকা।
advertisement
আরও পড়ুনঃ ভুলেও কাদের একটুও পেঁয়াজ খাওয়া উচিত নয়? এঁরা পেঁয়াজ থেকে যত দূরে থাকবে, ততই ভাল
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বহু মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আয়োজক কমিটির সভাপতি প্রণব মাইতি বলেন, এই মেলা ও রথযাত্রা তাঁদের গ্রামের গর্ব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই শহিদ স্মৃতি যুব সংঘ প্রতিবছর এই উৎসবের আয়োজন করে। এলাকার মানুষকে আনন্দ দেওয়াই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি। এই রথযাত্রার ইতিহাস প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো। মাশুড়িয়া সহ আশপাশের গ্রামের মানুষের কাছে এটি একটি আবেগের উৎসব। তবে এই মেলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক রক্তাক্ত ইতিহাস।
ব্রিটিশ আমলে গোলাগুলিতে এই এলাকায় শহীদ হয়েছিলেন চারজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁদের স্মৃতিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের উদ্যোগে এখানে শহীদ বেদি নির্মাণ করা হয়। সেই বছর থেকেই জগন্নাথ দেবের রথ এখানে এসে পৌঁছায়। তাই প্রতিবছর রথযাত্রার সময় ফিরে আসে সেই শহিদদের রক্তাক্ত স্মৃতি। মাঘী পূর্ণিমা থেকে রথ শুরু হলেও মূলত নবম দিনেই দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়।





